{{ news.section.title }}
পবিত্র জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ৫ টি বিশেষ আমল
সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে পবিত্র জুমার মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। কুরআন ও হাদিসে এই দিনের গুরুত্ব বারবার তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সূর্যাস্ত থেকে শুরু করে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই সময়টুকু ইবাদতের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত।
সাম্প্রতিক এক আলোচনায় প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ জুমুআর দিনের বহু আমলের মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি আমল বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।
প্রথমত,
জুমুআর দিনে বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, এই দিনে যেন উম্মত বেশি করে দরুদ পড়ে। কারণ আল্লাহর পক্ষ থেকে কিছু ফেরেশতা নিয়োজিত রয়েছেন, যারা দরুদ পাঠকারীর নামসহ তা নবীজীর রওজায় পৌঁছে দেন। ওজু থাকা জরুরি নয়-যেকোনো অবস্থায় ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পড়লেও এই আমল আদায় হয়।
দ্বিতীয়ত,
জুমুআর দিনের ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় এই দিনের ফজরের নামাজ আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। তাই আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া, দ্রুত ঘুমানো এবং প্রয়োজনে অ্যালার্ম বা অন্যের সহায়তা নিয়ে হলেও জামাতে শরিক হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয়ত,
সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করা জুমুআর দিনের একটি বিশেষ আমল। হাদিসে বর্ণিত আছে, এই সূরা তেলাওয়াত করলে মুমিনের জন্য কিয়ামতের অন্ধকারে আলো সৃষ্টি হবে। এছাড়া এক জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত তার জীবন নূরের মধ্যে থাকে এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকেও সুরক্ষা পাওয়া যায়। যারা নিজে পড়তে পারেন না, তারা অন্যের তেলাওয়াত শুনেও সওয়াব অর্জন করতে পারেন।
চতুর্থত,
জুমুআর দিন আগে আগে মসজিদে যাওয়া এবং যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার ফজিলত অপরিসীম। গোসল করা, পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া, ইমামের নিকটে বসা এবং অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থেকে জিকিরে মশগুল থাকা-এই শর্তগুলো পূরণ করলে প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছর নফল রোজা ও এক বছর তাহাজ্জুদের সওয়াব পাওয়া যায়।
পঞ্চমত,
জুমুআর দিনের বিশেষ সময়ে দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে এসেছে, এই দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যখন বান্দার দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না। অধিকাংশ আলেমদের মতে, আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়টি সেই বিশেষ মুহূর্ত। তাই এই সময়ে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া ও মোনাজাত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, এই পাঁচটি আমল নিয়মিতভাবে পালন করলে একজন মুমিন তার ঈমানকে আরও শক্তিশালী করতে পারেন। পাশাপাশি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, নিজেদের জীবনে এই আমলগুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবার ও প্রিয়জনদের মাঝেও এগুলো ছড়িয়ে দিতে।