{{ news.section.title }}
ফিতরা নগদ দেবেন নাকি খাদ্যদ্রব্যে, কোনটি উত্তম
রমজান শেষে ঈদুল ফিতরের আগে মুসলমানদের জন্য আদায়যোগ্য সদকাতুল ফিতরা নিয়ে প্রতি বছরই একটি প্রশ্ন সামনে আসে-ফিতরা কি নগদ অর্থে দেওয়া উত্তম, নাকি খাদ্যদ্রব্যে দেওয়া উচিত? এ বিষয়ে ইসলামী ফিকহে মতভেদ থাকলেও, অধিকাংশ আলেমের মতে খাদ্যদ্রব্যে ফিতরা আদায়ই মূল সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি।
অন্যদিকে হানাফি মাজহাবের অনেক আলেম প্রয়োজন ও উপকারিতার দিক বিবেচনায় নগদ দেওয়াকেও বৈধ এবং অনেক ক্ষেত্রে বেশি উপযোগী বলে মনে করেন।
হাদিসভিত্তিক ব্যাখ্যায় দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে সদকাতুল ফিতরা সাধারণত এক সা‘ পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য-যেমন খেজুর, যব বা স্থানীয় প্রধান খাদ্য-আকারে আদায় করা হতো। এ কারণে সৌদি-ভিত্তিক ইসলামকিউএসহ বহু আলেমি সূত্র বলছে, ফিতরার আসল পদ্ধতি হলো খাদ্যদ্রব্যে দেওয়া, এবং এটিকেই অধিকাংশ ফকিহ শক্তিশালী মত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে হানাফি ফিকহে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। সিকার্সগাইডেন্সে প্রকাশিত হানাফি মতামত অনুযায়ী, সদকাতুল ফিতরা খাদ্যদ্রব্যের বদলে তার আর্থিক মূল্য দিয়েও আদায় করা বৈধ। এমনকি বাজারে খাদ্য সহজলভ্য থাকলে নগদ দেওয়া দরিদ্র মানুষের জন্য বেশি উপকারী হতে পারে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সূত্রে বলা হয়, প্রয়োজনমতো দরিদ্র ব্যক্তি যেন নিজের চাহিদা অনুযায়ী খরচ করতে পারেন, সে বিবেচনায় নগদ দেওয়া বাস্তবসম্মত হতে পারে।
ফলে “কোনটি উত্তম”-এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় সবার জন্য এক নয়। যদি কেউ অধিকাংশ আলেমের মত ও সরাসরি হাদিসে বর্ণিত পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে খাদ্যদ্রব্যে ফিতরা দেওয়া উত্তম বলেই ধরা হবে। আর যদি কেউ হানাফি মাজহাব অনুসরণ করেন এবং মনে করেন নগদ অর্থ গরিব মানুষের জন্য বেশি উপকারী হবে, তাহলে নগদ দেওয়া সেই মাজহাব অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য, এমনকি অনেক আলেমের মতে বাস্তবতার বিচারে তা বেশি ফলপ্রসূও হতে পারে।
আলেমরা আরও বলছেন, ফিতরার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈদের দিনে দরিদ্র মানুষের অভাব কিছুটা লাঘব করা। সে কারণে যাদের এলাকায় খাদ্যসংকট বেশি, সেখানে খাদ্যদ্রব্যে ফিতরা তাৎক্ষণিক উপকার বয়ে আনতে পারে। আবার শহরাঞ্চলে অনেক দরিদ্র পরিবার বাড়িভাড়া, ওষুধ বা অন্য জরুরি ব্যয়ের জন্য নগদকে বেশি কার্যকর মনে করতে পারে। তবে যে মতই অনুসরণ করা হোক, ফিতরা অবশ্যই প্রকৃত হকদার দরিদ্র মুসলিমের হাতে পৌঁছানো জরুরি।
সময় নিয়েও রয়েছে স্পষ্ট নির্দেশনা। বিভিন্ন ফিকহি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঈদের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করা উত্তম। এতে দরিদ্র মানুষ ঈদের আগেই প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহের সুযোগ পান। দেরি করে দিলেও দায় আদায় হবে কি না, সে বিষয়ে মাজহাবভেদে পার্থক্য থাকলেও সময়মতো পরিশোধকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সার্বিকভাবে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মত হলো, ফিতরা খাদ্যদ্রব্যে দেওয়া সুন্নাহসম্মত ও অধিকাংশ আলেমের কাছে বেশি শক্তিশালী মত। তবে হানাফি ফিকহে নগদ দেওয়ারও অবকাশ রয়েছে, বিশেষ করে যখন তা দরিদ্র মানুষের উপকারে বেশি আসে। তাই একজন মুসলমানের জন্য উত্তম হবে-নিজের অনুসৃত মাজহাব, স্থানীয় আলেমদের পরামর্শ এবং দরিদ্র মানুষের বাস্তব প্রয়োজন-এই তিনটি দিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া।