{{ news.section.title }}
২০২৬ সালের ঈদুল আজহা কবে হতে পারে
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল আজহা বুধবার, ২৭ মে উদযাপিত হতে পারে বলে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব থেকে ইঙ্গিত মিলেছে। একই হিসাব অনুযায়ী, আরাফাত দিবস পড়তে পারে মঙ্গলবার, ২৬ মে।
আমিরাতভিত্তিক একাধিক নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম ও ছুটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য সময়সূচি ঠিক থাকলে ২৭ মে থেকে ২৯ মে পর্যন্ত ঈদের ছুটি মিলতে পারে, সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হলে দীর্ঘ বিরতির সুযোগও তৈরি হবে। তবে ইসলামি মাসের শুরু ও ধর্মীয় উৎসবের চূড়ান্ত তারিখ সবসময়ই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এটি সম্ভাব্য হিসাব হিসেবেই বিবেচিত হবে।
ঈদুল আজহা ইসলামের দুটি প্রধান ঈদের একটি। হজের সঙ্গে সম্পর্কিত এই দিনটি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পালিত হয়। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্রকে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, আর সেই আনুগত্য, আত্মসমর্পণ ও ত্যাগের স্মৃতিই পরে কোরবানির ঈদের মূল তাৎপর্যে পরিণত হয়। কুরআনের সূরা আস-সাফফাতে এই ঘটনার বর্ণনায় এসেছে যে, ইবরাহিম (আ.) স্বপ্নে সন্তানকে কোরবানি করার নির্দেশ পান, আর তাঁর পুত্র ধৈর্য ও আনুগত্যের সঙ্গে সাড়া দেন; পরে আল্লাহ তাঁর পরিবর্তে “এক মহান কোরবানি” নির্ধারণ করেন।
এই কারণেই ঈদুল আজহা কেবল আনন্দের উৎসব নয়; এটি ত্যাগ, তাকওয়া, সামর্থ্যবানদের কোরবানি, এবং দরিদ্রদের মধ্যে মাংস বণ্টনের মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ববোধেরও দিন। ইসলামি শিক্ষায় কোরবানিকে ‘সুন্নাতে ইবরাহিমি’ হিসেবে দেখা হয়। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে: “The Sunnah of your father Ibrahim.” একইভাবে আরেক হাদিসে বলা হয়েছে: “The greatest day in Allah's sight is the day of sacrifice”। কোরবানির মর্যাদা বোঝাতে আরও একটি বিখ্যাত হাদিসে এসেছে: “The son of Adam does not do any deed on the Day of Sacrifice that is dearer to Allah than shedding blood.”
আমিরাতে সম্ভাব্য তারিখ ঘিরে আলোচনার আরেকটি কারণ হলো ছুটির সম্ভাবনা। বর্তমান পূর্বাভাস বলছে, ২৬ মে আরাফাত দিবস এবং ২৭–২৯ মে ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি হলে অনেক বাসিন্দা টানা কয়েক দিনের অবকাশ পেতে পারেন। তবে এখানেও শেষ কথা বলবে চাঁদ দেখা। কারণ ইসলামি ক্যালেন্ডারের প্রতিটি মাস, বিশেষ করে জিলহজের শুরু, স্থানীয় বা সরকারি চাঁদ দেখার ঘোষণার ভিত্তিতেই নিশ্চিত করা হয়। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্ভাব্য দিন দেখালেও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারিখে পরিবর্তন আসতেই পারে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা হচ্ছে-আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য, আত্মত্যাগের মানসিকতা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ। এ কারণেই এই ঈদে নামাজ, কোরবানি, দান-সদকা এবং আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ফলে আমিরাতে সম্ভাব্য তারিখ ঘিরে আগাম আলোচনা থাকলেও, উৎসবটির মূল চেতনা শেষ পর্যন্ত একই-ইবরাহিমি ত্যাগের স্মরণ, ইবাদত, এবং সমাজে কল্যাণের অংশীদার হওয়া।
সূত্র: গালফ নিউজ