দ্রুত বিবাহের কার্যকরি আমলগুলো জেনে নিন

দ্রুত বিবাহের কার্যকরি আমলগুলো জেনে নিন

বিবাহ একটি সুন্নাতি আমল। কে কখন বিবাহ করবে, তা সর্বশেষ আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন। আল্লাহ চাইলে সব কিছু সম্ভব, আর আল্লাহ না চাইলে কোনো কিছুই সম্ভব নয়। পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছেন, যাদের বিবাহের বয়স অতিক্রম হয়েছে, তবুও তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারছেন না।

ছেলে বা মেয়ে যদি বিবাহের প্রস্তাব পান কিন্তু বিবাহ সম্পন্ন না হয়, তাদের জন্য কার্যকর কিছু দোয়া রয়েছে যা আমলের মাধ্যমে অনুসরণ করা যেতে পারে।

কিছু মানুষ খুব ভাগ্যবান, যারা প্রস্তাব পেলেই দ্রুত বিবাহ সম্পন্ন করেন। আবার অনেকের ক্ষেত্রে প্রস্তাব পাওয়ার পরও বিবাহ হয় না। কেউ কেউ আবার প্রস্তাব না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু হতাশ হওয়া উচিত নয়। ধৈর্য ধরুন, কারণ বিলম্বে আল্লাহ তায়ালা আপনার জন্য সর্বোত্তম ব্যবস্থা করতে পারেন। আল্লাহ সবসময় আমাদের জন্য সেরাটা চান।

সমাজের নিয়ম ও প্রথার জটিলতার কারণে অনেক যুবক-যুবতি সঠিক সময়ে বিয়ে করতে পারছেন না এবং হতাশায় ভোগছেন। ব্যক্তিভেদে বিবাহ কখন ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত, মোবাহ, মাকরূহ বা হারাম হয় তা আল্লাহর নির্দেশ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত।

যদিও কখন কার বিয়ে হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা অসম্ভব, সমাজে অনেক নারী-পুরুষ রয়েছেন যারা বিবাহ প্রস্তাব পেলেও সহজে বিয়ে করতে পারছেন না। আবার অনেকেই প্রস্তাব না পাওয়ায় সম্পূর্ণ বিষণ্নতায় ভোগছেন।

এজন্য দ্রুত বিয়ে করা উত্তম। যারা বিয়ের বয়স অতিক্রম করেছেন এবং এখনও বিবাহ করেননি, তাদের জন্য বিশেষ কিছু আমল রয়েছে যা অনুসরণ করলে দ্রুত বিয়ে করার পথ সুগম হতে পারে। নিচে তা বর্ণনা করা হলো:

ইসতেগফার

সব সময় জবানে ইসতেগফার জারি রাখা। অর্থাৎ ‘আসতাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ’ পড়া।

اَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِىْ لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।’

অর্থ: "আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরন্তন; এবং আমি তাঁর কাছে ফিরে আসি"

সুরা ইয়াসিন পাঠ করা

সুরা ইয়াসিন বিয়াসহ জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে। বিয়ের প্রস্তাব এসেছে কিন্তু বিবাহ সম্পন্ন হচ্ছে না এমন ব্যক্তিদের জন্য সুরা ইয়াসিনের একটি বিশেষ আমল রয়েছে। প্রতিদিন সকালে, যখন সূর্য পূর্ব আকাশে লাল হয়ে ওঠে, তখন পশ্চিমমুখী হয়ে সুরা ইয়াসিন পাঠ করা এই আমলের অংশ।

সুরা আদ-দোহা সহ ও সুরা কাসাসের  আয়াত পাঠ করা

فَسَقَى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ : ফাসাক্বা লাহুমা ছুম্মা তাওয়াল্লা ইলাজজিল্লি ফাক্বালা রাব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খায়রিং ফাক্বির।

হজরত মুসা আলাইহিস সালাম যখন একাকী বা বিষণ্ণ বোধ করতেন, তখন তিনি একটি নির্দিষ্ট আয়াত বেশি বেশি পাঠ করতেন। বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যারা অপেক্ষা করছেন, তাদের জন্য এ আয়াতের বিশেষ আমল রয়েছে।

  • ছেলেদের জন্য: যদি কোনো ছেলে এই আয়াতটি প্রতিদিন ১০০ বার পাঠ করেন, আল্লাহ তাআলা তার জন্য সেরা পাত্রীর ব্যবস্থা করে দেন।
  • মেয়েদের জন্য: যদি কোনো মেয়ে নিয়মিত সুরা দোহা ১১ বার তেলাওয়াত করেন, আল্লাহ তাআলা তার জন্য সর্বোত্তম পাত্রের ব্যবস্থা করেন।

এটি এক ধরণের বিশ্বাসভিত্তিক আমল, যা ধৈর্য, নিয়মিত তেলাওয়াত এবং আল্লাহর ওপর ভরসার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হয়।
আল্লাহ নামের জিকিরের বিশেষ আমল

১. আমল শুরু করার আগে ১১ বার দরুদ শরিফ পাঠ করুন।
২. এরপর ৩১৩ বার “আল্লাহ” নামের জিকির করুন।
৩. শেষ করে আবার ১১ বার দরুদ শরিফ পাঠ করুন।
৪. এই আমলটি ৪১ দিন টানা, কোনো দিন বাদ না দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।

সুরা তাওবার এ আয়াতটি তেলাওয়াত করা

فَإِن تَوَلَّوْاْ فَقُلْ حَسْبِيَ اللّهُ لا إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ : ফাইং তাওয়াল্লাও ফাকুল হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।

অর্থঃ এ সত্ত্বেও যদি তারা বিমুখ হয়ে থাকে, তবে বলে দাও, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারো বন্দেগী নেই।

১. প্রথমে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করুন।
২. নামাজের পর আমলটি শুরু করুন।
৩. পাঠ শুরুতে ১৯ বার “বিসমিল্লাহ” বলুন।
৪. এরপর সুরা তাওবা, ১২৯ নম্বর আয়াত ১১০০ বার তেলাওয়াত করুন।
৫. তারপর ১০০ বার দরুদ শরিফ পাঠ করুন।
৬. শেষে আবার ১০০ বার “বিসমিল্লাহ” বলুন।

সুরা মরিয়ম পড়া

সূরা মরিয়মের একটি বিশেষ আমল আছে, যা এক ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পর পড়া হয়। যে মেয়ের বা ছেলের বিবাহ নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তিনি নিজে এটি পড়তে পারেন। এছাড়া তাদের বাবা-মা বা অভিভাবকরাও এই সূরা পড়তে পারেন।

সুরা মুজাম্মিল পড়া

যদি কোনো মেয়ে বড় হয়ে যায় কিন্তু বিবাহের প্রস্তাব না পায়, তাহলে তার মা-বাবা বা কোনো একজন অভিভাবক শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করবেন এবং এরপর ২১ বার সুরা মুজাম্মিল পাঠ করবেন।

আল্লাহ তাআলা বিয়ে প্রত্যাশী নারী ও পুরুষ এবং তাদের অভিভাবকদের নিয়মিত এই আমলগুলো করার তাওফিক দান করুন। পাশাপাশি কুরআন ও সুন্নাহর বিধিবিধান যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

চক্ষু শীতলকারী স্ত্রী লাভের দোয়া

কোরআনে বর্ণিত দোয়াটি আপনিও করতে পারেন। ইনশাআল্লাহ আপনি প্রশান্তিদায়ক স্ত্রী লাভে ধন্য হবেন। দোয়া শিখিয়ে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻫَﺐْ ﻟَﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟِﻨَﺎ ﻭَﺫُﺭِّﻳَّﺎﺗِﻦَﺍ ﻗُﺮَّﺓَ ﺃَﻋْﻴُﻦٍ ﻭَﺍﺟْﻌَﻠْﻨَﺎ ﻟِﻠْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﺇِﻣَﺎﻣًﺎ

উচ্চারণ : রাব্বানা-হাবলানা-মিন আজওয়া-জিনা- ওয়া যুররিইয়া-তিনা, কুররাতা আ‘ইউনিওঁ, ওয়াজ‘আলনা-লিলমুত্তাকিনা ইমা-মা-।

অর্থ : হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান করো এবং আমাদের আল্লাহভীরুদের জন্য আদর্শস্বরূপ করো। (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৭৪)


সম্পর্কিত নিউজ