শবে কদর: রাতের নামাজ, দোয়া ও বিশেষ ফজিলত

শবে কদর: রাতের নামাজ, দোয়া ও বিশেষ ফজিলত
ছবির ক্যাপশান, লাইলাতুল কদর (শবে কদর)
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

পবিত্র রমজান দ্রুত কেটে যায় - এটি আমরা অনেকেই অনুভব করি। তবে রমজানের শেষ দশকে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জন্য এক বিশেষ নিয়ামত রেখে দেন, লাইলাতুল কদর (শবে কদর)। এই রাতের জন্য প্রস্তুতি মানে শুধুই আবেগ নয়; বরং এর অর্থ হলো ইবাদতের মাত্রা বৃদ্ধি করা, গাফিলতিকে কমানো এবং রমজানের শেষ দশকে নিজেদের সত্যিকারের অর্থে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করা।

কোরআন নাজিল হওয়ার মাস রমজান শবে কদরের কারণে আরও বিশিষ্ট ও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই রাতেই আল্লাহ তা'য়ালা জিব্রাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কোরআন নাজিল করেছেন।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে,

নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মহিমান্বিত রজনীতে। আর আপনি কিজানেন মহিমান্বিত রজনী কী? মহিমান্বিতরজনী হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এ রজনীতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ এবংরূহ তাদের প্রতিপালকের আদেশত্রুমে অবতীর্ণ হয়। এবং ভোরউদিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কেবলশান্তি আর শান্তি বিরাজ করে।’ (আল-কদর, আয়াত : ১-৫)

শবে কদর কী?

শবে কদর শব্দটি ফারসি থেকে এসেছে। এখানে শব অর্থ রাত্রি, আর কদর অর্থ সম্মান, মর্যাদাবা খাতির। আরবিতে এই রাতকে লাইলাতুল কদর বলা হয়। আর বিলাইলাতুন অর্থ রাত্রি, আর কদর মানে সম্মান বা মহিমান্বিত। এছাড়া এর অন্য অর্থ হলো ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ।

রমজানের শেষ দশকের বিজোড় কোনো রাতে শবে কদর উদযাপিত হয়। আল্লাহ তা'য়ালা কোরআনে বলেন:

“আপনিকি জানেন, মহিমান্বিত রজনী কী? এটি হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।” (সূরা কদর, আয়াত ২-৩)

শবে কদরের ফজিলত

শবে কদরের ফজিলত কোরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এই রাতে ইবাদত করা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম

হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

“যে ব্যক্তি ঈমান ও বিশ্বাসের সঙ্গে রমজানের রোজা পালন করে এবং শবে কদরের রাতে ইবাদত করে, তার পূর্ববর্তীসব গুনাহ মাফ হয়ে যায়।” (বুখারি)

হজরত আয়েশা রা. বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন:

“রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের সন্ধান কর।” (সহিহ বুখারি: ২০১৭, সহিহ মুসলিম: ১১৬৯)

শবে কদরের নামাজ ও দোয়া

নিয়ত – ইসলামে নিয়ত মানে হলো মনের সংকল্প বা ইচ্ছা। শবে কদরের জন্যও নিয়ত করা যায়।উদাহরণস্বরূপ:

বাংলায়:

“হে আল্লাহ, আমি কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্য দুই রাকাত লাইলাতুল কদরের নফল নামাজ আদায় করার জন্য নিয়ত করছি, আল্লাহু আকবর।”

আরবিতে:

“নাওয়াইতুআন্ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকআতাই সালাতিল লাইলাতিল কাদ্রি নফলে মুতাওয়াজ্জিহান ইলাজিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি, আল্লাহু আকবর।”

তবে মনে রাখতে হবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম বা চার মাজহাবের ইমামগণ নির্দিষ্টভাবে এই মুখে উচ্চারিত নিয়ত ব্যবহার করেছেন বলে কোনো প্রমাণ নেই।

নামাজের পদ্ধতি – শবে কদরের জন্যনির্দিষ্ট কোনো নামাজের নিয়ম নেই। রাতে দুই রাকাত করে নফল নামাজ পড়া যায় খুশু ও ইখলাস সহ।চাইলে ২০ রাকাত তারাবি পড়ার পর অতিরিক্ত রাকাতও পড়া যায়। রাতের মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া যেতে পারে।

কোরআন তেলাওয়াত ও বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তেগফার করা এ রাতের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

শবেকদরের দোয়া – হজরত আয়েশা রা. জিজ্ঞেস করেছিলেন,

“হে আল্লাহর রাসুল! যদি আমি জানতাম লাইলাতুল কদর কোন রাত, তাহলে আমি সে রাতে কী বলব?”

 

তিনি বলেন, ‘তুমি বলো, 

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

 

উচ্চারণ: ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল। ক্ষমা করাটা আপনার পছন্দ। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৫১৩)।

 

এ ছাড়াও আল্লাহ তা'আলার ক্ষমা লাভে কুরআনুল কারিমে তিনি বান্দার জন্য অনেক দোয়া তুলে ধরেছেন। যা নামাজের সেজদা, তাশাহহুদ সহ সব ইবাদত-বন্দেগিতে পড়ার জন্য তাগিদ দিয়েছেন।আর তাহলো-

 

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ

 

উচ্চারণ: ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুররাহিমিন।’

 

অর্থ: ‘হে আমার প্রভু! (আমাকে) ক্ষমা করুন এবং (আমার উপর) রহম করুন; আপনিইতো সর্বশ্রেষ্ঠ রহমকারী।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত১১৮)

 

رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

 

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা আমান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আংতা খাইরুররাহিমিন।’

 

অর্থ: ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপনকরেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদেরপ্রতি রহম কর। তুমিতো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত১০৯)

 

رَبِّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ فَاغْفِرْ لِيْ

 

উচ্চারণ: ‘রাব্বি ইন্নি জ্বালামতু নাফসি ফাগফিরলি।’

 

অর্থ: ‘(হে আমার) প্রভু! নিশ্চয়ই আমি নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ (সুরা কাসাস : আয়াত১৬)

 

رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

 

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা ইন্নানা আমান্না ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া ক্বিনা আজাবাননার।’

 

অর্থ: হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং তুমি আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৬)

 

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ

 

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানাওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’

 

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের প্রতিজুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবো।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)

 

رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ

 

উচ্চারণ: ‘রাব্বানাগফিরলি ওয়া লিওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিলমুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’

 

অর্থ: হে আমাদের প্রভু! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন তুমি আমাকে, আমার বাবা-মাকেও মুমিনদেরকে ক্ষমা কর।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত৪১)

 

سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ

 

উচ্চারণ: ‘সামিনা ওয়া আত্বানা গুফরানাকারাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাছির।’

 

অর্থ: ‘আমরা (আপনার বিধান) শুনলাম এবং মেনে নিলাম।হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমাকরুন। আপনার দিকেই তো (আমাদের) ফিরে যেতে হবে।’ (সুরা আল-বাকারাহ : আয়াত ২৮৫)

 

رَبَّنَا وَلاَ تُحَمِّلْنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنتَ مَوْلاَنَا

 

উচ্চারণ: ‘ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আংতা মাওলানা ফাংছুরনাআলাল ক্বাওমিল কাফিরিন।’

 

অর্থ: ‘হে আমাদের রব! যে বোঝা বহন করার সাধ্য আমাদেরনেই, সে বোঝা আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ো না। আমাদের পাপ মোচন করুন। আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদেরপ্রতি দয়া করুন। তুমিই আমাদের প্রভু।’ (সুরা বাকারাহ : আয়াত২৮৬)

 

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِيْنَ سَبَقُوْنَا بِالْإِيْمَانِ

 

উচ্চারণ: ‘রাব্বানাগফিরলানা ওয়ালি ইখওয়ানিনাল্লাজিনা সাবাকুনা বিল ঈমানি।’

 

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের ক্ষমা করুন এবং যারা আমাদের আগে যারা ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে, তাদেরকেও ক্ষমা করুন।’ (সুরা হাশর : আয়াত১০)

 

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِيْ أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ

 

উচ্চারণ: ‘রাব্বানাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফিআমরিনা ওয়া ছাব্বিত আক্বদামানাওয়াংছুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরিন।’

 

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমাকরে দিন। আমাদের কাজের মধ্যে যেখানে তোমার সীমালঙ্ঘন হয়েছে, তা মাফ করেদিন। আমাদের কদমকে অবিচল রাখুন এবং অবিশ্বাসীদের মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করুন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪৭)

 

رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ

 

উচ্চারণ: ‘রাব্বানা ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া কাফফির আন্নাসায়্যিআতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মাআলআবরার।’

 

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু! সুতরাং আমাদের গোনাহগুলো ক্ষম করুন। আমাদের ভুলগুলো দূর করে দিন এবং সৎকর্মশীল লোকদের সাথে আমাদের শেষ পরিণতি দান করুন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯৩)

 

হাদিসে শবে কদরের কিছু আলামত উল্লেখ আছে:

১) রমজান মাসে – এই রাত রমজান মাসে হয় এবং এর ফজিলত কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী।

২) রমজানের শেষ দশকে – হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“রমজানের শেষ দশকে কদরের রাত খুঁজো।” (সহিহ বুখারি)

৩) বেজোড় রাতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি – বিজোড় রাতগুলোতে বিশেষভাবে অনুসন্ধান করা উচিত।

৪) শেষ সাত দিনে অনুসন্ধান করা উচিত – হাদিসে নির্দেশ আছে, যারা লাইলাতুল কদর খুঁজতে চায় তারা রমজানের শেষ সাত রাতের মধ্যে তা অনুসন্ধান করবে।

৫) ২৭তম রজনীতে শবে কদরের সম্ভাবনা বেশি – 

উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত:

“রাসুল (সা.) আমাদেরকে রমজানের ২৭তম রাত কদরের রাত হিসেবে কিয়ামুল্লাইল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।” (সহিহ মুসলিম)


অন্য হাদিস অনুযায়ী, পরবর্তী সম্ভাব্য রাতগুলো হলো ২৫, ২৯, ২১ এবং ২৩ তারিখে।

স্থানান্তরশীল দৃষ্টিকোণ – শবে কদরের রাত প্রতি বছর একই তারিখে নাও পড়তে পারে। আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী এটি ২৫, ২৭, ২৯ বা অন্য কোনো তারিখে হতে পারে।

 

লাইলা তুলকদরের রাতের চিহ্ন

হাদিসের ভিত্তিতে কিছু চিহ্ন উল্লেখযোগ্য:

  • রাতটি গভীর অন্ধকারে ঢেকে যাবে না।
  • নাতিশীতোষ্ণ, তীব্র গরম বা শীত অনুভূত হবে না।
  • মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হবে।
  • ইবাদতকারীর মনকে বিশেষভাবে তৃপ্তি দেবে।
  • রাতের বেলায় বৃষ্টি হতে পারে।
  • সূর্যোদয় হবে হালকা আলোকরশ্মি সহ, পূর্ণিমার চাঁদের মতো দৃশ্যমান। (ইবনু খুজাইমা: ২১৯০; বুখারি: ২০২১; মুসলিম: ৭৬২)

শবে কদরের আমল

রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর লাভের আশায় নিচের আমলগুলো করা যেতে পারে- 

১. বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা।
২. মসজিদে প্রবেশ করার পর দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজ পড়া।
৩. মাগরিবের পর দুই রাকাত করে আওয়াবিন নামাজ আদায় করা।
৪. রাতে তারাবির নামাজ পড়া।
৫. শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা।
৬. সম্ভব হলে সালাতুত তাসবিহ নামাজ পড়া।
৭. তাওবার নামাজ আদায় করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
৮. সালাতুল হাজাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে প্রয়োজন পূরণের দোয়া করা।
৯. বিভিন্ন ধরনের নফল নামাজ বেশি বেশি পড়া।
১০. পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা।
১১. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা।
১২. তাওবা ও ইস্তিগফার করা এবং জিকির-আজকারে সময় কাটানো।
১৩. নিজের জন্য, পরিবার-পরিজন, বাবা-মা এবং মৃত মুসলিমদের জন্য দোয়া করা।
১৪. বেশি বেশি দান-সদকা করা।

 

হাদীস শরীফে শবে কদরের নির্দিষ্ট রজনী বা তারিখ নির্ধারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে হাদীসগুলো থেকে বোঝা যায় যে, লাইলাতুল কদর অর্জনের জন্য গোটা রমজান মাসই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষকরে শেষ দশ দিন, এবং এর মধ্যে বেজোড় রাতগুলোতে এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই রমজানের শেষদশকে এই রাত অনুসন্ধানেপূর্ণ মনোযোগ এবং প্রস্তুতি থাকা উচিত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

تَحَرّوْا لَيْلَةَ القَدْرِ فِي العَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
“তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর খুঁজো।” (সহীহ বুখারী, হাদীস: ২০২০)

আরেক বর্ণনায় এসেছে:

الْتَمِسُوهَا فِي العَشْرِ الأَوَاخِرِ فِي الوَتْرِ
“শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে কদর অন্বেষণ কর।” (সহীহ বুখারী, হাদীস: ২০১৬)

যেহেতু হাদীসে লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট তারিখ বা আনুষ্ঠানিক নিয়ম উল্লেখ নেই, তাই এটিনির্দিষ্ট কোনো রাতে বা আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে বেঁধে ফেলা ঠিক নয়।এছাড়া, হাদীসে নির্দিষ্ট কোনো কাজ বা আমলের নির্দেশও নেই। তাই বিদআতও রুসুমাত থেকে দূরে থেকে ব্যক্তিগত ভাবে নফল ইবাদতের মাধ্যমে এই রাত যাপন করাই শ্রেয়।


সম্পর্কিত নিউজ