{{ news.section.title }}
রমজানের শেষ সময়ে কেন বেশি বেশি ক্ষমা চাইবেন
রমজানের শেষ সময়ে ক্ষমা প্রার্থনার আমলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে কুরআন-হাদিসভিত্তিক স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আলেমরা। তাদের ব্যাখ্যায়, রমজান এমন এক মাস যা হিদায়াত, ইবাদত, শুকরিয়া ও আত্মশুদ্ধির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, আর মাসের শেষ অংশে এসে একজন মুমিন নিজের ঘাটতি পূরণ, গুনাহের জন্য তওবা এবং আল্লাহর ক্ষমা লাভের আশায় আরও বেশি মনোযোগী হন।
কুরআনের সূরা আল-বাকারা ২:১৮৫-এ রমজান পূর্ণ করা, আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা এবং কৃতজ্ঞ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা আলেমদের মতে আত্মসমালোচনা ও রুহানিয়াত বাড়ানোর দিকেও ইঙ্গিত করে।
এই গুরুত্বের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো-রমজানের শেষ দশকেই রয়েছে লাইলাতুল কদরের সন্ধান। সহিহ বুখারি ও মুসলিমভিত্তিক ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে ইবাদতে দাঁড়াবে, তার অতীত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। এ কারণেই শেষ সময়ের ইবাদতের মধ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, তওবা ও কান্নাকাটি করে দোয়া করাকে তারা বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন।
ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয় সেই প্রসিদ্ধ দোয়ায়, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়েশা (রা.)-কে শিখিয়েছিলেন: “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি”-অর্থাৎ, “হে আল্লাহ, আপনি পরম ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।” আলেমরা বলেন, লাইলাতুল কদরের সম্ভাব্য রাতগুলোতে এই দোয়া বেশি পড়ার নির্দেশনাই প্রমাণ করে যে রমজানের শেষ সময়ে মাগফিরাত চাওয়া একটি কেন্দ্রীয় আমল।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ সময়ে ক্ষমা প্রার্থনা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার আরেকটি কারণ হলো-মানুষ জানে না তার রোজা, নামাজ, তিলাওয়াত ও দান কতটুকু কবুল হয়েছে। তাই মাসের শেষভাগে এসে একজন মুমিন শুধু আমলের সংখ্যার দিকে নয়, বরং আল্লাহর কাছে কবুলিয়াত ও গুনাহমুক্তির আবেদন নিয়েই বেশি মনোযোগী হন। সিকার্সগাইডেন্সের একটি আলোচনায় বলা হয়েছে, লাইলাতুল কদরের রাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক কাজ হলো খাঁটি তওবা-অর্থাৎ গাফিলতি ও গুনাহের অবস্থা ছেড়ে আল্লাহর দিকে আন্তরিকভাবে ফিরে আসা।
আলেমরা আরও বলেন, রমজানের শেষ অংশে ক্ষমা প্রার্থনা মানুষকে বিনয়ী করে, আত্মতুষ্টি থেকে দূরে রাখে এবং ইবাদতের আসল লক্ষ্য স্মরণ করিয়ে দেয়। কারণ রমজানের উদ্দেশ্য কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করা নয়, বরং তাকওয়া, আত্মসংযম এবং আল্লাহর কাছে নত হওয়া। শেষ সময়ে এসে তাই “আমি ইবাদত করেছি” এই আত্মবিশ্বাসের বদলে “হে আল্লাহ, আমার ত্রুটি ক্ষমা করুন”-এই মনোভাবকেই বেশি নিরাপদ ও প্রশংসনীয় বলে মনে করেন আলেমরা। এই মানসিকতা কুরআনের শুকরিয়া ও আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণার শিক্ষার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সাধারণ পাঠকের জন্য সহজভাবে বললে, রমজানের শেষ সময়ে ক্ষমা প্রার্থনার আমল গুরুত্বপূর্ণ তিন কারণে: এ সময় লাইলাতুল কদরের সন্ধান করা হয়, এই সময়ের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষ ক্ষমার দোয়া শিখিয়েছেন, এবং পুরো মাসের ইবাদত শেষে একজন বান্দার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় আল্লাহর মাফ ও কবুলিয়াত। তাই আলেমরা পরামর্শ দেন, শেষ সময়টুকুতে বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার, দোয়া এবং “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন...” দোয়ায় নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত।
সার্বিকভাবে আলেমদের বক্তব্য হলো, রমজানের শেষ অংশ একজন মুমিনের জন্য আধ্যাত্মিকভাবে সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়গুলোর একটি। এ সময় ক্ষমা প্রার্থনা শুধু একটি দোয়া নয়, বরং এটি নিজের অপূর্ণতা স্বীকার, আল্লাহর রহমতের আশা করা এবং রমজানের অর্জনকে কবুল হওয়ার জন্য তুলে ধরার এক গভীর ইবাদত।