ফিতরা না দিলে কি রোজা অপূর্ণ থেকে যায়? আলেমরা যা বলেন

ফিতরা না দিলে কি রোজা অপূর্ণ থেকে যায়? আলেমরা যা বলেন
ছবির ক্যাপশান, ফিতরা না দিলে কি রোজা অপূর্ণ থেকে যায়?
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

সদকাতুল ফিতরা আদায় না করলে রোজা “অপূর্ণ” থেকে যায় কি না-এ প্রশ্নে আলেমদের ব্যাখ্যা হলো, ফিতরা না দিলেই রোজা বাতিল বা অকার্যকর হয়ে যায় না। তবে ফিতরা ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও কেউ তা আদায় না করলে তিনি গুনাহগার হবেন, এবং পরে তা আদায় করে নেওয়ার দায়িত্ব তার ওপর থেকেই যাবে।

এ বিষয়ে আলেমরা সাধারণত একটি প্রসিদ্ধ হাদিসের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন, যেখানে বলা হয়েছে ফিতরা রোজাদারকে অনর্থক কথা ও অশালীনতা থেকে পরিশুদ্ধ করার মাধ্যম এবং গরিবদের খাবারের ব্যবস্থাও বটে। ইসলামকিউএর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই হাদিসের অর্থ হলো ফিতরা রোজার ঘাটতি পূরণে সহায়ক; তবে এতে কোথাও বলা হয়নি যে ফিতরা না দিলে রোজা একেবারেই কবুল হবে না।

অর্থাৎ ফিকহি দৃষ্টিতে এখানে দুটি আলাদা বিষয় রয়েছে। প্রথমটি হলো, রমজানের রোজা সহিহ হয়েছে কি না। দ্বিতীয়টি হলো, ফিতরার মতো একটি ওয়াজিব আমল আদায় করা হয়েছে কি না। আলেমদের মতে, রোজা সঠিকভাবে রাখলে তা সহিহ হবে; কিন্তু সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ফিতরা না দিলে ব্যক্তি একটি ওয়াজিব আমল ছেড়ে দেওয়ার কারণে দায়ী থাকবেন।

ইসলামকিউএর এক ফতোয়ায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেউ ফিতরা আদায় না করলে সে গুনাহ করবে এবং তাকে তা পরে কাজা বা পরিশোধ করতে হবে। আবার কেউ ভুলে ঈদের নামাজের আগে ফিতরা দিতে না পারলে, ভুলে যাওয়ার কারণে তার ওপর গুনাহ হবে না; তবে স্মরণ হওয়ার পর তাকে ফিতরা আদায় করতে হবে।

আলেমরা আরও বলেন, ফিতরার মূল সময় ঈদের নামাজের আগে। কারণ এর উদ্দেশ্য হলো ঈদের দিন দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটানো। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করা নিন্দনীয় এবং অনেক আলেমের মতে গুনাহের কাজ। তবে সময় পেরিয়ে গেলেও ফিতরার দায় একেবারে শেষ হয়ে যায় না; তা আদায় করতেই হবে।

সাধারণ পাঠকের জন্য সহজভাবে বললে, ফিতরা না দিলে রোজা “ভেঙে যায়” বা “অকার্যকর” হয়ে যায়-এ কথা আলেমরা বলেন না। বরং তারা বলেন, রোজা সহিহ হতে পারে, কিন্তু ফিতরা আদায় না করলে সেই রোজার পূর্ণতা, পরিশুদ্ধি ও সামাজিক উদ্দেশ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অপূর্ণ থেকে যায়, এবং ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়ার দায়ও থেকে যায়।

সার্বিকভাবে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, ফিতরা রোজার বিকল্প নয় এবং রোজা সহিহ হওয়ার একমাত্র শর্তও নয়। কিন্তু এটি রমজানের ইবাদতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি ওয়াজিব আমল। তাই সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য উত্তম হলো ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা, যাতে রোজার পরিশুদ্ধি ও দরিদ্র মানুষের হক-দুইটিই আদায় হয়।


সম্পর্কিত নিউজ