জেনে নিন নামাজ পড়ার সংক্ষিপ্ত নিয়ম

জেনে নিন নামাজ পড়ার সংক্ষিপ্ত নিয়ম
ছবির ক্যাপশান, নামাজের দৃশ্য, ছবি: সংগৃহীত
  • Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

উপমহাদেশে মুসলমানদের মধ্যে অধিকাংশ হানাফি মাজহাব অনুসরণ করেন। তাই হানাফি মাজহাব অনুযায়ী নামাজের সংক্ষিপ্ত নিয়ম নিচে দেওয়া হল।

প্রথমে অজুসহকারে দাঁড়িয়ে নামাজের নিয়ত করুন। তারপর উভয় হাত কান পর্যন্ত তুলে তাকবিরে তাহরিমা বলুন। এরপর বাঁ হাতের ওপর ডান হাত রেখে নাভির নিচে স্থাপন করুন।

এরপর অনুচ্চৈঃস্বরে বলুন: ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবি হামদিকা ওয়া তাবারা কাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।’ অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা তোমারই পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি, তোমার নামই বরকতপূর্ণ এবং তোমার গৌরবই সর্বোচ্চ, তুমি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই।

এরপর অনুচ্চৈঃস্বরে আউজুবিল্লাহ পড়ুন: ‘আউজু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম’, এবং বিসমিল্লাহ পড়ুন: ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’।

এবার সুরা ফাতিহা পড়ুন। শেষ হলে অনুচ্চৈঃস্বরে আমিন বলুন। হানাফি মতে, আমিন আস্তে বলা উত্তম। তবে জোরে বলার বিষয়েও ইমামদের মধ্যে মতানৈক্য আছে।

সুরা ফাতিহা শেষে একটি সুরা অথবা তিনটি ছোট আয়াত পড়ুন, যা কমপক্ষে লম্বা একটি আয়াতের সমতুল্য। এই পরিমাণ তিলাওয়াত নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য আবশ্যক।

এরপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে রুকুতে যান। রুকুতে মাথা নিতম্বের সমান্তরাল রাখুন। আঙুলগুলো ছড়িয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরুন। কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ পড়ুন।

রুকু থেকে উঠে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলুন। মুক্তাদি হলে অনুচ্চৈঃস্বরে শুধু বলুন: ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’। এরপর তাকবির বলে সিজদায় যান। সিজদায় হাঁটু, হাত এবং কপাল মাটিতে রাখুন। পেট এবং বাহু আলাদা রাখুন। হাত ও পায়ের আঙুল কিবলামুখী করুন। সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পড়ুন।

সিজদা থেকে উঠে প্রথমে মাথা উঁচু করে উভয় হাত রানের ওপর রাখুন এবং স্থিরভাবে বসুন। এরপর তাকবির বলে দ্বিতীয় সিজদা করুন। দ্বিতীয় সিজদাতেও কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়ুন। এর পর সরাসরি তাকবির বলে দাঁড়িয়ে নামাজের প্রথম রাকাত শেষ করুন।

দ্বিতীয় রাকাতে হাত উঠাবেন না, ছানাও পড়বেন না, আউজুবিল্লাহও পড়বেন না। সুরা ফাতিহা ও সঙ্গে একটি সুরা পড়বেন এবং রুকু-সিজদা করবেন। দ্বিতীয় সিজদা শেষে ডান পা খাড়া করে বাঁ পা বিছিয়ে বসুন। হাত থাকবে রানের ওপর, ডান পায়ের আঙুল কিবলামুখী।

এরপর নিম্নের তাশাহহুদ পড়বেন:

‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তায়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা, আইয়্যু হান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আস সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ।’

তাশাহহুদ পড়ার সময় ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা’ বলার সময় আঙুল উঁচু করবেন এবং ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় নামিয়ে আনবেন।

যদি নামাজ দুই রাকাতবিশিষ্ট হয়, যেমন ফজর, তাহলে তাশাহহুদ শেষে দরুদ শরিফ পাঠ করবেন:

‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মদ, ওয়ালা আলি মুহাম্মদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মদ, ওয়ালা আলি মুহাম্মদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।’

এরপর কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত যেকোনো দোয়া পাঠ করুন। যেমন দোয়ায়ে মাসুরা:

‘আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমান কাসিরাও ওলা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলি মাগফিরাতাম-মিন ইনদিকা, ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম।’

অথবা: ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আজাবান-নার।’

এরপর ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলতে বলতে ডানে ও বাঁয়ে মাথা ফেরাবেন। সালাম ফেরানোর সময় পাশের নামাজি ও ফেরেশতাদের কথাও স্মরণ করুন।

যদি নামাজ তিন রাকাতবিশিষ্ট হয়, যেমন মাগরিব, তাহলে প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ শেষে আর কিছু পড়বেন না। বরং ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সোজা দাঁড়িয়ে যাবেন।

নামাজ চার রাকাতবিশিষ্ট হলে, যেমন জোহর, আসর ও এশা, চতুর্থ রাকাতেও শুধু সুরা ফাতিহা পড়বেন। প্রথম দুই রাকাতের মতো রুকু-সিজদা করে শেষ বৈঠকে বসবেন। সেখানে তাশাহহুদের পর দরুদ এবং দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে উভয় দিকে সালাম ফেরাবেন।


সম্পর্কিত নিউজ