{{ news.section.title }}
নামাজের সময়সূচি: ৯ মার্চ ২০২৬
আজ সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ইংরেজি তারিখ। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী দিনটি ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ এবং হিজরি সনের হিসেবে আজ ১৯ রমজান ১৪৪৭। এই দিনে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার নামাজের সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
ফজর: সকাল ৫:০০ মিনিট
জোহর: দুপুর ১২:১৩ মিনিট
আসর: বিকেল ৪:২৫ মিনিট
মাগরিব: সন্ধ্যা ৬:০৯ মিনিট
ইশা: রাত ৭:২১ মিনিট
আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬:০৬ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হয়েছে সকাল ৬:১৩ মিনিটে।
আগামীকাল মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখের সময়সূচি অনুযায়ী ফজরের নামাজ সকাল ৫:০০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে এবং সূর্যোদয় হবে সকাল ৬:১২ মিনিটে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে নামাজের সময় ঢাকার সময়ের সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। সে অনুযায়ী সময়ের সমন্বয় করতে হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী-
যেসব বিভাগে সময় বিয়োগ করতে হবে:
চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট বিয়োগ
সিলেট: ৬ মিনিট বিয়োগ
যেসব বিভাগে সময় যোগ করতে হবে:
খুলনা: ৩ মিনিট যোগ
রাজশাহী: ৭ মিনিট যোগ
রংপুর: ৮ মিনিট যোগ
বরিশাল: ১ মিনিট যোগ
(সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে রাকাতের বিবরণ
ইসলামে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। দৈনিক এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মোট ১৭ রাকাত ফরজ নামাজ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ১২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা, যা মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিয়মিত আদায় করতেন। এছাড়া কিছু সুন্নতে যায়েদা নামাজ রয়েছে, যা তিনি মাঝে মাঝে আদায় করতেন।
এর পাশাপাশি ইশার নামাজের পর সুবহে সাদিকের আগে ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ আদায় করা অপরিহার্য। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তা ত্যাগ করে, তবে তা গুনাহ হিসেবে গণ্য হবে। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো নামাজ ছুটে গেলে পরে কাজা আদায় করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সুন্নতে মুআক্কাদা ও সুন্নতে যায়েদা নামাজ আদায় করলে সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু তা আদায় না করলে গুনাহ হয় না।
নিচে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ফরজ ও সুন্নতের রাকাতসংখ্যা উল্লেখ করা হলো-
ফজর
ফজরের ফরজ নামাজ ২ রাকাত। ফরজের আগে ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা আদায় করা হয়।
জোহর
জোহরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত এবং ফরজের পরে ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে।
আসর
আসরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা পড়া যায়।
মাগরিব
মাগরিবের ফরজ নামাজ ৩ রাকাত। ফরজের পরে ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা আদায় করা হয়।
ইশা
ইশার ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নতে যায়েদা এবং ফরজের পরে ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে।
এরপর সুবহে সাদিকের আগে ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।
জান্নাতে সহজ প্রবেশের জন্য নফল নামাজের সুপারিশ
ফরজ নামাজের আগে এবং পরে কিছু নফল সুন্নত নামাজ পড়ার মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশের সহজ পথ রয়েছে। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে এই নফল নামাজের মোট সংখ্যা ১২ রাকাত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রতিদিন এই নফল নামাজগুলো পড়বে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করবেন।
হজরতে উম্মে হাবিবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন,
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।’ হাদিসটি শোনার পর থেকে আমি কখনও এই নামাজগুলো পরিত্যাগ করিনি।” (মুসলিম)
কোন ওয়াক্তে পড়তে হবে এই সুন্নত নামাজ?
১. ফজরের আগে – ২ রাকাত সুন্নত
২. জোহরের আগে – ৪ রাকাত সুন্নত
৩. জোহরের পরে – ২ রাকাত সুন্নত
৪. আশরের পরে – ২ রাকাত সুন্নত
৫. মাগরিবের পরে – ২ রাকাত সুন্নত
মোট = ১২ রাকাত সুন্নত
সুন্নত নামাজে নিয়মিত থাকার মাধ্যমে মু’মিন মুসলমানকে ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আমলের মাধ্যমে জান্নাতে ঘর পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অতএব, এই নামাজগুলো নিয়মিতভাবে আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য উত্তম।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব
ইসলামে ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, নামাজ মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরজ।
(সুরা নিসা: ১০৩)
হাদিসে নামাজের গুরুত্ব আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমাদের ও কাফেরদের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ। যে ব্যক্তি নামাজ ত্যাগ করে, সে কুফুরি করল।
(সুনানে তিরমিজি: ২১১৩)
আরেকটি হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, বান্দা আর শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ ছেড়ে দেওয়া।
(সহিহ মুসলিম: ১৪৮)
এছাড়া কেয়ামতের দিন মানুষের আমলনামার হিসাবের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে প্রথমেই তার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি নামাজ সঠিক পাওয়া যায়, তবে সে সফল হবে এবং মুক্তি পাবে। আর যদি তাতে ত্রুটি পাওয়া যায়, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
(সহিহ জামে সগির: ২০২০)
এই কারণে ইসলামে নামাজকে মুসলমানের জীবনের অন্যতম প্রধান ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা একজন মুমিনের ঈমান ও আমলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।