{{ news.section.title }}
সুরা বাকারার শেষ তিন আয়াত বাংলা অর্থ, উচ্চারণ ও ফজিলত
সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত হলো পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ অংশ, যা ঈমান ও দোয়ার সমন্বয়ে গঠিত। নিচে সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ দেওয়া হলো।
সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত (২৮৪-২৮৬) হলো পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ অংশ, যা ঈমান ও দোয়ার সমন্বয়ে গঠিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজের রাতে এই আয়াতগুলো উপহার হিসেবে পেয়েছেন। এই আয়াতগুলো আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সার্বভৌমত্ব, ঈমান ও ক্ষমা প্রার্থনার ওপর আলোকপাত করে, যা প্রতিদিন রাতে পাঠ করা অত্যন্ত পুণ্যময় [৬, ১৪]।
নিচে সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত (২৮৪-২৮৬) বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ দেওয়া হলো:
আয়াত ২৮৪
উচ্চারণ: লিল্লাহি মা ফিছ ছামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ, ওয়া ইন তুবদু মা ফী আনফুছিকুম আও তুখফূহু ইউহাছিবকুম বিহিল্লাহ, ফাইয়াগফিরু লি মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইউ'আযযিবু মাইঁ ইয়াশাউ, ওয়াল্লাহু আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর [৭, ৮]।
অর্থ: আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, সব আল্লাহরই। তোমাদের মনে যা আছে, তা প্রকাশ কর বা গোপন রাখ, আল্লাহ তাআলা তার হিসাব তোমাদের নিকট থেকে নেবেন। এরপর যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি দিবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান [১, ৭]।
আয়াত ২৮৫
উচ্চারণ: আ-মানার রাসূলু বিমা উংজিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী ওয়াল মু'মিনুন, কুল্লুন আ-মানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুসুলিহ, লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ, ওয়া ক্বালূ সামি'না ওয়া আত্বা'না গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসীর [৬, ৮]।
অর্থ: রাসূল ঈমান এনেছেন সে বিষয়ের ওপর, যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুমিনগণও। সবাই ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাদের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর। তারা বলে, আমরা তাঁর রাসূলদের মধ্যে কাউকে পার্থক্য করি না। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আপনার ক্ষমা চাই, আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে [২, ৮]।
আয়াত ২৮৬
উচ্চারণ: লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উস'আহা, লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত, রাব্বানা লা তুআখিজনা ইন নাছীনা আও আখত্বা'না, রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইছরাম কামা হামালতাহু আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা, রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা তক্বাতা লানা বিহি, ওয়া'ফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা, আনতা মাওলা-না ফাংছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরীন [৮, ১০]।
অর্থ: আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না। সে তাই পায়, যা সে উপার্জন করে এবং তার ওপর তাই বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদের অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের ওপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর অর্পণ করেছ। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের দ্বারা এমন কাজ করাবে না, যার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের মাফ করে দিন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন [৫, ১০]।
ফজিলত: এই আয়াতগুলো, বিশেষ করে শেষ দুই আয়াত (২৮৫-২৮৬), প্রতিদিন রাতে পাঠ করলে তা সমস্ত অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে [৬, ১৪]।