ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব? সহজ নিয়মে জানুন

ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব? সহজ নিয়মে জানুন
ছবির ক্যাপশান, ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

ঈদুল ফিতরের আগে আদায়যোগ্য সদকাতুল ফিতরা নিয়ে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো-কার ওপর এটি ওয়াজিব হয়। আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফিতরা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর প্রযোজ্য, যদি তার কাছে ঈদের দিন-রাতের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর ন্যূনতম সামর্থ্য থাকে।

পুরুষ-নারী, প্রাপ্তবয়স্ক-অপ্রাপ্তবয়স্ক-সব ক্ষেত্রেই মূল বিবেচনা হচ্ছে ব্যক্তি মুসলিম কি না এবং তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামর্থ্য আছে কি না।

ফিকহি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য সবার ক্ষেত্রে সম্পদের এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। এটি সাধারণ যাকাতের মতো নয়। বরং ঈদুল ফিতরের সময় কারও কাছে যদি তার মৌলিক প্রয়োজন ও দেনা বাদ দিয়ে নেসাব পরিমাণ সম্পদ বা সামর্থ্য থাকে, তাহলে তার ওপর ফিতরা ওয়াজিব হবে।

সহজভাবে বললে, একজন মুসলমানের নিজের এবং তার পরিবারের জরুরি খরচ মেটানোর পর অতিরিক্ত সামর্থ্য থাকলে তাকে ফিতরা দিতে হবে। অনেক আলেমের মতে, ঈদের দিন ও রাতের খাবার এবং প্রয়োজনীয় ব্যয়ের বাইরে অতিরিক্ত সম্পদ থাকাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অন্য ব্যাখ্যায় নেসাব পরিমাণ সম্পদকে মানদণ্ড ধরা হয়েছে। ফলে স্থানীয় মাজহাবি অনুসরণ ও আলেমের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই উত্তম।

কার পক্ষ থেকে ফিতরা দিতে হবে-এ প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভরযোগ্য আলেমি সূত্রগুলো বলছে, একজন ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করবেন। পাশাপাশি যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তার ওপর বর্তায়, যেমন অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান-তাদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করা হয়। স্ত্রী ও অন্য নির্ভরশীল সদস্যদের ব্যাপারে ফকিহদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও, বহু আলেমের মতে যাদের ভরণপোষণ নিজের দায়িত্বে, তাদের পক্ষ থেকেও ফিতরা দেওয়া যায় বা অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া উচিত।

শিশুদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। আলেমদের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পক্ষ থেকে অভিভাবক ফিতরা দেবেন। আবার প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান নিজে সামর্থ্যবান হলে নিজের ফিতরা নিজেই আদায় করবেন। যৌথ পরিবারে বাবা অনেক সময় বড় সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা পরিশোধ করেন, তবে সেটি পারিবারিক ব্যবস্থাপনার অংশ; মূল দায়িত্ব সামর্থ্যবান প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির নিজের ওপরই বর্তায়।

ফিতরা কখন ওয়াজিব হয়, সে বিষয়েও রয়েছে নির্দিষ্ট আলোচনা। কিছু আলেমের মতে, রমজানের শেষ দিনে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ফিতরা ওয়াজিব হয়। আবার হানাফি ব্যাখ্যায় ঈদের সকাল প্রবেশের সময়কে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়েছে। তবে সব মতেই এক বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে-ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা উত্তম, যাতে দরিদ্র মানুষ ঈদের আগে প্রয়োজন মেটাতে পারেন।

কাদের ফিতরা দেওয়া যাবে, সেটিও জানা জরুরি। আলেমদের মতে, ফিতরা গরিব ও অভাবী মুসলিমদের দিতে হবে। তবে যাদের ভরণপোষণ নিজের ওপর ফরজ-যেমন বাবা-মা, সন্তান বা স্ত্রী-তাদেরকে ফিতরা দেওয়া যাবে না। কারণ তাদের ব্যয়ভার এমনিতেই প্রদানকারীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

সার্বিকভাবে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিতরা ওয়াজিব হবে এমন ব্যক্তিকে তিনটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে-তিনি মুসলিম কি না, তার মৌলিক প্রয়োজনের বাইরে ন্যূনতম সামর্থ্য আছে কি না, এবং যাদের ভরণপোষণ তার দায়িত্বে তাদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায়ের প্রয়োজন রয়েছে কি না। তাই ফিতরার নিয়ম সহজভাবে বুঝতে চাইলে বলা যায়: সামর্থ্যবান মুসলিম নিজের এবং দায়িত্বভুক্ত নির্ভরশীলদের পক্ষ থেকে ঈদের আগেই ফিতরা আদায় করবেন।


সম্পর্কিত নিউজ