সহিহ হাদিসে তারাবি নামাজের প্রমাণ

সহিহ হাদিসে তারাবি নামাজের প্রমাণ
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ইসলাম ৫টি প্রধান স্তম্ভ নিয়ে গঠিত। ইসলামের এই ৫টি স্তম্ভ (পিলার) হলো ঈমান বা কালিমার সাক্ষ্য, সালাত (নামাজ), যাকাত, সাওম (রোজা) এবং হজ - যার মধ্যে সাওম বা রোজা মুসলমানদের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

রমজান হচ্ছে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসে দিনের রোজার পাশাপাশি রাতের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে তারাবির নামাজ আদায় করা হয়। যুগে যুগে মুসলিম উম্মাহ অত্যন্ত আগ্রহ ও গুরুত্বের সঙ্গে এই নামাজ পালন করে আসছে। তারাবির নামাজের ফজিলত, এর সূচনা, রাকাতের সংখ্যা এবং এ বিষয়ে ফকিহ ও মুহাদ্দিসদের মতামত নিয়ে ইসলামী চিন্তাবিদদের মধ্যে নানা আলোচনা ও ব্যাখ্যা রয়েছে।

তারাবিহ শব্দের অর্থ

তারাবিহ শব্দটি বহুবচন, এর একবচন হলো তারবিহাহ; যার আভিধানিক অর্থ হলো বিশ্রাম ও প্রশান্তি। ‘রমজান মাসে এশার নামাজের পর যে সুন্নত নামাজ কায়েম করা হয়, তা হলো তারাবির নামাজ।’ (কামুসুল ফিকাহ)।

তারাবিহ নামাজ ২০ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদাহ। পুরুষদের জন্য জামাতে আদায় করা সুন্নত হিসেবে বিবেচিত। এ নামাজে কোরআন শরিফ খতম করা সুন্নত হিসেবে গণ্য করা হয়। নারীদের জন্যও তারাবিহ নামাজ ২০ রাকাত সুন্নত। এ নামাজের সময় এশার নামাজের পর থেকে ফজরের নামাজের আগ পর্যন্ত।


তারাবি নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা
রমজানের রোজা আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত ফরজ ইবাদত, যা প্রত্যেক সক্ষম মুসলমানের ওপর অবশ্য পালনীয়। আর তারাবি নামাজ আল্লাহর রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রবর্তন করেছেন। তিনি সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-কে নিয়মিতভাবে এ নামাজ আদায়ের জন্য উৎসাহ দিয়েছেন এবং এর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন: ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করেছে, আর আমি তোমাদের জন্য তারাবির নামাজকে সুন্নত করেছি; অতএব যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানে দিনে রোজা পালন করবে ও রাতে তারাবিহর নামাজ আদায় করবে, সে গুনাহ থেকে এমন পবিত্র হবে যেমন নবজাতক মাতৃগর্ভ থেকে (নিষ্পাপ অবস্থায়) ভূমিষ্ঠ হয়। (নাসায়ি শরিফ, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৩৯)।


তারাবি আদায়ে গুনাহ ক্ষমা করা হয়
রমজান মুসলমানের ইবাদতের বসন্তকাল। কেননা অল্প ইবাদতে অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। মানুষকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে পরিশুদ্ধ করার জন্যই আগমন করে রমজান।আর মানুষের পাপ মোচনের অন্যতম মাধ্যম হল তারাবির নামাজ। হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

যরত আবু হুরাইরা রা. বলেন রসুল সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযানের রাতে ইবাদত করবে তার অতীতের গোনাহ-খাতা মাফ করে দেওয়া হবে।’(সহিহ বুখারি:৩৭)


তারাবির নামাজ: গুরুত্ব, ফজিলত ও সূচনার ইতিহাস

সর্বপ্রথম যিনি এই নামাজ চালু করেছেন তিন হলেন রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বিষয়টি একাধিক হাদিসে বিবৃত হয়েছে।


১।  আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের কিয়াম তথা রাতের বেলা ইবাদত-বন্দেগীর উৎসাহ দিতেন। কিন্তু দৃঢ়তার সাথে নির্দেশ দিতেন না। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রমজানের রাতে ইবাদত করবে তার অতীতের গোনাহ-খাতা মাফ করে দেওয়া হবে। (মুসলিম : ৭৫৯)

২। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রমজানের এক রাতে রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে গিয়ে নামাজে দাঁড়িয়েছেন। কিছুসংখ্যক সাহাবি তাঁর পিছনে ইক্তিদা করেছেন। দ্বিতীয় রাতেও তিনি নামাজ পড়েছেন। এ রাতে প্রচুর মুসল্লি হয়েছে। এরপর তৃতীয় বা (রাবি বলেছেন) চতুর্থ রাতে সাহাবায়ে কেরাম মসজিদে জড়ো হয়েছেন; কিন্তু ওই রাতে তিনি কামরা থেকে বের হননি।

সকাল হলে তিনি সাহাবিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমরা যে এসেছো তা আমি দেখেছি। তবে, আমি তোমাদের কাছে আসিনি এ আশঙ্কায় যে, না জানি এই নামাজ তোমাদের উপর ফরজ করে দেওয়া হয়। (মুসলিম : ৭৬১)

৩। আবু হুরায়রা (রা.) একদা রাসুলের কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কামরা থেকে বের হয়ে মসজিদে আসলেন। তিনি দেখলেন,  কিছু লোক মসজিদের এককোণে নামাজ পড়ছে। জিজ্ঞেস করলেন, এরা কী করছে? বলা হলো, তারা নিজেরা কুরআনের হাফেয নয়, তাই উবাই ইবনে কা‘বের পিছনে নামাজ পড়ছে। তখন নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা ঠিক করেছে। কাজটা খুব ভালো হয়েছে।

 


তারাবি নামাজ বিষয়ে সহিহ হাদিস থেকে নির্বাচিত দলিল উপস্থাপন
১ নং দলিল : ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম (রহ.) এর উস্তাদ ইমাম আবু বকর ইবনে শায়বা (রহ.) বর্ণনা করেন,  হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবি এবং বিতর পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ২/ ৩৯৪, হাদিস নং ৭৬৯০; সুনানে কুবরা ২/৪৯৮; মুজামে কাবির ১১/৩৯৬; আল-মুনতাখাব হাদিস নং ৬৫৩; মুজামে আওসাত ১/৪৪৪, হাদিস নং ৮০৭।)


২ নং দলিল : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা আমার সুন্নতকে এবং সৎপথ প্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নতকে মজবুত ভাবে আঁকড়ে ধর। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৬০৭; সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং ২৬৭৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ১৬৬৯২; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪২; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৫; মেশকাত ১/২৯)
সহিহ সনদে প্রামাণিত যে, খুলাফায়ে রাশেদীন বিশ রাকাত তারাবি পড়তেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রাহ.) বলেন- বিশ রাকাত তারাবি খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নতের দ্বারা প্রমাণিত। (মাজামুউল ফাতাওয়া ২৩/১১৩)


৩ নং দলিল : রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের নিয়ে মাত্র তিন দিন জামাতের সাথে তারাবি আদায় করার পর ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জামাতের সাথে তারাবি পড়া ছেড়ে দিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর বাকী জীবনে, আবু বকর (রা.) এর খিলাফতকালে এবং উমর (রা.) এর খিলাফতের প্রথম দিকে এ অবস্থাই বিদ্যমান ছিল। (সহিহ বুখারি ১/২৬৯, সহিহ মুসলিম ১/২৫৯; সুনানে আবু দাউদ ১/১৯৫)

রামজান মাসের কোন এক রাতে (১৪ হিজরীতে) হযরত উমর (রা.) মসজিদে নববিতে গেলেন এবং দেখতে পেলেন যে, মসজিদের বিভিন্নস্থানে ছোট ছোট জামাত হচ্ছে। তিনি ভাবলেন সকল নামাজিকে এক ইমামের পিছনে একত্র করে দেওয়া উচিত। তখন তিনি জামাতে তারাবি পড়ার নির্দেশ জারি করেন এবং হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.) কে ইমাম বানিয়ে দেন। আর তিনি সাহাবিদেরকে নিয়ে বিশ রাকাত তারাবি পড়াতে লাগলেন। (সহিহ বুখারি হাদিস নং ২০১০; সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং ১৩৭১; ইলাউস সুনান ৭/৬১)


৪ নং দলিল : ইমাম বায়হাকী (রহ.) বর্ণনা করেন, ‘বিখ্যাত সাহাবি সায়েব ইবনে ইয়াযিদ (রা.) বলেন, আমরা হযরত উমর রা. এর যুগে বিশ রাকাত তারাবি এবং বিতর পড়তাম।’

হাদিসটি সহিহ। সহিহ হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন বিখ্যাত মুহাদ্দিস, হাফেযুল হাদিস ইমাম নববি, ইমাম ওলিউদ্দীন ইরাকি, ইমাম তাকীউদ্দন সুবকি, ইমাম আইনি, ইমাম সুয়ূতি, ইমাম কাসতালানি, ইমাম যায়লায়ি প্রমুখ হাদিস বিশেষজ্ঞগণ। (উমদাতুল কারি শরহে সহিহ বুখারি ৭/১৭৮; ইরশাদুস সারি শরহে সহিহ বুখারি ৪/৫৭৮; মারেফাতুস সুনান ২/৩০৫; সুনানে কুবরা, বায়হাকী ১/২৬৭; আল-মাজমু শরহুল মুহাযযাব ৩/৫২৭; তুহফাতুল আখইয়ার ১০৮)


৫ নং দলিল : হযরত উসমান (রা.) এর খিলাফতকালে বিশ রাকাত তারাবি পড়া হত। হযরত ইয়াযিদ ইবনে খুসাইফা রহ. থেকে বর্ণিত, প্রখ্যাত সাহাবি সায়েব ইবনে ইয়াযীদ রা. বলেন, হযরত উমর রা. এর যুগে তারা (সাহাবায়ে কেরাম) বিশ রাকাত তারাবি পড়তেন এবং শতাধিক আয়াত বিশিষ্ট সূরা সমূহ পড়তেন। আর হযরত উসমান রা. এর যুগে দীর্ঘ দন্ডায়মান থাকার কারণে তারা লাঠিতে ভর দিতেন। হাদিসটি সহিহ। যেসকল হাদিস বিশেষজ্ঞগণ হাদিসটিকে সহিহ হিসেবে অভিহিত করেছেন তারা হলেন- হাফেজুল হাদিস ইমাম নিমাভি, ইমাম নববি, ইমাম সুবকি, ইমাম যায়লায়ি, প্রমূখ মুহাদ্দিসগণ। (সুনানে কুবরা, বায়হাকি ২/৪৯৬; আসারুস সুনান ২/৪৭৩, হাদিস নং ৭৭৭; আত-তালীকুল হাসান ২/৫৪; নাসবুর রায়াহ ২/১৫১; ইলাউস সুনান ৭/৬৯) উল্লিখিত হাদিসটি স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে যে, তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান রা. এর খিলাফতকালেও বিশ রাকাত তারাবি পড়া হত।

৬ নং দলিল: হযরত আলী (রা.) তার খেলাফতকালে বিশ রাকাত তারাবি পড়ার আদেশ দিয়েছেন। প্রখ্যাত তাবেয়ি আবু আব্দুর রহমান বলেন, ‘হযরত আলী (রা.) রমজান মাসে বিজ্ঞ কারীদেরকে ডাকলেন এবং তাদের একজনকে আদেশ দিলেন, যেন তিনি লোকদেরকে নিয়ে বিশ রাকাত তারাবি পড়েন।’ হাদিসটি হাসান এবং সহিহ।

৭ নং দলিল : পবিত্র কুরআনে এসেছে, ‘যারা আনসার ও মুহাজির সাহাবিদের অনুসরণ করে আল্লাহতায়ালা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত’। (সুরা তাওবা, আয়াত- ১০০-১০১)
আর সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, আনসার ও মুহাজির সাহাবায়ে কেরাম বিশ রাকাত তারাবি পড়তেন। (সুনানে আবু দাউদ ১/২০২; মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ২৩/১১২-১১৩; ইলাউস সুনান ৭/৬১)

৮ নং দলিল : ‘সকল সাহাবি জান্নাতি, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। তাদের আমল ও আদর্শের অনুসরণে আখেরাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভ।’ (সুরা হাদীদ, আয়াত ১০; সূরা আম্বিয়া, আয়াত ১০২; সুনানে তিরমিযি, মেশকাত ২/৫৫৪; তাফসিরে মারেফুল কুরআন ১২৭৫ পৃ:)  

মসজিদে নববিতে ১৪ হিজরিতে হযরত উমর (রা.) এর নির্দেশে বিখ্যাত সাহাবি উবাই ইবনে কা’ব (রা.) সাহাবিদেরকে নিয়ে জামাতে বিশ রাকাত তারাবি পড়া আরম্ভ করেন। আর এর উপর সাহাবিদের ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়। (আত-তামহীদ ৮/১০৮-১০৯)

এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও হাফেযুল হাদিস ইবনে আব্দুল বার (রহ.) বলেন, ‘হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.) রমজান মাসে সাহাবিদেরকে নিয়ে বিশ রাকাত তারাবি এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। এতে কোন একজন সাহাবিও দ্বিমত পোষণ করেননি। (আল-ইস্তিযকার ৫/১৫৭; মাজমুউল ফাতাওয়া ২৩/১১২-১১৩; সুনানে তিরমিযী ১/১৬৬)

৯ নং দলিল : ‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ইবনে আবী মুলাইকা আমাদের কে নিয়ে রমজান মাসে বিশ রাকাত তারাবি পড়তেন।’ হাদিসটি সহিহ। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ২/৩৯৩; আসারুস সুনান ২/২৫৩, হাদিস নং ৭৮৪; আওজাযুল মাসালেক ২/৩০৫)

১০ নং দলিল : হাফেজুল হাদিস ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) সহিহ সনদে বর্ণনা করেন যে, রমজানের প্রথম রাত যখন আগমন করত তখন ইমাম বুখারি র. এর নিকটে তার ছাত্র ও ভক্তবৃন্দরা একত্রিত হত। তিনি তাদেরকে নিয়ে তারাবির নামাজ আদায় করতেন। প্রতি রাকাতে বিশ আয়াত করে তেলাওয়াত করতেন। আর এভাবেই তিনি তারাবিতে কুরআন খতম করতেন। (মুকদ্দমায়ে ফাতহুল বারী শরহে সহিহ বুখারি ৫৬৫ পৃ: ১৫ নং লাইন)
তারাবির ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের আমল ও আদর্শ ৮ রাকাত নয়, বিশ রাকাত। সুতরাং আখেরাতে যারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে চায় তাদের উচিত হল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের আমল ও আদর্শের অনুসরণে ও অনুকরণে বিশ রাকাত তারাবি আদায় করা এবং নাজাত প্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া।

 

তারাবিহ না পড়া গুনাহের কাজ

তারাবিহর নামাজ রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিআর বা প্রতীক। রাসূল ﷺ, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িগণের হাদিস ও আছার দ্বারা তারাবিহ নামাজের গুরুত্ব প্রমাণিত। তারাবীহ আদায় না করা মাকরূহে তাহরীমি, যা প্রায় কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

ফুকাহায়ে কেরামগণ বলেন:
“তারাবিহর নামাজ না পড়া মাকরূহে তাহরীমি, এবং কোনো শরয়ি ওজর ছাড়া জামাআত ছেড়ে দেওয়া অনুচিত।”
- (কিতাবুল মাবসুত, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৫)


সম্পর্কিত নিউজ