{{ news.section.title }}
ঈদের সকালে সুগন্ধি ব্যবহার, পরিষ্কার পোশাক পরা - ইসলাম কী বলে
ঈদের সকালে সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ভালো পোশাক পরা ইসলামে ফরজ বা ওয়াজিব নয়; তবে আলেমদের বড় একটি অংশ এটিকে ঈদের আদব, মুস্তাহাব এবং সুন্নাহসম্মত শোভা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তাদের ব্যাখ্যায়, ঈদ মুসলিমদের জন্য ইবাদত, আনন্দ ও সামষ্টিক সমাবেশের দিন; তাই এ দিনে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি হয়ে বের হওয়া ইসলামের সৌন্দর্যবোধের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইসলামকিউএর একটি আলোচনায় ঈদের শিষ্টাচারের মধ্যে গোসল, পরিচ্ছন্নতা এবং নিজেকে সজ্জিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সূত্রে বলা হয়েছে, সুন্দর পোশাক পরা ঈদের দিনের স্বীকৃত আদবের অংশ। আরেকটি উত্তরে ইসলামকিউএ বলছে, নতুন পোশাক পরা বাধ্যতামূলক নয়; বরং নিজের কাছে থাকা ভালো ও পরিপাটি পোশাক পরাই মূল কথা।
সুগন্ধির ক্ষেত্রেও আলেমরা প্রায় একই কথা বলেছেন। ইসলামওয়েবে প্রকাশিত ঈদের আদববিষয়ক এক লেখায় পুরুষদের জন্য ঈদের দিন সুগন্ধি ব্যবহার ও সেরা পোশাক পরাকে সুপারিশকৃত আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামকিউএও বলছে, ঈদের দিনে পরিচ্ছন্ন হওয়া, দুর্গন্ধ দূর করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা শরিয়তের সৌন্দর্যচর্চার অংশ।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও আলেমরা স্পষ্ট করেছেন। বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার উৎসাহিত করা হলেও নারীদের ক্ষেত্রে ঘরের বাইরে পরপুরুষের সামনে আকর্ষণ সৃষ্টিকারী সুগন্ধি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। ইসলামকিউএর আলোচনায় এ সীমারেখা স্পষ্টভাবে টানা হয়েছে।
আলেমরা আরও মনে করিয়ে দেন, ঈদের পোশাক মানেই নতুন বা দামী পোশাক নয়। ইসলামওয়েবের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ঈদের জন্য নতুন কাপড় পরা বাধ্যতামূলক নয়; বরং পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও শালীন পোশাকই যথেষ্ট। অর্থাৎ ইসলাম জাঁকজমকের বাধ্যবাধকতা দেয় না; বরং পরিচ্ছন্নতা, শালীনতা ও সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেয়।
সাধারণ পাঠকের জন্য সহজভাবে বললে, ঈদের সকালে গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা, নিজেকে পরিপাটি রাখা এবং পুরুষদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা ভালো ও প্রশংসনীয় আমল। তবে এগুলো না করলে ঈদের নামাজ নষ্ট হবে না। আলেমদের ভাষায়, এগুলো ঈদের দিনের সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও সামষ্টিক মর্যাদা প্রকাশের অংশ।