শেষ রোজাগুলোতে ইবাদতের ঘাটতি পূরণ করবেন কীভাবে

শেষ রোজাগুলোতে ইবাদতের ঘাটতি পূরণ করবেন কীভাবে
ছবির ক্যাপশান, শেষ রোজাগুলোতে ইবাদতের ঘাটতি পূরণ করবেন কীভাবে
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

রমজানের শেষ সময়কে আলেমরা সবচেয়ে মূল্যবান পর্বগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন। কারণ, এ সময়েই রয়েছে শেষ দশক, রয়েছে লাইলাতুল কদরের সন্ধান, আর রয়েছে পুরো মাসের ইবাদতকে আরও যত্নের সঙ্গে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ।

কুরআনে রমজান পূর্ণ করা, আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা এবং কৃতজ্ঞ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা আলেমদের মতে শেষ সময়টুকু অবহেলা না করার দিকেই ইঙ্গিত করে।

আলেমদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইবাদতের ঘাটতি পূরণের প্রথম উপায় হলো চেষ্টা বাড়ানো। হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি ইবাদতে মনোযোগ দিতেন, রাত জেগে থাকতেন এবং পরিবারকেও জাগিয়ে দিতেন। এ কারণেই শেষ রোজাগুলোতে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়াকে আলেমরা সবচেয়ে কার্যকর পথ বলে মনে করেন।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লাইলাতুল কদরকে সামনে রেখে আমল বাড়ানো। নির্ভরযোগ্য ইসলামি সূত্রগুলো বলছে, লাইলাতুল কদর শেষ দশকে তালাশ করতে হবে, এবং এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। তাই যে ব্যক্তি সারা রমজানে প্রত্যাশামতো ইবাদত করতে পারেননি, তার জন্য শেষ দশক-বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলো-নতুন উদ্যমে ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার বড় সুযোগ।

তৃতীয়ত, আলেমরা ক্ষমা প্রার্থনা ও ইস্তিগফারকে সবচেয়ে জরুরি আমলগুলোর মধ্যে রেখেছেন। বিশেষ করে “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা‘ফু আন্নি”-এই দোয়াটি শেষ সময়ের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তাদের মতে, মাসজুড়ে ইবাদতে ঘাটতি, গাফিলতি বা ভুলত্রুটি থেকে থাকলে শেষ রোজাগুলোতে তওবা, ইস্তিগফার ও কান্নাভেজা দোয়াই একজন বান্দাকে আল্লাহর রহমতের আরও কাছে নিতে পারে।

চতুর্থ পরামর্শ হলো কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা। কুরআনে রমজানকে সেই মাস বলা হয়েছে, যে মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে। তাই শেষ রোজাগুলোতে অন্তত নির্দিষ্ট সময় ধরে তিলাওয়াত, অনুবাদ পড়া বা অল্প কয়েকটি আয়াত মনোযোগ দিয়ে বুঝে পড়ার অভ্যাসকে আলেমরা খুবই ফলপ্রসূ আমল হিসেবে দেখেন। যারা শুরুতে লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি, তারা শেষ সময়টুকুতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে কুরআনের কাছে ফিরতে পারেন।

পঞ্চমত, রাতের ইবাদত বাড়ানোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাহাজ্জুদ, কিয়ামুল লাইল বা অন্তত স্বল্প সময়ের নফল নামাজ-এসব আমল শেষ সময়ের আধ্যাত্মিকতা বাড়ায়। আলেমদের মতে, দীর্ঘ আমল করতে না পারলেও নিয়মিত অল্প আমল অনেক সময় বেশি উপকারী হয়। তাই পুরো রাত জাগতে না পারলেও কিছু সময় নিরিবিলি দোয়া, দুই-চার রাকাত নফল নামাজ ও জিকিরে কাটানো যেতে পারে।

ষষ্ঠত, পরিকল্পনা করে আমল করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সিকার্সগাইডেন্সের আলোচনায় বলা হয়েছে, শেষ সময়ের ইবাদতের জন্য আগে থেকেই জায়গা, সময় ও করণীয় গুছিয়ে রাখা উপকারী। অর্থাৎ কখন তিলাওয়াত করবেন, কখন দোয়া করবেন, কখন তারাবিহ বা তাহাজ্জুদে মনোযোগ দেবেন-ছোট একটি পরিকল্পনা থাকলে শেষ রোজাগুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে না গিয়ে মনোযোগী হওয়া সহজ হয়।

সপ্তমত, আলেমরা মনে করিয়ে দেন গুণগত মানকে অগ্রাধিকার দিতে। অর্থাৎ শুধু বেশি আমল নয়, বরং খুশু, একাগ্রতা, অনুতাপ ও আন্তরিকতার সঙ্গে আমল করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি মনে করেন তার রমজানে ঘাটতি রয়ে গেছে, তাহলে হতাশ না হয়ে শেষ সময়টুকুতে মনোযোগী, আন্তরিক ও তওবামুখী ইবাদতই তার জন্য সবচেয়ে উপকারী হতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ