ঈদের সকালকে বরকতময় করতে ছোট ছোট যে আমলগুলো করবেন

ঈদের সকালকে বরকতময় করতে ছোট ছোট যে আমলগুলো করবেন
ছবির ক্যাপশান, ঈদের সকালকে বরকতময় করতে ছোট ছোট যে আমলগুলো করবেন
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

ঈদের সকাল মুসলমানদের জন্য আনন্দ, শোকরগুজারি ও ইবাদতের এক বিশেষ সময়। আলেমদের ব্যাখ্যায় দেখা যায়, এ দিনটিকে বরকতময় করতে বড় কোনো কঠিন আমল দরকার হয় না, বরং কয়েকটি ছোট কিন্তু অর্থবহ সুন্নত ও ভালো কাজ দিয়েই সকালটি শুরু করা যায়।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয় গোসল করা, পরিপাটি হওয়া, ভালো পোশাক পরা, তাকবির পড়া, ঈদুল ফিতরের ক্ষেত্রে নামাজের আগে কিছু খাওয়া এবং সময়মতো ঈদের নামাজে যাওয়া।

প্রথমেই আলেমরা গোসল ও পরিচ্ছন্নতার কথা বলেন। ঈদের নামাজের আগে গোসল করাকে বহু ফকিহ মুস্তাহাব বা সুপারিশকৃত আমল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বড় জামাত ও জনসমাগমের দিনে পরিচ্ছন্নভাবে বের হওয়া ঈদের আদবের অংশ বলেও তারা ব্যাখ্যা করেন।

এরপর আসে পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা। আলেমদের মতে, ঈদের দিন নতুন পোশাক হওয়া জরুরি নয়, তবে নিজের কাছে থাকা পরিষ্কার, শালীন ও ভালো পোশাক পরা উত্তম। পুরুষদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহারও পছন্দনীয় আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এটি ঈদের দিনের সৌন্দর্য ও সামাজিক শালীনতার অংশ।

ঈদুল ফিতরের সকালে আরেকটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ সুন্নত হলো নামাজে যাওয়ার আগে কিছু খেয়ে নেওয়া। হাদিসভিত্তিক ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে নামাজে বের হতেন না, খেজুর থাকলে তা খাওয়া উত্তম, এবং বেজোড় সংখ্যায় খাওয়ার কথাও বহু বর্ণনায় এসেছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়, রমজানের রোজা শেষ হয়েছে এবং এটি আর রোজার দিন নয়।

ঈদের সকালকে বরকতময় করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি হলো তাকবির। ঈদুল ফিতরে চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে ঈদের নামাজ পর্যন্ত তাকবির বলা সুন্নাহ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে মাজহাবভেদে কিছু পার্থক্য আছে: কিছু আলেম উচ্চস্বরে বলার কথা বলেন, আবার সিকার্সগাইডেন্সের হানাফি ব্যাখ্যায় ঈদুল ফিতরের পথে তাকবির আস্তে বলার কথা এসেছে। ফলে সাধারণ মুসল্লির জন্য মূল বিষয় হলো-আল্লাহর বড়ত্ব স্মরণে জিহ্বা ব্যস্ত রাখা।

আলেমরা ফিতরা আদায় নিশ্চিত করাকেও ঈদের সকালের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে দেখেন। কারণ ঈদুল ফিতরের আগে সদকাতুল ফিতর পৌঁছে দেওয়া দরিদ্র মানুষের জন্য ঈদের প্রস্তুতি সহজ করে। তাই সকালের আগেই বা সকালে নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরার বিষয়টি গুছিয়ে নেওয়া একটি বরকতময় ও দায়িত্বশীল আমল।

এরপর সবচেয়ে বড় সামষ্টিক আমল হলো ঈদের নামাজে যাওয়া। কিছু বর্ণনায় এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরার কথাও এসেছে, যা ঈদের দিনের সুন্নত আদবের অংশ হিসেবে বহু আলেম উল্লেখ করেছেন। এতে ঈদের শান-শওকত ও প্রকাশ্য আনন্দের দিকটিও ফুটে ওঠে।

ঈদের সকালকে আরও সুন্দর করতে পরিবারকে আনন্দ দেওয়া, শুভেচ্ছা বিনিময় করা এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাও ভালো কাজ বলে আলেমরা উল্লেখ করেন। যদিও এগুলো সবকটি নির্দিষ্ট রুকন বা ফরজ আমল নয়, তবু ঈদের চেতনার সঙ্গে এগুলো গভীরভাবে সম্পর্কিত। সিকার্সগাইডেন্সের এক ব্যাখ্যায় পরিবার ও বন্ধুদের দেখা-সাক্ষাৎকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

সাধারণ পাঠকের জন্য সহজভাবে বললে, ঈদের সকালকে বরকতময় করতে ছোট ছোট যে আমলগুলো করতে পারেন, সেগুলো হলো: গোসল করা, পরিচ্ছন্ন হওয়া, ভালো পোশাক পরা, পুরুষদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার, ঈদুল ফিতরের দিনে কিছু খেয়ে নেওয়া, তাকবির পড়া, ফিতরা আদায় নিশ্চিত করা এবং সময়মতো ঈদের নামাজে যাওয়া। আলেমদের মতে, এই ছোট ছোট আমলগুলোই ঈদের সকালকে ইবাদত, সৌন্দর্য ও শুকরিয়ায় ভরিয়ে তুলতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ