ফিতরা দেওয়ার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি

ফিতরা দেওয়ার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি
ছবির ক্যাপশান, ফিতরা দেওয়ার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

ঈদুল ফিতরের আগে সদকাতুল ফিতরা আদায় করা মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। কিন্তু প্রতি বছরই দেখা যায়, ফিতরার সময়, পরিমাণ, হকদার নির্বাচন ও আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে অনেকেই কিছু সাধারণ ভুল করে বসেন। আলেমি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এসব ভুল এড়িয়ে চললে ফিতরা সঠিকভাবে আদায় করা সহজ হয় এবং এর সামাজিক উদ্দেশ্যও পূরণ হয়।

প্রথম বড় ভুল হলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফিতরা আদায় না করা। নির্ভরযোগ্য আলেমি সূত্রগুলো বলছে, ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা দেওয়া উত্তম; বিলম্ব করে নামাজের পরে দিলে তা নির্ধারিত সময়ের ফজিলত থেকে বঞ্চিত করে, আর অনেক আলেমের মতে অযথা দেরি করা নিন্দনীয়।

দ্বিতীয় ভুল হলো ফিতরার সঠিক পরিমাণ সম্পর্কে উদাসীন থাকা। ইসলামকিউএর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ফিতরার মূল পরিমাপ এক সা‘ স্থানীয় প্রধান খাদ্যদ্রব্য। অর্থাৎ যে সমাজে চাল, গম বা অন্য কোনো খাদ্য প্রধান খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেই খাদ্যদ্রব্যের নির্ধারিত পরিমাণ হিসাব করে ফিতরা আদায় করতে হয়।

তৃতীয় ভুল হচ্ছে কাকে ফিতরা দেওয়া যাবে, সেটি না জেনে দেওয়া। আলেমদের মতে, ফিতরা মূলত দরিদ্র ও অভাবী মানুষের জন্য। কিন্তু যাদের ভরণপোষণ নিজের ওপর বাধ্যতামূলক-যেমন বাবা-মা, সন্তান বা স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক দায়-তাদেরকে ফিতরা দেওয়া সঠিক নয়।

চতুর্থ ভুল হলো নিজের ওপর যাদের ফিতরা আদায় করা দরকার, তাদের হিসাব না রাখা। আলেমি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সামর্থ্যবান মুসলিমকে নিজের পক্ষ থেকে এবং যাদের ভরণপোষণ তার দায়িত্বে, তাদের পক্ষ থেকেও ফিতরা দিতে হয়। অনেক পরিবারে শুধু নিজের হিসাব করে ফিতরা দিলেও শিশু সন্তান বা দায়ভুক্ত সদস্যদের হিসাব বাদ পড়ে যায়।

পঞ্চম ভুল হচ্ছে প্রতিনিধি বা সংস্থার মাধ্যমে ফিতরা দিলেও দায়িত্ব নিশ্চিত না করা। ইসলামকিউএর এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কাউকে প্রতিনিধি করা হলে তার মাধ্যমে ফিতরা দেওয়া বৈধ; তবে নিয়োগ বা অনুমতি ছাড়া কোনো সংস্থা আগে থেকে কারও পক্ষ হয়ে ফিতরা আদায় করে ফেলতে পারে না। অর্থাৎ দাতা মনে করলেন টাকা দিলেই দায় শেষ-এমন ধারণা সব ক্ষেত্রে নিরাপদ নয়।

ষষ্ঠ ভুল হলো ফিতরাকে সাধারণ দান-সদকার মতো ধরে নেওয়া। আলেমরা বলছেন, ফিতরা যাকাতুল মাল থেকে আলাদা একটি ওয়াজিব ইবাদত, এবং এর নির্দিষ্ট সময়, উদ্দেশ্য ও প্রাপকের বিষয় রয়েছে। তাই “পরে দেব”, “যেকোনোভাবে দিলেই হবে” বা “অন্য খাতে দিলেই একই কথা”-এমন ধারণা সঠিক নয়।

সপ্তম ভুল হচ্ছে স্থানীয় আলেম বা গ্রহণযোগ্য ফিকহি মত না জেনে বিতর্কে জড়িয়ে পড়া-বিশেষ করে নগদ না খাদ্যদ্রব্যে দেওয়ার প্রশ্নে। বিভিন্ন মাজহাবে এ বিষয়ে কিছু মতভেদ আছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো নিজের অনুসৃত মাজহাব, স্থানীয় আলেমদের পরামর্শ এবং দরিদ্র মানুষের বাস্তব প্রয়োজন-এই তিনটি দিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া।

সার্বিকভাবে আলেমরা বলছেন, ফিতরা আদায়ে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় তা হলো-সময়ের আগে প্রস্তুতি নেওয়া, সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা, প্রকৃত হকদার বাছাই করা এবং যাদের পক্ষ থেকে দেওয়া জরুরি তাদের কাউকে বাদ না দেওয়া। ঈদের আগে এসব বিষয়ে সচেতন থাকলে ফিতরা শুধু দায়মুক্তির মাধ্যমই নয়, বরং দরিদ্র মানুষের জন্য বাস্তব সহায়তাও হয়ে উঠতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ