জুমার দিনে সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের ফজিলত

জুমার দিনে সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের ফজিলত
ছবির ক্যাপশান, জুমার দিনে সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের ফজিলত

শুক্রবারে সূরা কাহফ পড়ার বিশেষ ফযীলত রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দিনে এর প্রথম দশ আয়াত বা শেষ দশ আয়াত মুখস্থ ও পাঠ করার বিশেষ ফযীলত বর্ণিত হয়েছে।

জুমার দিনকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন - 
“পৃথিবীর যতদিন সূর্য উদিত হবে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এ দিনে আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল। সর্বশেষ কেয়ামত সংঘটিত হবে শুক্রবার দিনে।” (মুসলিম : ৮৫৪)

অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন - 
“জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত।” (ইবনে মাজা : ১০৮৪)

এই ফজিলতপূর্ণ দিনে মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে বহু গুরুত্বপূর্ণ আমল। এর মধ্যে অন্যতম হলো সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। পবিত্র কোরআনের ১৫তম পারার ১৮তম সূরা হলো ‘সূরা কাহাফ’। কেউ পুরো সূরা পড়তে না পারলে অন্তত প্রথম ও শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূরা কাহাফে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘটনা ও শিক্ষণীয় দিক, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পথনির্দেশনা দেয় এবং কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করে। এতে আল্লাহ তাআলা বলেন - 
“পৃথিবীর ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোকে তার শোভা করেছি মানুষকে, এই করার জন্য যে ওদের মধ্যে কে কর্মে ভালো।” (সুরা কাহাফ, ৭)

এ সূরার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা এবং ওহি অবতীর্ণ হওয়ার কথা এসেছে - 
“প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি তাঁর দাসের প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন ও এর মধ্যে তিনি কোনো অসংগতি রাখেননি।” (সুরা কাহাফ, ১)

এর পরবর্তী আয়াতে রয়েছে সতর্কবার্তা ও সুসংবাদ - 
“তার কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন আর বিশ্বাসীগণ যারা সৎকাজ করে, তাদেরকে সুসংবাদ দেবার জন্য যে তাদের জন্য বড় ভালো পুরস্কার রয়েছে।”
“সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।” (সুরা কাহাফ, ২-৩)

এ সূরার প্রথম দশ আয়াতে তাওহিদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে - 
“আর তাদের সতর্ক করার জন্য যারা বলে যে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন, এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না। উদ্ভট কথাই তাদের মুখ থেকে বের হয়, তারা কেবল মিথ্যাই বলে।” (সুরা কাহাফ, ৪-৫)

হাদিসে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য সূরা কাহাফের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
“যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তি পাবে।” (মুসলিম শরিফ)

রাসুল (সা.) আরও সতর্ক করে বলেছেন - 
“আদমের সৃষ্টির পর থেকে বিচার দিবসের আগ পর্যন্ত দাজ্জালের চেয়ে বড় আর কোনো ফিতনা নেই।” (মুসলিম শরিফ)

সূরা কাহাফ তেলাওয়াতের ফজিলত

  • “যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল কাহাফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমাহ হতে আগামী জুমাহ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে।” (মিশকাত ২১৭৫)। 
  • “যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে।” (মুসলিম) (মিশকাত)। 
  • “যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য এমন একটি নূর হবে, যা তার অবস্থানের জায়গা থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করে দিবে। আর যে ব্যক্তি উহার শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল বের হলেও সে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।” (সিলসিলায়ে সহীহা -২৬৫১)। 
  • “যে ব্যক্তি জুমার রাত্রিতে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য স্বীয় অবস্থানের জায়গা হতে পবিত্র মক্কা পর্যন্ত একটি নূর হবে।” (সহীহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব - ৭৩৬)। 
  • “জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করিলে কিয়ামত দিবসে তার পায়ের নীচ থেকে আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত নূর আলোকিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ হবে।” (আত তারগীব ওয়াল তারহীব- ১/২৯৮)। 
  • “জনৈক ব্যক্তি সূরাহ আল কাহাফ পড়ছিল। তখন লোকটি তাকিয়ে দেখতে পেল একখণ্ড মেঘ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনু আযিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম এর কাছে বললেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে অমুক তুমি সূরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমাত বা প্রশান্তি যা কোরআন তেলাওয়াতের কারণে বা কোরআন তেলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল।” (মুসলিম- ১৭৪২)। 

এটি মূলত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ‘সাকীনা’ বা প্রশান্তি, যা কোরআন তেলাওয়াতের সময় নাজিল হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেকোনো সময় সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করলে হাদিস অনুযায়ী এই আমল আদায় করা হয় - ইনশাআল্লাহ।

 


সম্পর্কিত নিউজ