{{ news.section.title }}
৮টি জান্নাতের নাম
- Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
জান্নাত নেককার বান্দাদের চিরস্থায়ী ভোগ-বিলাসের স্থান। যেখানে মৃত্যু নেই, রোগ-বালাই নেই, বার্ধক্য নেই। সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হওয়ার স্থান জান্নাত। ইসলামি পরিভাষায়, আখেরাতে ঈমানদার ও নেককার বান্দাদের জন্য যে আবাস্থল তৈরি করে রাখা হয়েছে, তাকে জান্নাত বলা হয়।
জান্নাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে রাসুল (স.) বলেন, ‘মহান আল্লাহ বলেছেন, আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন জিনিস তৈরি করে রেখেছি, যা কোনো চক্ষু দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং যার সম্পর্কে কোনো মানুষের মনে ধারণাও জন্মেনি। তোমরা চাইলে এ আয়াতটি পাঠ করতে পারো, কেউ জানে না, তাদের জন্য তাদের চোখ শীতলকারী কী জিনিস লুকানো আছে।’ (সুরা সাজদাহ: ১৩; বুখারি: ৩২৪৪)
পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে মহান আল্লাহ জান্নাতের বিভিন্ন নাম উল্লেখ করেছেন। তবে জান্নাত মূলত একটি। গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যের বিবেচনায় এর নাম একাধিক। আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, গুণাবলির বিবেচনায় জান্নাতের নাম একাধিক, কিন্তু জান্নাত একাধিক নয় একটিই। সুতরাং নামের দিক থেকে অর্থ অভিন্ন হলেও গুণাবলির বিবেচনায় প্রতিটি নামের তাৎপর্য ভিন্ন। (হাদিউল আরওয়াহ: পৃষ্ঠা ১১১)
গুণ ও বৈশিষ্ট্যের বিবেচনায় জান্নাতের যে আটটি নাম কোরআনে পাওয়া যায়, সেগুলো হলো।
১. জান্নাতুল ফিরদাউস
এটি আরশের নিকটবর্তী সর্বোচ্চ জান্নাত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে, তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস।’ (সুরা কাহাফ: ১০৭)
২. জান্নাতুন নাঈম
এটি সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য ও নেয়ামতে পরিপূর্ণ উদ্যান। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় মুত্তাকিদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত।’ (সুরা কলম: ৩৪)
৩. জান্নাতুল মাওয়া
এটি প্রকৃত আশ্রয়স্থল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা ঈমান আনবে ও নেক আমল করবে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতুল মাওয়া।’ (সুরা সাজদাহ: ১৯)
৪. জান্নাতুল আদন
স্থায়ী ও চিরকালীন জান্নাত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জান্নাতুল আদন, তারা তাতে প্রবেশ করবে, যার তলদেশে ঝরনাসমূহ প্রবাহিত।’ (সুরা নাহল: ৩১)
৫. দারুস সালাম
শান্তির আবাস। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের রবের কাছে তাদের জন্য রয়েছে শান্তির আবাস।’ (সুরা আনআম: ১২৭)
আরও বলেন, ‘আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন।’ (সুরা ইউনুস: ২৫)
৬. দারুল খুলদ
স্থায়ী শান্তির আবাস। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তাতে শান্তির সঙ্গে প্রবেশ করো। এটাই স্থায়িত্বের দিন।’ (সুরা কাফ: ৩৪)
৭. দারুল মাকাম
স্থায়ী নিবাস। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী নিবাসে স্থান দিয়েছেন, যেখানে কোনো কষ্ট ও ক্লান্তি আমাদেরকে স্পর্শ করে না।’ (সুরা ফাতির: ৩৫)
৮. দারুল কারার
যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আখেরাতই হলো স্থায়ী আবাস।’ (সুরা গাফির: ৩৯)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে প্রকৃত ঈমানদার হওয়ার তাওফিক দান করুন। যেসব আমলে তিনি সন্তুষ্ট হন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস লাভ করা যায়, সেসব আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।