{{ news.section.title }}
৩ দিন রোজা রেখে সারা মাসের সওয়াব: জানুন কবে আইয়ামে বীজের রোজা!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
পবিত্র রমজান মাসের প্রশিক্ষিত জীবনকে বছরজুড়ে ধরে রাখতে ইসলামের অন্যতম সেরা একটি আমল হলো আইয়ামে বীজ-এর রোজা। প্রতিটি হিজরি মাসের মাঝামাঝি সময়ে পালিত এই নফল রোজা শুধু আধ্যাত্মিক প্রশান্তিই দেয় না, বরং নবীজি ﷺ-এর এক বিশেষ নির্দেশনার বাস্তবায়নও বটে। হিজরি ১৪৪৭ সনের শা'বান মাসের চাঁদের হিসাব অনুযায়ী, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে আইয়ামে বীজের তিনটি রোজা পালিত হবে।বাংলাদেশের হিসেব অনুযায়ী তারিখগুলো হলো:
☞ প্রথম রোজা (১৩ শা'বান): ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার।
☞ দ্বিতীয় রোজা (১৪ শা'বান): ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার।
☞ তৃতীয় রোজা (১৫ শা'বান): ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধবার।
যারা এই রোজা পালনের নিয়ত করেছেন, তাদের রোববার দিবাগত রাতে সাহরি খেয়ে সোমবার থেকে রোজা শুরু করতে হবে।
‘আইয়ামে বীজ’ কেন বলা হয়?
আরবি ‘আইয়াম’ শব্দের অর্থ দিনসমূহ এবং ‘বীজ’ শব্দের অর্থ শুভ্র বা সাদা। চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রাতগুলো চাঁদের আলোয় সবচেয়ে বেশি শ্বেত-শুভ্র বা উজ্জ্বল থাকে বলে এই দিবসগুলোকে আইয়ামে বীজ বলা হয়।
ফজিলত:
আইয়ামে বীজের ফজিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নির্দেশনা অত্যন্ত চমৎকার। হাদিস অনুযায়ী, কেউ যদি প্রতি মাসে এই ৩টি রোজা রাখে, তবে সে পুরো মাস রোজা রাখার সওয়াব পাবে। কারণ, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। অর্থাৎ, ৩ দিন রোজা রাখা ৩০ দিন রোজা রাখার সমান (৩ × ১০ = ৩০)। নিয়মিত এই আমল করলে সারা জীবন রোজা রাখার সওয়াব অর্জন করা সম্ভব।সুবহান-আল্লাহ।
চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে হিজরি তারিখ নির্ধারিত হয় বলে অনেক সময় কাগজে ছাপা ক্যালেন্ডারে ভুল হতে পারে। সঠিক সময়ের আপডেট পেতে এবং আইয়ামে বীজের রিমাইন্ডার পেতে বিভিন্ন আধুনিক ডিজিটাল টুলস বা এপ্স ব্যবহার করা যেতে পারে, যা চাঁদ দেখার খবর এবং ইফতার-সাহরির সঠিক সময় নোটিফিকেশন দিয়ে জানিয়ে দেয়। তাছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতি মাসে তাদের ওয়েবসাইটে চাঁদ দেখা যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে থাকে।
বিধান ও গুরুত্ব:
আইয়ামে বীজের রোজা রাখা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক বা ফরজ নয়। শরীয়তের পরিভাষায় এটি একটি নফল ইবাদত। অর্থাৎ, এই রোজা রাখলে মহান আল্লাহ তা'আলা বিপুল সওয়াব দান করবেন, তবে কোনো কারণে রাখতে না পারলে কোনো গুনাহ বা অপরাধ হবে না।
এই নফল রোজা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
ওলামায়ে কেরামদের মতে, মানুষের পক্ষে ফরজ ইবাদতগুলো নিখুঁতভাবে পালন করা প্রায় সময় সম্ভব হয়না। অনিচ্ছাকৃত ভুল বা ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে যেতে পারে। কিয়ামতের দিন হিসাবের সময় যদি কোনো ফরজে ঘাটতি দেখা দেয়, তবে দয়াময় আল্লাহ তায়ালা বান্দার নফল আমলগুলো দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করে দিতে পারেন। এই কারণেই বছরের বিভিন্ন সময়ে ছড়ানো নফল রোজাগুলোর গুরুত্ব অনেক।
নিয়ত:
অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে যে, নফল রোজার জন্য কি বিশেষ কোনো দোয়া বা নিয়ত মুখে পড়তে হবে কি না!
আলেমদের উত্তর হলো, না। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নিয়ত মূলত মনের সংকল্প বা ইচ্ছা। তাই মুখে আরবি বা বাংলায় কোনো নির্দিষ্ট বাক্য উচ্চারণ করাটা জরুরি কিছু নয়। শেষ রাতে সাহরি খাওয়ার মানসিকতাই রোজার নিয়ত হিসেবে গণ্য হয়।
কেন রাখবেন এই নফল রোজা?
কারণ এটি-
১. এটি রাসূল ﷺ-এর নিয়মিত সুন্নতি আমল ছিল।
২. রমজানের রোজার শিক্ষা সারা বছর ধরে রাখার এটি একটি বাস্তব প্র্যাকটিস।
৩. কিয়ামতের দিন ফরজ ইবাদতের কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে নফল আমল দিয়ে তা পূরণ করা হবে।
অল্প পরিশ্রমে এত বিশাল সওয়াব লাভের সুযোগ সচেতন মুমিনদের হারানো উচিত নয়। সুস্থ ও সক্ষম থাকলে এই ৩টি দিন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা হতে পারে আমাদের ইহকাল ও পরকালের জন্য পরম পাওয়া। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন, আমাদের জন্য সহজ-সুন্দর করুন। আমিন।