{{ news.section.title }}
গরিব আত্মীয়কে ফিতরা দেওয়া যাবে? ইসলামের নির্দেশনা কী বলছে
গরিব আত্মীয়কে ফিতরা দেওয়া যাবে কি না-এ প্রশ্নের উত্তরে ইসলামী শরিয়তের ব্যাখ্যা হলো, হ্যাঁ, দেওয়া যাবে। বরং দরিদ্র আত্মীয়কে ফিতরা দেওয়া অনেক আলেমের মতে বেশি উত্তম; কারণ এতে একদিকে সদকা আদায় হয়, অন্যদিকে আত্মীয়তার সম্পর্কও রক্ষা হয়।
তবে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। যেসব আত্মীয়ের ভরণপোষণ দেওয়া ব্যক্তির ওপর শরিয়ত অনুযায়ী আবশ্যক, তাদেরকে ফিতরা দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ এমন কাউকে ফিতরা দেওয়া বৈধ নয়, যার খরচ বহন করা আপনার নিজের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
আলেমি সূত্র অনুযায়ী, সাধারণভাবে বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, সন্তান-সন্ততি এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একে অন্যকে যাকাত বা ফিতরা দেওয়া যায় না। কারণ এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরাসরি আর্থিক দায়িত্বের বিষয়টি জড়িত থাকে। হানাফি ফিকহভিত্তিক ব্যাখ্যাতেও স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তানকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে ভাই-বোন, ফুফু, খালা, চাচা, মামা, ভাতিজা-ভাগনে, শ্বশুরবাড়ির দরিদ্র সদস্য বা অন্য গরিব আত্মীয়-যদি তারা ফিতরা গ্রহণের উপযুক্ত হন-তাদেরকে ফিতরা দেওয়া বৈধ। অনেক আলেমের মতে, এ ধরনের আত্মীয়কে দেওয়া অপরিচিত কাউকে দেওয়ার চেয়ে উত্তম, যদি তারা সত্যিই অভাবগ্রস্ত হন।
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, আত্মীয়কে ফিতরা দেওয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে-এটি যেন নিজের আর্থিক দায়িত্ব এড়ানোর উপায় না হয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে, যাঁর খরচ নিয়মিত আপনাকেই চালাতে হয়, তাঁকে ফিতরা দিয়ে সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।
ফলে সাধারণ পাঠকের জন্য সহজ নিয়ম হলো: গরিব আত্মীয়কে ফিতরা দেওয়া যাবে, এবং অনেক ক্ষেত্রে তা বেশি সওয়াবের কাজও হতে পারে। কিন্তু বাবা-মা, সন্তান ও স্বামী-স্ত্রীর মতো সরাসরি দায়ভুক্ত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ফিতরা দেওয়া যাবে না। তাই ফিতরা দেওয়ার আগে আত্মীয়টি প্রকৃত হকদার কি না এবং তার ভরণপোষণ আপনার ওপর ফরজ কি না-এই দুটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া জরুরি।