{{ news.section.title }}
বিশ্বজুড়ে রমজান: কোথায় কত ঘণ্টা রোজা
মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে পবিত্র মাস রমজান আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে চলতি বছর ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে সিয়াম সাধনা। প্রায় ১৪০০ বছর আগে এই মাসেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর ওপর পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াত নাজিল হয় - যার মাধ্যমে রমজান পায় অনন্য মর্যাদা।
রমজান ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। এ সময় ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেন রোজাদাররা। তবে রমজানের মূল শিক্ষা শুধু উপবাস নয়; বরং তাকওয়া অর্জন, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহভীতির চর্চা।
কেন প্রতি বছর এগিয়ে আসে রমজান?
ইসলামি হিজরি সন চন্দ্রভিত্তিক। চন্দ্র বছর সৌর বছরের তুলনায় প্রায় ১০–১১ দিন ছোট। ফলে প্রতি বছর রমজান প্রায় ১০ দিন করে এগিয়ে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের রমজান পড়ছে শীতের শেষভাগে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কারণে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে রোজার সময় তুলনামূলক কম হবে এবং আবহাওয়া থাকবে সহনীয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের ব্যবধান এবং ভৌগোলিক অবস্থানের তারতম্যই বিভিন্ন দেশে রোজার সময়ের পার্থক্য তৈরি করে। নিরক্ষরেখা থেকে যত দূরে কোনো দেশ, দিনের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য তত বেশি - যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সিয়ামের সময়সীমায়।
উত্তর বনাম দক্ষিণ গোলার্ধ
বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ উত্তর গোলার্ধে বসবাস করেন। এ অঞ্চলে এবার রোজার সময় গড়ে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যে থাকতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিন বড় হওয়ায় মাসের শেষ দিকে কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে রোজার সময় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। তবে মাসের শেষভাগে সেখানে সময় কিছুটা কমে আসবে।
সবচেয়ে দীর্ঘ ও স্বল্প সময়ের রোজা
আন্তর্জাতিক ইসলামি সময়সূচি নির্ধারণকারী প্ল্যাটফর্ম Islamic Finder–এর তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হবে নিউজিল্যান্ড–এর মুসলমানদের। প্রথম দিনের রোজা প্রায় ১৫ ঘণ্টা ২২ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।
দীর্ঘ সময়ের তালিকায় এরপর রয়েছে চিলি (প্রায় ১৫ ঘণ্টা ১৩ মিনিট), অস্ট্রেলিয়া (প্রায় ১৪ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট) এবং দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিপরীতে সবচেয়ে কম সময় রোজা পালিত হতে পারে ইউরোপ ও মেরু অঞ্চলের কিছু দেশে। এর মধ্যে ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ড–এ রোজার সময় তুলনামূলক কম থাকবে।
বাংলাদেশ ও আরব বিশ্বে সময়সূচি
আরব বিশ্বের দেশগুলোতে রোজার সময় গড়ে সাড়ে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যে থাকতে পারে। আর বাংলাদেশ–এ রোজার সময় হবে প্রায় পৌনে ১৩ ঘণ্টা থেকে সাড়ে ১৩ ঘণ্টা।
২০৩০–৩১ সালে বিশেষ পরিস্থিতি
চন্দ্রবর্ষের ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালে এক ক্যালেন্ডার বছরে দু’বার রমজান পড়বে - একবার জানুয়ারির শুরুতে এবং আরেকবার ডিসেম্বরের শেষদিকে। আর ২০৩১ সাল পর্যন্ত উত্তর গোলার্ধে রোজার সময় ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।
সময় ও ভূগোলের এই পার্থক্য থাকলেও বিশ্বজুড়ে রমজানের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। সহনীয় আবহাওয়া ও তুলনামূলক কম সময়ের রোজা এবারের সিয়াম সাধনাকে অনেকের কাছেই আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। তবে সময় যত দীর্ঘ বা স্বল্পই হোক, রমজানের আসল সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের গভীরতায়।