জানাজার নামাজের নিয়ত, নিয়ম ও দোয়া

জানাজার নামাজের নিয়ত, নিয়ম ও দোয়া
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত
  • Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

জানাজার নামাজের নিয়ত- আমাদের প্রত্যেকটি কাজই নিয়তের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিয়ত অনুযায়ীই মানুষ তার কাজের ফল পায়। হজরত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন- “প্রত্যেক কাজ নিয়তের সঙ্গে সম্পর্কিত, আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল লাভ করবে।” (সহিহ বুখারি: ১) নিয়ত হলো মনে কোনো কাজ করার দৃঢ় ইচ্ছা থাকা। এই ইচ্ছা সব ইবাদতের জন্য জরুরি, নামাজের ক্ষেত্রেও। কেউ যখন নামাজে দাঁড়ায়, তার অন্তরে জানা ও ইচ্ছা থাকতে হবে যে সে কোন নামাজ আদায় করছে, কত রাকাত নামাজ পড়বে ইত্যাদি। অন্তরের এই দৃঢ় সংকল্পই নিয়ত।

মুখে নিয়ত করা জরুরি কি না:
নামাজের জন্য নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক নয়। অন্তরের নিয়তই যথেষ্ট। তবে কেউ চাইলে মুখেও উচ্চারণ করতে পারে, এতে নামাজ নাজায়েজ বা বিদআত হবে না।

জানাজার নামাজ শুরু করার নিয়ত:
জানাজার নামাজ শুরু করার আগে মনে মনে বা মুখে বলতে পারেন-
"আমি সামনে উপস্থিত মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ এই ইমামের ইমামতিতে আদায় করছি।"
এরপর আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করবেন।

মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানা জরুরি কি:
জানাজার নামাজের জন্য মৃত ব্যক্তি পুরুষ নাকি নারী, শিশু নাকি বয়স্ক- এটি জানা বা মনে রাখা জরুরি নয়। তবে শিশু ও বয়স্কদের দোয়া আলাদা হওয়ায়, নামাজ শুরুর আগে মুসল্লিদের তা জানিয়ে দেওয়া উত্তম।

 

জানাজার নামাজের ফরজ ও সুন্নত

ফরজ:
১. চারটি তাকবির বলা।
২. দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা। (ওজর ছাড়া বসে পড়া জায়েজ নয়)

সুন্নত:
১. প্রথম তাকবিরের পর সানা পড়া
২. দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ পড়া
৩. তৃতীয় তাকবিরের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া পড়া

চতুর্থ তাকবিরের পর সালাম ফেরানো নামাজ শেষের নির্দেশ। এ সময় কোনো দোয়া বা দরুদ পড়া হয় না। 

 

জানাজার নামাজের নিয়ম ও দোয়া

প্রথম তাকবির:
ইমামের সঙ্গে আল্লাহু আকবার বলে কান পর্যন্ত দুই হাত ওঠান, এরপর নাভির ওপর হাত বাঁধুন। তারপর সানা পড়বেন:

سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَ بِحَمْدِكَ وَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَ تَعَالِىْ جَدُّكَ وَ لَا اِلَهَ غَيْرُكَ
উচ্চারণ: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার প্রশংসিত পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনার নাম বরকতময়, মর্যাদা উচু এবং আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।

 

দ্বিতীয় তাকবির:
হাত না তুলে দ্বিতীয় তাকবির বলুন। পরে দরুদ পড়বেন:

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম-মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা বারাকতা আলা ইবরাহিম ওয়া আলা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম-মাজিদ।
অর্থ: হে আল্লাহ! নবী মুহাম্মাদ ও তার পরিবারে রহমত বর্ষণ করুন, যেমন বর্ষণ করেছেন ইবরাহিম ও তার পরিবারে।

 

তৃতীয় তাকবির:
হাত না তুলে তৃতীয় তাকবির বলুন।
প্রাপ্তবয়স্ক মৃতের জন্য দোয়া:

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِ نَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَاُنْثَنَا اَللّٰهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَاَحْيِهِ عَلٰى الْاِسْلاَمِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلٰى الْاِيْمَانِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা-গফিরলি হায়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা ওয়া সাগীরিনা ওয়া কাবীরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনছানা। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াহতাহু মিন্না ফাআহয়িহী আলাল ইসলামি ওয়া মান তাওয়াফ ফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহ আলাল ইমান।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট-বড়, পুরুষ ও নারী সকলকে ক্ষমা করুন। যাদের জীবিত রেখেছেন, তাদের ইসলামের ওপর জীবিত রাখুন; যাদের মৃত্যুদান করেছেন, তাদের ইমানের সঙ্গেই মৃত্যুদান করুন।

অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর জন্য:

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرْطًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا اَجْرًا وَّذُخْرًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَّمُشَفَّعًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা-জআলহু লানা ফারতাও ওয়া-জআলহু লানা আজরাও ওয়া যুখরাও ওয়া-জআলহু লানা শাফিয়াও ওয়া মুশাফ্ফাআন।
অর্থ: হে আল্লাহ! তাকে আমাদের জন্য অগ্রবর্তী বানান, আমাদের জন্য সওয়াব ও সঞ্চয়ের উপকরণ বানান, এবং সুপারিশকারী বানান।

 

চতুর্থ তাকবির ও সালাম:
হাত না তুলে চতুর্থ তাকবির বলুন। এরপর ইমামের সঙ্গে সালাম ফেরিয়ে জানাজার নামাজ শেষ করুন।

হাত ছাড়ার বিষয়:
জানাজার শেষে হাত ছাড়ার বিষয়ে দুটি গ্রহণযোগ্য মত রয়েছে-
১. চতুর্থ তাকবিরের পর হাত ছেড়ে দেওয়া।
২. দুই পাশে সালাম ফেরানোর পর হাত ছেড়ে দেওয়া। উভয়ই শুদ্ধ।


সম্পর্কিত নিউজ