{{ news.section.title }}
একজনের ফিতরা আরেকজন কি আদায় করতে পারবেন? শরিয়তের বিধান কী
রমজান শেষে ঈদুল ফিতর সামনে এলে একটি প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই দেখা যায়-একজনের ফিতরা কি আরেকজন আদায় করতে পারবেন? ইসলামী শরিয়তের সাধারণ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হ্যাঁ, একজন আরেকজনের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করতে পারেন। তবে সেটি নির্ভর করে সম্পর্ক, দায়িত্ব এবং অনুমতির ওপর।
ফিকহি ব্যাখ্যায় বলা হয়, পরিবারের যিনি ভরণপোষণের দায়িত্বে আছেন, তিনি সাধারণত নিজের পাশাপাশি যাদের ভরণপোষণ তার ওপর আবশ্যক, তাদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এবং নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের কথা আলেমরা উল্লেখ করেছেন।
শরিয়তের দৃষ্টিতে সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হলো বাবা ও সন্তানের সম্পর্ক। অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পক্ষ থেকে বাবা বা আইনগত অভিভাবক ফিতরা আদায় করবেন-এমন ব্যাখ্যা বহু ফিকহি সূত্রে পাওয়া যায়। একইভাবে পরিবারপ্রধান নিজের অধীনস্থ সদস্যদের জন্য ফিতরা পরিশোধ করলে তা আদায় হয়ে যায় বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন।
তবে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। যদি ছেলে-মেয়ে সাবালক হয়ে থাকে, তাহলে তাদের নিজস্ব ফিতরা তাদের ওপরই বর্তায়। কিন্তু তারা যদি একই পরিবারে থাকেন এবং বাবা বা পরিবারপ্রধান তাদের পক্ষ থেকে ফিতরা দিয়ে দেন, তাহলে তা বৈধ হতে পারে-বিশেষ করে যদি এতে তাদের সম্মতি বা প্রচলিত পারিবারিক অনুমোদন থাকে।
স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর ফিতরা আদায়ের প্রশ্নেও আলেমদের মধ্যে কিছু ব্যাখ্যাগত পার্থক্য আছে। অনেক ফিকহি সূত্রে বলা হয়েছে, স্ত্রী যদি স্বামীর ভরণপোষণে থাকেন, তাহলে স্বামী তার পক্ষ থেকে ফিতরা দিতে পারেন। তবে কিছু আলেম এও বলেছেন, প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীন ব্যক্তির ফিতরা মূলত তার নিজের ওপর, তাই অন্য কেউ দিতে চাইলে তার অনুমতি বা সম্পর্কগত দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অনুমতি। কোনো ব্যক্তি যদি আরেকজনকে নিজের পক্ষ থেকে ফিতরা দেওয়ার দায়িত্ব দেন, তাহলে সে ব্যক্তি প্রতিনিধি হিসেবে তা আদায় করতে পারবেন। তবে অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি যদি কারও পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করে ফেলে, তা গ্রহণযোগ্য হবে না-এমন মতও স্পষ্টভাবে এসেছে।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব জীবনে এ বিষয়টি সহজভাবে বোঝার উপায় হলো-যার ওপর শরিয়তসম্মত ভরণপোষণের দায়িত্ব আছে, তিনি অধীনদের পক্ষ থেকে ফিতরা দিতে পারবেন। আর প্রাপ্তবয়স্ক, স্বতন্ত্র ব্যক্তির ফিতরা অন্য কেউ দিলে সাধারণত তার সম্মতি থাকা উত্তম। এতে ইবাদতের দায় ও নিয়ত-দুই দিকই পরিষ্কার থাকে।
বাংলাদেশের পারিবারিক বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক সময় পরিবারের একজন সদস্য সবার ফিতরা একসঙ্গে আদায় করেন। শরিয়তের সাধারণ আলোচনায় এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদি তিনি নিজের দায়িত্বাধীন সদস্যদের পক্ষ থেকে দেন, অথবা অন্যদের পক্ষ থেকে দেওয়ার অনুমতি নিয়ে দেন। তবে ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব, কার পক্ষ থেকে কে দিচ্ছেন, এবং সময়মতো তা গরিবের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না-এসব বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।
সব মিলিয়ে শরিয়তের আলোকে বলা যায়, একজনের ফিতরা আরেকজন আদায় করতে পারবেন, কিন্তু তা নির্বিচারে নয়। পরিবারের দায়িত্ব, সম্পর্কের ধরন, প্রাপকের অবস্থা এবং অনুমতির বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যক্তিগত বা জটিল পারিবারিক ক্ষেত্রে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।