দোয়ার বদৌলতে আল্লাহর অলৌকিক সাহায্য পেলেন কাবায় কর্মরত পাকিস্তানি ঝাড়ুদার

দোয়ার বদৌলতে আল্লাহর অলৌকিক সাহায্য পেলেন কাবায় কর্মরত পাকিস্তানি ঝাড়ুদার
ছবির ক্যাপশান, মক্কার হারামে কর্মরত একজন পাকিস্তানি পরিচ্ছন্নতা কর্মী | ছবি: সংগৃহীত
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দার দোয়া সবসময়ই গ্রহণ করেন। তবুও প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে এমন কিছু নির্দিষ্ট সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন, যেসব সময়ে দোয়া করলে তা বিশেষভাবে কবুল হওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে।

মক্কার হারামে কর্মরত একজন পাকিস্তানি পরিচ্ছন্নতা কর্মীর এক বিস্ময়কর ঘটনা। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি অত্যন্ত বিনয় ও একাগ্রতার সাথে আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলেন।
অভাব-অনটনে জর্জরিত এই ব্যক্তিটি নিজের ঋণ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলে কাঁদছিলেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে হারামের লাইভ ক্যামেরাটি তাঁর ওপর ফোকাস করে। হারাম শরীফের চ্যানেল থেকে সেই দৃশ্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
সৌদি আরবের একজন দানবীর ব্যক্তির চোখে ভিডিওটি পড়লে তিনি সেই কর্মীর সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাঁর সমস্ত ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব নেন।
পরবর্তীতে সেই কর্মীকে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি তখন কোন দোয়াটি পড়ছিলেন? তিনি জানালেন, তিনি অভাব মুক্তির সেই দোয়াটি পড়ছিলেন যা রাসূলুল্লাহ ﷺ এক মেহমানের আগমনের সময় পড়েছিলেন।
ঘটনাটি হলো, একবার নবীজী ﷺ-এর ঘরে একজন মেহমান এলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীদের কাছে খাবারের খোঁজে লোক পাঠালেন, কিন্তু খবর এলো ঘরে কিছুই নেই। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ এই দোয়াটি পাঠ করলেন,


                                                                                                                                                                                                                                                                                  ​"اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ وَرَحْمَتِكَ، فَإِنَّهُ لَا يَمْلِكُهَا إِلَّا أَنْتَ"


উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিকা ওয়া রাহমাতিকা, ফাইন্নাহু লা ইয়ামলিকুহা ইল্লা আন্তা)
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহ ও রহমত প্রার্থনা করছি। কেননা, আপনি ছাড়া আর কেউ এর মালিক নয়।" (আবু দাউদ, সহীহ আল জামে, তাবারানী)
দোয়া করার কিছুক্ষণ পরই নবীজী ﷺ-এর কাছে উপহার হিসেবে একটি ভাজা বকরি এলো।
উলামাদের মতে, অভাব ও সংকটের সময় এই দোয়াটি পড়া অত্যন্ত বরকতময়।
আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তাঁর কাছে চাইলে তিনি এমন জায়গা থেকে সাহায্য করেন যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।

আসুন জেনে নেই দোয়া কবুলের সেরা ১০টি সময়

১) রাতের শেষ তৃতীয়াংশে
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক দিন রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের রব সবচেয়ে নীচের (প্রথম) আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আছো? আমাকে ডাকো; আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কে আছে? আমার কাছে চাও; আমি তোমাকে দান করবো। কে আছো? আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী; আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বুখারি)

২) আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না।’ (আবু দাউদ)

৩) জুমআর দিনের দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমআর দিনে একটি সময় আছে যে সময়টা কোনো মুমিন নামাজ পড়া অবস্থায় পায় এবং আল্লাহর কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করে, আল্লাহ অবশ্যই সে চাহিদা পুরণ করবেন। এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে সে সময়ের সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন।’ (বুখারি)

৪) সেজদার সময়ের দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে সময়টাতে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে কাছে চলে যায়, তাহলো সেজদার সময়। সুতরাং তোমরা তখন আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাও।’ (মুসলিম)

৫)ফরজ নামাজের পরের দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রাতের শেষ সময় এবং ফরজ নামাজের পরে দোয়া কবুল হয়।’ (মুসলিম)

৬) কদরের রাতের দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে, তার আগের (জীবনের) সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ (বুখারি)

৭) বৃষ্টি হওয়ার সময়ের দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুই সময়ের দোয়া ফেরানো হয় না। আজানের সময়ের দোয়া আর বৃষ্টি বর্ষণের সময়ের দোয়া।’ (আবু দাউদ)

৮) আরাফাতের দিনের দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দোয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আরাফাতের দিনের দোয়া।’ (তিরমিজি)

৯) জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল অন্য যে কোনে দিনের আমলের চেয়ে উত্তম।’ (বুখারি)

১০) রোজাদার ব্যক্তির ইফতারের সময়ের দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘৩ ব্যক্তির দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেয়া হয় না। যখন রোজাদার ব্যক্তি ইফতার করে। ন্যায় পরায়ন শাসক। নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া।’ (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি)


মুমিন মুসলমানের উচিত এ সময় ও দিনক্ষণগুলোতে বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। নিজের একান্ত চাহিদাগুলো পূরণে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত দিন ও সময়ে তাওবা-ইসতেগফারসহ দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


সম্পর্কিত নিউজ