{{ news.section.title }}
ঈদের নামাজ ছুটে গেলে কী করবেন, শরিয়তে কী বলা হয়েছে?
ঈদের নামাজ ছুটে গেলে করণীয় কী-এ প্রশ্নে আলেমদের মধ্যে কিছু গ্রহণযোগ্য ফিকহি মতভেদ রয়েছে। একদল আলেমের মতে, কেউ ঈদের নামাজ মিস করলে পরে তা আদায় করতে পারেন; তবে খুতবা থাকবে না।
অন্যদিকে হানাফি ফিকহের বহু আলেমের মতে, ঈদের নামাজ মূল জামাতে ছুটে গেলে তা একা কাজা করা হয় না; বরং নফল নামাজ, বিশেষ করে দুহা নামাজ পড়া উত্তম।
ইসলামকিউএর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কেউ ঈদের নামাজ মিস করলে এবং পরে আদায় করতে চাইলে তা আদায় করা মুস্তাহাব। সে ক্ষেত্রে নামাজটি ঈদের নামাজের নিয়মে পড়া যাবে, কিন্তু পরে কোনো খুতবা দিতে হবে না। এই মতকে ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম আহমাদসহ বহু আলেমের মত হিসেবে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সিকার্সগাইডেন্সের হানাফি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ঈদের নামাজ মূলত আনুষ্ঠানিক জামাতের নামাজ। তাই কেউ তা মিস করলে একা বসে ঈদের নামাজ কাজা করবেন না, এবং এমন কাজা তার ওপর আবশ্যকও নয়। বরং এ অবস্থায় চার রাকাত বা দুই রাকাত নফল নামাজ, যা সালাতুদ দুহার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, পড়া ভালো বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে সাধারণ মুসল্লির জন্য প্রথমে জানা জরুরি, তিনি কোন মাজহাব বা ফিকহি মত অনুসরণ করছেন। বাংলাদেশে যেহেতু অধিকাংশ মানুষ হানাফি ফিকহ অনুসরণ করেন, সে হিসেবে স্থানীয় বহু আলেমের পরামর্শ হবে-ঈদের জামাত মিস হলে আলাদা করে ঈদের নামাজ কাজা না করে নফল ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া। তবে যে সব আলেম জুমহুরের মত অনুসরণ করেন, তারা বলবেন-পরে দুই রাকাত ঈদের নামাজ আদায় করা যেতে পারে, কিন্তু খুতবা হবে না।
আরো পড়ুন: ঈদে বায়তুল মোকাররমে ৫টি জামাতের আয়োজন
যদি কেউ পুরো নামাজ না পেয়ে আংশিকভাবে জামাতে যোগ দেন, তাহলে নিয়ম কিছুটা আলাদা। ইসলামকিউএর এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ইমামের সঙ্গে যতটুকু পান তা আদায় করবেন, আর যা ছুটে যায় তা পূরণ করবেন। অর্থাৎ এক রাকাত পেলে বাকি অংশ সম্পন্ন করা যাবে।
আর কেউ যদি জামাতে এসে দেখেন নামাজ শেষ, শুধু খুতবা চলছে, তাহলে ইসলামকিউএর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে-প্রথমে খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন, তারপর যারা কাজা-সমর্থনকারী মত অনুসরণ করেন তারা পরে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন।
আরো পড়ুন: ঈদের নামাজে অতিরিক্ত তাকবির কয়টি, সহজভাবে জেনে নিন
আলেমরা আরও সতর্ক করেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ঈদের নামাজ ছেড়ে দেওয়া হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। সিকার্সগাইডেন্স বলছে, যদি কারও ওপর ঈদের নামাজে অংশ নেওয়া আবশ্যক হয়ে থাকে এবং তিনি তা বিনা কারণে ছেড়ে দেন, তাহলে তার তওবা করা উচিত।
সহজভাবে বললে, ঈদের নামাজ ছুটে গেলে করণীয় দুই মতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। জুমহুরের মতে, পরে দুই রাকাত ঈদের নামাজ পড়া যাবে, তবে খুতবা ছাড়া। হানাফি মত অনুযায়ী, আলাদা করে ঈদের নামাজ কাজা নেই; বরং নফল বা দুহা নামাজ পড়া ভালো। তাই বিভ্রান্ত হলে নিজের এলাকার নির্ভরযোগ্য আলেম ও যে ইমামতি ধারায় আপনি অভ্যস্ত, সেই মত অনুসরণ করাই নিরাপদ।