{{ news.section.title }}
ঈদের আগের রাতে কী আমল করবেন? জানুন আলেমদের পরামর্শ
ঈদুল ফিতরের আগের রাতে অনেক মুসলমানই জানতে চান, এ রাতে কোন আমলগুলো করা ভালো। আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ রাতকে কেন্দ্র করে কিছু ভালো আমল করা যেতে পারে-যেমন আল্লাহর জিকির, তাকবির, নফল নামাজ, দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত এবং ফিতরা সময়মতো আদায়ের প্রস্তুতি। তবে তারা এটিও মনে করিয়ে দেন, ঈদের রাতকে ঘিরে যেসব বিশেষ ফজিলতের কথা প্রচলিত আছে, তার সবগুলো সহিহ সূত্রে প্রমাণিত নয়।
আলেমদের মতে, ঈদের রাত শুরু হয় রমজানের শেষ দিনের সূর্যাস্তের পর থেকে। এই সময় থেকে ঈদের নামাজের জন্য ইমাম বের হওয়া পর্যন্ত তাকবির বলা মুস্তাহাব। ইসলামকিউএর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ঈদের রাত ও ঈদের সকালজুড়ে তাকবির পাঠ করা সুন্নাহসম্মত আমলগুলোর একটি।
ঈদের আগের রাতে সাধারণ নফল ইবাদতেও গুরুত্ব দিয়েছেন আলেমরা। তারা বলেন, কিয়ামুল লাইল, তাহাজ্জুদ, দোয়া ও কুরআন তিলাওয়াত যেহেতু সারা বছরই উত্তম আমল, তাই ঈদের রাতেও এগুলো করা ভালো। তবে “ঈদের রাত জেগে ইবাদত করলে বিশেষ এই ফজিলত পাওয়া যাবে”-এ ধরনের যে হাদিসটি মানুষের মধ্যে বেশি প্রচলিত, তা দুর্বল বা জাল বলে উল্লেখ করেছেন একাধিক মুহাদ্দিস। ফলে এ রাতে ইবাদত করা যাবে, কিন্তু একে সহিহ হাদিসে প্রমাণিত বিশেষ ফজিলতের রাত হিসেবে নিশ্চিতভাবে প্রচার না করাই সতর্ক অবস্থান।
ঈদের আগের রাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফিতরা আদায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা। আলেমরা বলেন, ঈদের নামাজের আগে ফিতরা পৌঁছে দেওয়া উচিত, যাতে দরিদ্র মানুষ ঈদের দিন প্রয়োজন মেটাতে পারেন। সে হিসেবে আগের রাতেই ফিতরার হিসাব, প্রাপক নির্বাচন এবং বিতরণের ব্যবস্থা গুছিয়ে নেওয়া একটি বাস্তবসম্মত ও প্রশংসনীয় কাজ।
ঈদের সকালকে সামনে রেখে ব্যক্তিগত প্রস্তুতিকেও আলেমরা গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন। ইসলামকিউএ ও সিকার্সগাইডেন্সের বর্ণনা অনুযায়ী, ঈদের নামাজের আগে গোসল করা, পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি হওয়া, ঈদুল ফিতরের দিন নামাজে যাওয়ার আগে কিছু খেয়ে নেওয়া-এসব সুন্নাহ ও আদবের অন্তর্ভুক্ত। ফলে অনেকে ঈদের আগের রাতেই পোশাক, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও সকালের প্রস্তুতি গুছিয়ে রাখাকে উপকারী মনে করেন।
তবে আলেমরা কিছু বিষয়ে সতর্কও করেছেন। বিশেষ করে ঈদের রাতকে আলাদা করে বাধ্যতামূলক বা নিশ্চিত-ফজিলতের রাত মনে করা, দল বেঁধে নতুন পদ্ধতিতে বিশেষ ইবাদতের আয়োজন করা, বা দুর্বল বর্ণনাকে সহিহ হাদিস হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তারা। ইসলামওয়েবের এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কেউ যদি সারা বছর যেমন নফল ইবাদত করেন, ঈদের রাতেও তেমন করেন, এতে সমস্যা নেই; কিন্তু এটিকে আলাদা শরিয়তসম্মত রীতি বানিয়ে ফেলা ঠিক নয়।
সাধারণ পাঠকের জন্য সহজ ভাষায় বলা যায়, ঈদের আগের রাতে ভালো আমল হলো-তাকবির পড়া, দোয়া করা, নফল নামাজ পড়া, কুরআন তিলাওয়াত করা, তওবা-ইস্তিগফার করা এবং ফিতরা ও ঈদের নামাজের প্রস্তুতি গুছিয়ে নেওয়া। কিন্তু এ রাত নিয়ে যেসব অতিরঞ্জিত ফজিলতের কথা শোনা যায়, সেগুলো যাচাই না করে প্রচার না করাই উত্তম। আলেমদের ভাষায়, ঈদের রাতকে ইবাদত, শোকরগুজারি ও সংযমের রাত বানানো ভালো; কিন্তু প্রমাণহীন রীতি তৈরি করা ঠিক নয়।