ঈদের আগে পড়ার মতো দোয়া, সহজ তালিকায় জানুন

ঈদের আগে পড়ার মতো দোয়া, সহজ তালিকায় জানুন
ছবির ক্যাপশান, ঈদের আগে পড়ার মতো দোয়া
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

ঈদের আগে অনেক মুসলমানই জানতে চান, কোন দোয়াগুলো পড়া যেতে পারে। আলেমদের ব্যাখ্যায় দেখা যায়, ঈদের আগের সময়ের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত দোয়ার সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে রমজানের শেষ অংশ, লাইলাতুল কদরের সম্ভাব্য রাতগুলো, ইস্তিগফার, শোকরগুজারি এবং ঈদের প্রস্তুতির সময় কয়েকটি দোয়া ও জিকির বেশি গুরুত্ব পায়।

এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও শক্ত দলিলভিত্তিক দোয়া হলো ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া-“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা‘ফু আন্নি।” আলেমরা বলছেন, এটি বিশেষ করে রমজানের শেষ রাতগুলোতে বেশি পড়া উত্তম।

ঈদের আগে সহজভাবে যে দোয়াগুলো পড়তে পারেন, সেগুলোর একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো-

১. ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া
আরবি: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা‘ফু আন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি পরম ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।
এ দোয়াটি রমজানের শেষ সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দোয়াগুলোর একটি হিসেবে আলেমরা উল্লেখ করেন।

২. বেশি বেশি ইস্তিগফার
আরবি: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
আলেমরা বলেন, রমজানের শেষ সময়ে নিজের ত্রুটি, গুনাহ ও ইবাদতের অপূর্ণতার জন্য বেশি বেশি ইস্তিগফার করা খুবই উপকারী আমল। এটি ঈদের আগের সময়ের জন্যও অত্যন্ত মানানসই একটি দোয়া।

৩. তাকবির
আরবি: الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله، والله أكبر، الله أكبر، ولله الحمد
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
অর্থ: আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আর সব প্রশংসা আল্লাহর।
ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে ঈদের নামাজ পর্যন্ত তাকবির বলা সুন্নাহসম্মত আমল। এটি দোয়া না হলেও ঈদের আগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিকিরগুলোর একটি।

৪. দোয়া কবুলের আশা নিয়ে সাধারণ মুনাজাত
ঈদের আগে নিজের ভাষায় দোয়া করতে পারেন-
হে আল্লাহ, আমাদের রোজা, নামাজ, তিলাওয়াত ও দান কবুল করুন।
হে আল্লাহ, আমাদের গুনাহ মাফ করুন এবং ঈদকে শান্তি ও বরকতের মাধ্যম বানিয়ে দিন।
আলেমরা বলছেন, ঈদের আগের রাতের জন্য নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক কোনো দোয়া না থাকলেও সাধারণ দোয়া, জিকির ও নফল ইবাদত অবশ্যই ভালো।

৫. কৃতজ্ঞতার দোয়া
আরবি: رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: রাব্বানা তাকাব্বাল মিন্‌না ইন্নাকা আন্তাস সামিউল আলিম।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
রমজান শেষে ইবাদত কবুল হওয়ার আবেদন হিসেবে এই দোয়াটি অনেক আলেম ও দ্বীনি শিক্ষক পড়তে উৎসাহ দেন। এটি কুরআনিক দোয়া হওয়ায় সাধারণ আমল হিসেবেও খুবই অর্থবহ।

৬. দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণের দোয়া
আরবি: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা আযাবান্নার।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
ঈদের আগে পরিবার, রিজিক, সুস্থতা, শান্তি ও আখিরাতের নাজাতের জন্য এই দোয়াটি পড়া যেতে পারে। এটি সর্বজনীন কল্যাণের দোয়া।

আলেমরা আরও মনে করিয়ে দেন, ঈদের আগে দোয়ার সঙ্গে তাকবির, জিকির, ইস্তিগফার এবং ফিতরা সময়মতো আদায়ের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঈদের আগের রাতের জন্য এমন কোনো বিশেষ দোয়া নির্দিষ্ট নেই, যা না পড়লে আমল অপূর্ণ থাকবে। তাই সহিহভাবে প্রমাণিত দোয়া, কুরআনের দোয়া এবং নিজের প্রয়োজনমাফিক আন্তরিক মুনাজাত-এই তিনটিকেই সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম পথ হিসেবে দেখা হয়।

সাধারণ পাঠকের জন্য সহজ কথা হলো, ঈদের আগে সবচেয়ে বেশি পড়তে পারেন-ক্ষমার দোয়া, ইস্তিগফার, তাকবির এবং কবুলিয়াতের দোয়া। কম জানলেও সমস্যা নেই; আন্তরিকতা ও খুশু-খুজু নিয়েই আল্লাহর কাছে ক্ষমা, কবুলিয়াত ও শান্তি চাইতে পারেন।


সম্পর্কিত নিউজ