{{ news.section.title }}
তারাবিহতে নাবালক ইমাম শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
রমজান মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো তারাবিহ নামাজ। মুসলমানরা এই মাসে জামাতে তারাবিহ আদায় করে কোরআন তিলাওয়াত এবং ইবাদতে সময় ব্যয় করেন। বাংলাদেশসহ অনেক দেশে তারাবিহ নামাজে কোরআন খতম করার প্রচলন রয়েছে, তাই মসজিদ ও হেফজখানায় হাফেজরা ইমামতি করে থাকেন।
বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে -
নাবালক (অপ্রাপ্তবয়স্ক) শিশুর ইমামতিতে প্রাপ্তবয়স্কদের তারাবিহ নামাজ কি সহীহ হয়?
তারাবিহ নামাজের গুরুত্ব ও ইতিহাস
তারাবিহ নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রথম দিকে কয়েকদিন সাহাবিদের নিয়ে জামাতে তারাবিহ আদায় করেছিলেন। পরে তিনি নিয়মিত জামাত করেননি, কারণ তিনি আশঙ্কা করেছিলেন - এটি ফরজ হয়ে যেতে পারে।
পরবর্তীতে খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর যুগে সাহাবায়ে কিরামের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নিয়মিত জামাতে তারাবিহ চালু হয় এবং তা সুন্নাহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
হাদিসে এসেছে -
“যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে কিয়াম (তারাবিহ) করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”
(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
আরেক হাদিসে রাসুল ﷺ বলেন -
“আল্লাহ তোমাদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য কিয়ামে রমজান (তারাবিহ) চালু করেছি।”
(মুসনাদে আহমাদ)
নাবালক শিশুর ইমামতি: ফিকহি বিধান
ইসলামি ফিকহবিদদের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী -
অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর ইমামতিতে প্রাপ্তবয়স্কদের নামাজ সহীহ হয় না। এই বিধান ফরজ নামাজের পাশাপাশি নফল ও তারাবিহ নামাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
সালাফ ও আলেমদের বক্তব্য
হজরত আতা ও উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) বলেন -
لاَ يَؤُمُّ الْغُلاَمُ قَبْلَ أَنْ يَحْتَلِمَ فِي الْفَرِيضَةِ وَلاَ غَيْرِهَا
“নাবালক বালক ফরজ ও নফল কোনো নামাজেই ইমামতি করবে না।”
মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৩৫২৪
ফিকহের বহু গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে -
প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য নাবালকের পেছনে নামাজ আদায় করা জায়েজ নয়।
ফিকহবিদদের মতে -
- নাবালক হাফেজের পেছনে প্রাপ্তবয়স্কদের এক্তেদা করা জায়েজ নয়
- তবে নাবালক ছাত্ররা নিজেদের মধ্যে আলাদা জামাত করতে পারে
- প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষক ও ছাত্রদের আলাদা জামাতে তারাবিহ আদায় করতে হবে
নাবালক হাফেজদের দিয়ে তারাবিহ পড়ানো প্রশিক্ষণের জন্য ভালো উদ্যোগ হতে পারে, তবে ইবাদতের ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান মানাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর কিরাআত থাকলেও শরীয়তের শর্ত পূরণ না হলে নামাজ সহীহ হয় না। তাই আমাদের উচিত সঠিক ফিকহি বিধান জানা, শিশুদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং শরীয়তের সীমারেখা রক্ষা করা। তারাবিহ যেন আমরা শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী আদায় করি এবং নতুন প্রজন্মকে দ্বীনের সঠিক পথে গড়ে তুলি - এটাই আমাদের দায়িত্ব।