স্বাগত হে মাহে রমজান!হৃদয়ের মরিচা ধোয়ার এক শ্রেষ্ঠ সময়

স্বাগত হে মাহে রমজান!হৃদয়ের মরিচা ধোয়ার এক শ্রেষ্ঠ সময়
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Saddam Hossen

আকাশে বাঁকা চাঁদের মুচকি হাসি জানান দিল, দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। দীর্ঘ এক বছরের প্রতীক্ষা শেষে মুমিন হৃদয়ে শান্তির পরশ নিয়ে আবারও ফিরে এলো রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই মাসটি।

এটি শুধু উপবাসের মাস নয়, এটি মুমিন-মুসলিমদের জন্য ইবাদতের বসন্তকাল এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক শ্রেষ্ঠ সময়। এটি এক অনন্য কৃতজ্ঞতার মাস।
 

গত বছর যারা আমাদের সাথে এই রমজানে শামিল ছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই আজ কবরের বাসিন্দা। অথচ আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে দয়া করে আরও একটি রমজান মাস উপহার দিয়েছেন। তাই এই রমজান আমাদের জন্য কেবল একটি মাসই নয়, বরং জীবন পরিবর্তনের এক সুবর্ণ সুযোগ। সুস্থ শরীর আর সুন্দর মন নিয়ে প্রথম রোজার এই আনন্দময় মুহূর্তে প্রতিটি মু'মিন হৃদয়ে বাজছে আলহামদুলিল্লাহর ধ্বনি।


কেন রমজান এত দামী?
ইসলামি বর্ষপঞ্জির নবম এই মাসটি অন্য এগারোটি মাসের তুলনায় শ্রেষ্ঠ হওয়ার প্রধান কারণ হলো পবিত্র কুরআন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,
"রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর।" (সূরা বাকারা: ১৮৫)


শুধু কুরআন নয়, ইতিহাসের পাতায় ২রা রমজান হজরত ঈসা (আ.)-এর তাওরাত প্রাপ্তি এবং ১০ই রমজান উম্মুল মু'মিনীন হজরত খাদিজা (রা.)-এর প্রয়াণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও এই মাসকে মহিমান্বিত করেছে। ২০শে রমজান মক্কা বিজয়ের সেই ঐতিহাসিক বিজয়গাথা আজও মুসলিম উম্মাহর গর্বের প্রতিক।


প্রতিবারই রমজানের শুরুটা হয় একরাশ আনন্দ নিয়ে। ছোটবেলায় মাগরিবের আজানের পর বন্ধুদের সাথে আকাশের নীলিমায় সরু সুতোর মতো ‘হেলাল’ বা নতুন চাঁদ খোঁজার সেই স্মৃতি আজও আমাদের অনেককেই তাড়িত করে। চাঁদ দেখতে পাওয়ার পর সেই আনন্দ-চিৎকার আর চাঁদকে সালাম জানানোর সেই পবিত্র আবেগ আমাদের যেন মনে করিয়ে দেয়, ইসলাম মানেই তো আনন্দ, ইসলাম মানেই তো ভ্রাতৃত্ব।


রোজা, শারীরিক ও আত্মিক সুরক্ষা:
রমজান বা সাওম পালন কেবল ধর্মীয় ফরয নয়, এর উপকারিতাও অপরিসীম। দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকা আমাদের শরীরের বিষাক্ত পদার্থ  দূর করতে সাহায্য করে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বিশ্রাম দেয়। আর আত্মিকভাবে এটি আমাদের শেখায় ধৈর্য, সংযম আর এবং গরিব-দুঃখীর অনাহারের কষ্ট অনুভব করা।


হাজার মাসের চেয়েও সেরা রাত:
এই মাসের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতগুলোতে লুকিয়ে আছে ‘লাইলাতুল কদর’। কুরআন অনুযায়ী, এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের, প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাস, ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এই রাতে ইবাদতের মাধ্যমে আমরা আমাদের সারাজীবনের গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে নফল সালাত আদায় ও রাত জেগে ইবাদত করবে আল্লাহ তার ইতোপূর্বের সকল সগীরা (ছোট) গুনাহ ক্ষমা করে দেন।" (বুখারী : ১৯০১; মুসলিম : ৭৬০)


ইবাদতে কাটুক আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত:
রমজানের এই দিনগুলোতে সুস্থতা অনেক বড় একটি নেয়ামত। সঠিক পুষ্টি ও পর্যাপ্ত ইবাদতের মাধ্যমে আমরা যেন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি, সেই দোয়াই হোক আমাদের আজীবন পাথেয়।


আজ প্রথম রোজা। চারদিকে আজ নামাজের তোড়জোড়, ইফতারের প্রস্তুতি আর তারাবির সুমধুর সুর। আসুন, এই রমজানকে আমরা শুধু না খেয়ে থাকার মাস হিসেবে না মনে করে, বরং তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জনের মাস হিসেবে গ্রহণ করি। সুস্থ থাকুন, ইবাদতে থাকুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দিন। আমিন।


মাহে রমজান মোবারক!


সম্পর্কিত নিউজ