{{ news.section.title }}
নিউ জিল্যান্ড বনাম আফগানিস্তান: রশিদ খানের ঘূর্ণিতে ম্যাচে নাটকীয় মোড়
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিউ জিল্যান্ড ও আফগানিস্তানের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচে রশিদ খান নিজের অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে গ্লেন ফিলিপসকে ফেরত পাঠিয়ে ম্যাচের গতি ঘুরিয়ে দেন। তবে তার আগ পর্যন্ত নিউ জিল্যান্ডের পাল্টা আক্রমণ আফগান শিবিরে বড় চাপ সৃষ্টি করেছিল।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টিম সাইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপস ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ইনিংসের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করেন। দুজনের আক্রমণাত্মক জুটি দ্রুত রান তুলতে শুরু করলে আফগানিস্তানের বোলাররা কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যান। বিশেষ করে ফিলিপসের আগ্রাসী শট নির্বাচন ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।
তবে অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার রশিদ খান ঠিক সময়েই নিজের সেরাটা মেলে ধরেন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ফিলিপসকে আউট করে তিনি আফগানিস্তানকে ম্যাচে ফেরান। এই উইকেটের পর নিউ জিল্যান্ডের রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায় এবং ম্যাচ আবার ভারসাম্যে ফিরে আসে।
এর আগে ব্যাট হাতে আফগানিস্তানকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন গুলবাদিন নাইব। তার বিধ্বংসী হাফসেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে আফগানিস্তান তোলে ১৮২ রান। শুরুতে উইকেট হারালেও নাইব ও আতাল জুটি গড়ে ইনিংস সামাল দেন। পঞ্চাশের বেশি রানের এই জুটি আফগান ব্যাটিংকে স্থিতি এনে দেয় এবং শেষ দিকের ওভারগুলোতে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে।
নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে শুরুতেই দারুণ প্রভাব ফেলেন লকি ফার্গুসন। এক ওভারে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে তিনি আফগানিস্তানকে চাপে ফেলে দেন। নতুন বল হাতে কিউই পেসাররা টাইট লাইন ও লেন্থে বল করে আফগান ব্যাটসম্যানদের সহজে রান তুলতে দেননি।
চেন্নাইয়ের এম চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। স্পিন সহায়ক উইকেট বিবেচনায় রেখে তারা একাদশে তিনজন স্পেশালিস্ট স্পিনার রাখে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনের এই ম্যাচকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।
ভারতে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সিরিজে ভালো ফল না পাওয়ায় কিছুটা চাপে থেকেই বিশ্বকাপে এসেছে নিউ জিল্যান্ড। উপমহাদেশের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়াই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে টপ অর্ডারে টিম সাইফার্ট ও ফিন অ্যালেন দ্রুত রান তোলার সক্ষমতা রাখেন, যা কিউইদের বড় শক্তি।
মিডল অর্ডারে রাচিন রবীন্দ্র, মার্ক চ্যাপম্যান ও ডেভন কনওয়ের ওপর ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণের মূল ভরসা রশিদ খান। তার সঙ্গে মুজিব উর রহমান ও নূর আহমদের স্পিন বৈচিত্র্য যে কোনো ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে নিউ জিল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং বনাম আফগানিস্তানের স্পিননির্ভর আক্রমণ এই ম্যাচকে পরিণত করেছে কৌশলগত লড়াইয়ে। উইকেট যত এগোচ্ছে, স্পিনারদের প্রভাব তত বাড়ছে, আর সেখানেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের ইঙ্গিত মিলছে।