টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে সবচেয়ে বড় হার উপহার দিল দ. আফ্রিকা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে সবচেয়ে বড় হার উপহার দিল দ. আফ্রিকা
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

টানা চার জয়ে দাপট দেখানো দলটা যেন এক রাতেই বদলে গেল। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সুপার এইট পর্বে ঘরের মাঠ আহমেদাবাদে ৭৬ রানের বড় হারে চাপে পড়ে গেল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে এই হার শুধু ম্যাচ হারাই নয়, সেমিফাইনালের পথে বড় ধাক্কা।

ম্যাচের শুরুতে নিয়ন্ত্রণ ছিল ভারতের হাতেই। জসপ্রীত বুমরাহর আগুনে বোলিংয়ে ২০ রানেই তিন উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ান ডেভিড মিলার। মাত্র ৩৫ বলে ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংসে ম্যাচের রং পাল্টে দেন তিনি।

তার সঙ্গে ডিওয়াল্ড ব্রেভিস ৪৫ এবং ট্রিস্টান স্টাবস ৪৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। অধিনায়ক এইডেন মার্করামের নেতৃত্বে প্রোটিয়ারা দাঁড় করায় ১৮৭ রানের লড়াকু সংগ্রহ।

১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ভারত। ২০ রানের মধ্যে ফিরে যান টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার। ইশান কিষান রানের খাতা খুলতেই পারেননি। টানা তিন ম্যাচে শূন্য মারা অভিষেক শর্মা এদিন করেন ১২ বলে ১৫ রান।

মাঝে একমাত্র প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন শিবম দুবে। ৩৭ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেললেও সঙ্গ পাননি অন্যদের কাছ থেকে। সূর্যকুমার যাদবের দল ১১১ রানেই গুটিয়ে যায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মার্কো ইয়ানসেন নেন চার উইকেট। স্পিনার কেশভ মহারাজ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিন উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা শেষ করে দেন। ম্যাচসেরা হন ডেভিড মিলার।


রানের ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি ভারতের সবচেয়ে বড় হার। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৯ রানে হেরেছিল ভারত।

২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর এই প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্টে পরাজয়ের মুখ দেখল ভারত। মাঝে ২২ ম্যাচে ২১ জয় ও একটি পরিত্যক্ত ম্যাচ ছিল তাদের ঝুলিতে।

এই হারের বড় প্রভাব পড়েছে নেট রানরেটে - নেমে গেছে -৩.৮০-এ। এখন ভারতের সামনে সমীকরণ পরিষ্কার কিন্তু কঠিন।

বাকি দুই ম্যাচ:
২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে
১ মার্চ কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে

পয়েন্ট সমান হলে আগে দেখা হবে জয়সংখ্যা, এরপর নেট রানরেট, তারপর মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল। সবকিছু সমান থাকলে আইসিসি র‍্যাংকিং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।

অর্থাৎ শুধু জিতলেই চলবে না, জিততে হবে বড় ব্যবধানে। একই সঙ্গে তাকিয়ে থাকতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার বাকি ম্যাচগুলোর দিকেও। কোনো অঘটন গ্রুপের হিসাব আরও জটিল করে দিতে পারে।

ঘরের মাঠে স্বপ্ন বাঁচাতে হলে এখন সূর্যকুমার যাদবদের সামনে একটাই পথ - দাপুটে প্রত্যাবর্তন।
 


সম্পর্কিত নিউজ