ঈদুল ফিতরের দিন নামাজের আগে কিছু খাওয়া কেন সুন্নত

ঈদুল ফিতরের দিন নামাজের আগে কিছু খাওয়া কেন সুন্নত
ছবির ক্যাপশান, ঈদুল ফিতরের দিন নামাজের আগে কিছু খাওয়া কেন সুন্নত

ঈদুল ফিতরের দিন নামাজে যাওয়ার আগে কিছু খাওয়া ইসলামে একটি সুন্নত আমল। আলেমরা বলেন, এর ভিত্তি হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে-রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে নামাজে বের হতেন না, বিশেষ করে তিনি খেজুর খেতেন, এবং অনেক বর্ণনায় বেজোড় সংখ্যায় খাওয়ার কথাও এসেছে।

এই সুন্নতের একটি বড় কারণ হলো, যেন কেউ মনে না করে যে ঈদের দিনও নামাজের আগ পর্যন্ত রোজার মতো না খেয়ে থাকা দরকার। ইসলামকিউএর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নামাজের আগে খাওয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে রমজানের রোজা শেষ হয়েছে, এবং ঈদুল ফিতরের দিন আর সাওমের দিন নয়।

আলেমরা আরও বলেন, এটি আল্লাহর নির্দেশ মানার প্রতীকও বটে। রমজানে যেমন রোজা রাখা আল্লাহর হুকুম, তেমনি রমজান শেষে রোজা ভাঙাও তাঁরই নির্দেশ। তাই ঈদের সকালে কিছু খেয়ে নেওয়া আসলে আল্লাহর দেওয়া সীমারেখা মেনে চলার একটি প্রকাশ।

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মধ্যে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ফিকহি সূত্রগুলো বলছে, ঈদুল ফিতরে নামাজের আগে খাওয়া সুন্নত, কিন্তু ঈদুল আজহায় নামাজের আগে না খেয়ে পরে খাওয়া উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আলেমদের মতে, দুই ঈদের এই আলাদা আমলই তাদের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরে।

খাওয়ার ক্ষেত্রে খেজুরের কথা বেশি এসেছে, কারণ হাদিসে তার উল্লেখ আছে। তবে খেজুর না থাকলে অন্য কিছু খেলেও সুন্নতের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে বলে আলেমরা উল্লেখ করেছেন। এমনকি অল্প কিছু বা সামান্য খাবার খেলেও এই আমলের তাৎপর্য বজায় থাকে।

সাধারণভাবে আলেমদের ব্যাখ্যা হলো, ঈদুল ফিতরের সকালে নামাজের আগে কিছু খাওয়া তিনটি বার্তা দেয়-রমজান শেষ হওয়ার প্রকাশ, ঈদের দিনের আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার ঘোষণা, এবং নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ। তাই মুসলমানদের জন্য এটি একটি ছোট কিন্তু অর্থবহ আমল।

সহজভাবে বললে, ঈদুল ফিতরের দিন নামাজের আগে কিছু খাওয়া ফরজ নয়, কিন্তু সুন্নত। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়-আজ রোজার দিন নয়, আজ আনন্দ, শুকরিয়া ও ইবাদতের দিন।


সম্পর্কিত নিউজ