শাওয়ালের ৬ রোজা: একটানা রাখা কি বাধ্যতামূলক? কাযা রোজার সাথে আদায় হবে?

শাওয়ালের ৬ রোজা: একটানা রাখা কি বাধ্যতামূলক? কাযা রোজার সাথে আদায় হবে?
ছবির ক্যাপশান, শাওয়ালের ৬ রোজা: একটানা রাখা কি বাধ্যতামূলক? কাযা রোজার সাথে আদায় হবে?

শাওয়াল মাস শুরু হতেই আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এই ছয়টি রোজা রাখার আসল নিয়ম কী? অনেকে মনে করেন এই রোজাগুলো ঈদের পরপরই টানা রাখতে হয়, আবার কেউ ভাবেন মাসের যেকোনো সময়ও রাখা যায়। আসলে ইসলামের বিধান কী বলে? বিশেষ করে মা বোনদের রমজানের কাজা রোজা আর শাওয়ালের নফল রোজার মধ্যে কোনটি আগে রাখবেন? আজকের এই প্রতিবেদনটিতে সহীহ হাদীসের আলোকে শাওয়ালের রোজার সওয়াব, গুরুত্ব এবং আপনার মনে থাকা সাধারণ সব জিজ্ঞাসার সহজ ও স্বচ্ছ সমাধান তুলে ধরা হলো ইং শা আল্লাহ।

শাওয়ালের রোজা কি একটানা রাখতে হবে?
শাওয়ালের ছয়টি রোজা মাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেকোনো সময়ই রাখা যায়। তবে উত্তম হলো এই রোজাগুলো লাগাতার বা ধারাবাহিকভাবে রাখা।

দলীল মতে, হযরত আবূ আয়্যূব আল-আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি রমজান মাসের সিয়াম পালন করল, অতঃপর তার সাথে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা পালন করল, সে যেন সারা বছর রোজা পালন করল।" (মুসলিম : ১১৬৪))

ইবাদতে ত্বরান্বিত করা বা দ্রুত নেক কাজ সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে ওলামায়ে কেরাম একে ধারাবাহিকভাবে রাখাকেই বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তবে কেউ চাইলে বিরতি দিয়ে সারা মাসের মধ্যে যেকোনো ছয় দিন এই রোজা পূর্ণ করতে পারেন।

আমাদের অনেকেরই অভ্যাস থাকে প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার নফল রোজা রাখা। যদি কেউ এই নির্দিষ্ট দিনগুলোতে শাওয়ালের রোজার নিয়ত করেন, তবে তিনি একসাথে দুটি সওয়াবই পাবেন, ইনশাআল্লাহ। অর্থাৎ, একই সাথে শাওয়ালের রোজার হক আদায় হবে এবং সোমবার বা বৃহস্পতিবার রোজা রাখার যে সুন্নত সওয়াব, সেটিও অর্জিত হবে। এর জন্য আলাদাভাবে রোজা রাখার প্রয়োজন নেই। বরং নিয়তের মাধ্যমেই উভয় ফজিলত লাভ করা সম্ভব।

তবে যদি কারো রমজানের ফরজ রোজা কাজাঁ থাকে, তবে আগে সেই ফরজ রোজাগুলো আদায় করে নেওয়া উত্তম, এরপর শাওয়ালের নফল রোজা শুরু করা উচিত এবং শাওয়াল মাস শেষ হওয়ার আগেই এই ছয়টি রোজা সম্পন্ন করতে হবে।

‘ফাতাওয়াস্‌ সিয়াম’ (৪৩৮) এ শাইখ ইবনে উছাইমীন বলেছেন,“যে ব্যক্তি আরাফাতের দিন অথবা আশুরার দিনে রোযা পালন করে এবং তাঁর উপর রমজানের কাযা রোযা অনাদায় থাকে তবে তাঁর রোযা রাখাটা সহীহ। কিন্তু তিনি যদি এই রোযার মাধ্যমে রমজানের কাযা রোযা পালনেরও নিয়্যত করেন তবে তাঁর দুটি সাওয়াব হবে। আরাফাতের দিন অথবা আশুরার দিন রোযা পালনের সাওয়াব ও কাযা রোযা আদায়ের সওয়াব। এটি সাধারণ নফল রোযার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রমজানের রোযার সাথে যে নফল রোযার কোন সম্পর্ক নেই। তবে শাওয়ালের ছয় রোযা রমজানের সাথে সম্পৃক্ত। সে রোযা রমজানের কাযা রোযা আদায়ের পরেই রাখতে হবে। তাই যদি কেউ কাযা আদায়ের আগে তা পালন করে তবে তিনি এর সওয়াব পাবেন না। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বলেছেন :

“যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোযা পালন করল,এর সাথে শাওয়াল মাসেও ছয়দিন রোযা পালন করল, সে যেন গোটা বছর রোযা রাখল।”

আর এটি জানা বিষয় যে, যার উপর কাযা রোযা রয়ে গেছে সে রমজান মাসে রোযা পালন করেছে বলে ধরা হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার কাযা রোযা আদায় সম্পূর্ণ করে।”[সংকলিত - "HadithBD"]


সম্পর্কিত নিউজ