{{ news.section.title }}
দোয়া কুনুত বাংলা উচ্চারণ ও এর ফজিলত
কুনুত আরবি শব্দ। অর্থ আনুগত্য করা। দোয়া কুনুত ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও ইবাদত। বিশেষ করে বেতের নামাজে এটি নিয়মিত পড়া হয় এবং এর মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য, ক্ষমা, হেদায়েত, কল্যাণ ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করে। দোয়া কুনুত কেবল মুখস্থ করে পাঠ করার বিষয় নয়—এটি অন্তর থেকে আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়ার এক গভীর আবেদন।
দোয়া কুনুত কখন ও কীভাবে পড়বেন
এশার নামাজের পর বিতর নামাজ আদায় করা হয়। বিতর সাধারণত ৩ রাকাত এবং দোয়া কুনুত পড়া হয় তৃতীয় রাকাতে। নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় রাকাতে প্রথমে মুসল্লি সুরা ফাতিহা পড়বেন, এরপর অন্য কোনো সুরা বা কয়েক আয়াত মিলিয়ে কিরাত সম্পন্ন করবেন।
কিরাত শেষ হলে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবির দেবেন, তারপর দুই হাত কান পর্যন্ত উঠাবেন - যেমন তাকবিরে তাহরিমায় তোলা হয়। এরপর হাত বাঁধবেন (ডান হাত বাম হাতের ওপর রেখে) এবং বিনয়ের সঙ্গে অনুচ্চ স্বরে/নিঃশব্দে দোয়া কুনুত পড়বেন।
দোয়া কুনুত শেষ হলে সাধারণ নিয়মে রুকুতে যাবেন, এরপর সিজদা করে নামাজ সম্পন্ন করবেন।
দোয়া কুনুত পাঠের ফজিলত কী?
আত্মিক পরিশুদ্ধি, আল্লাহর রহমত, হেদায়েত ও বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার শক্তিশালী মাধ্যম দোয়া কুনুত। নিয়মিত এর পাঠ একজন মুসলমানের জন্য অনেক সওয়াব ও কল্যাণ বয়ে আনে। এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে গুরুত্বপূর্ণ আবেদনগুলো তুলে ধরা হয়।
দোয়া কুনুতকে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান দোয়াগুলোর অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হয়। সাধারণভাবে এটি বেতের নামাজের তৃতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য একটি সুরা মিলিয়ে পড়ার পর পাঠ করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকেও দোয়া কুনুত পাঠের আমল প্রমাণিত রয়েছে - তিনি বিশেষ পরিস্থিতিতে বা মাঝে মাঝে এটি পড়তেন বলে হাদিসে উল্লেখ আছে।
এ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এক রাতে তিনি নবী (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন। রাসুল (সা.) ঘুম থেকে উঠে প্রথমে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন। এরপর তিনি বেতের নামাজ শুরু করেন। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পর সুরা আ‘লা পাঠ করে রুকু ও সিজদা করেন। দ্বিতীয় রাকাতে ফাতিহা ও সুরা কাফিরূন পাঠ করে রুকু-সিজদা সম্পন্ন করেন। তৃতীয় রাকাতে ফাতিহা ও সুরা ইখলাস পাঠ করার পর তিনি রুকুর আগে দোয়া কুনুত পড়েন। (কিতাবুল হুজ্জাহ ১/২০১; নাসবুর রায়াহ ২/১২৪)
দোয়া কুনুত আরবি
اَللَّهُمَّ اِنَّ نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ-اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতায়িনুকা ওয়া নাসতাগ ফিরুকা, ওয়ানু’মিনু বিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর। ওয়া নাসকুরুকা ওয়ালা নাক ফুরুকা, ওয়ানাখলাউ উয়ানাত রুকু মাইয়্যাফযুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকানা’বুদু ওয়ালাকা নুছল্লি, ওয়ানাস জুদু ওয়া ইলাইকা নাসয়া, ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা আজাবাকা; ইন্না আজাবাকা বিলকুফফারি মুলহিক্।
দোয়া কুনুতের বাংলা অর্থ
হে আল্লাহ! আমরা তোমারই সাহায্য চাই। তোমারই কাছে ক্ষমা চাই, তোমারই প্রতি ইমান রাখি, তোমারই ওপর ভরসা করি এবং সব মঙ্গল তোমারই দিকে ন্যস্ত করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলি, অকৃতজ্ঞ হই না। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই দাসত্ব করি, তোমারই জন্য নামাজ পড়ি এবং তোমাকেই সিজদাহ করি। আমরা তোমারই দিকে দৌড়াই ও এগিয়ে চলি। আমরা তোমারই রহমত আশা করি এবং তোমার আজাবকে ভয় করি। আর তোমার আজাব তো কাফেরদের জন্যই নির্ধারিত।
দোয়াকুনুত কেন পাঠ করবেন?
- আল্লাহর সাহায্য লাভ
- নবীজির সুন্নাত পালন
- শত্রু থেকে রক্ষা পাওয়া
- গুনাহ মাফের উপায়
- আত্মিক প্রশান্তি লাভ