{{ news.section.title }}
টানা দুই হারে শিরোপার দৌড়ে পিছিয়ে রিয়াল
গত সপ্তাহান্তে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ৪–১ গোলের বড় জয়ে বার্সেলোনা আগে থেকেই ৪ পয়েন্ট এগিয়ে গিয়েছিল। গেটাফের বিপক্ষে জিতলে রিয়াল চাইলে আবার ব্যবধান কমিয়ে ১ পয়েন্টে নামিয়ে আনতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় মাদ্রিদের ক্লাবটি। বরং হার দিয়ে শিরোপা–লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও নাজুক করে ফেলেছে তারা। লিগে ২৬ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৬৪, আর রিয়ালের ৬০-তালিকার শীর্ষ দুইয়ে থেকে গেলেও এই ব্যবধান বড় ধাক্কাই হয়ে এসেছে রিয়ালের জন্য।
ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয় গেটাফের উরুগুয়েন ফরোয়ার্ড মার্তিন সাতরিয়ানোর একটি অসাধারণ গোল। ৩৯ মিনিটে স্বদেশি মাউরো আরামবারির পাস থেকে বক্সের কাছাকাছি জায়গা থেকে দারুণ এক ভলিতে বল জালে পাঠান তিনি। রিয়ালের ডিফেন্স ওই মুহূর্তে ছিল ছন্নছাড়া, আর সেটিই কাজে লাগায় গেটাফে। এরপর রিয়াল একাধিকবার সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি। গেটাফের গোলরক্ষক দাভিদ সোরিয়া ম্যাচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে রিয়ালকে হতাশায় ভাসান। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শুরুতেই পাওয়া এক সহজ সুযোগ এবং আর্দা গুলারের একটি শক্তিশালী শট-দুটিই ঠেকিয়ে দেন তিনি।
এই হার রিয়ালের জন্য শুধু পয়েন্ট হারানোর গল্প নয়-এটি ইতিহাসেও একটি বিব্রতকর অধ্যায় যোগ করেছে। ২০২০ সালের পর প্রথমবার লা লিগায় টানা দুই ম্যাচ হারল রিয়াল। এর আগে ওসাসুনার বিপক্ষে ২–১ গোলে হেরেছিল তারা। তার ওপর বার্নাব্যুতে ২০০৮ সালের পর প্রথমবার জয়ের স্বাদ পেল হোসে বোরদালাসের গেটাফে-যা তাদের জন্য বড় অর্জন। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে গেটাফে উঠে গেছে ১১ নম্বরে।
রিয়ালের জন্য দুঃসংবাদ ছিল ম্যাচের শেষদিকে লাল কার্ড। যোগ করা সময়ে রেফারির সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনায় জড়িয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফরোয়ার্ড/মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো। ফলে পরের ম্যাচে তাকে পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হলো, যা স্কোয়াড ম্যানেজমেন্টে বাড়তি চাপ ফেলতে পারে।
তবে রিয়ালের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন আক্রমণভাগে ধারাবাহিকতা ও পূর্ণ শক্তির অনুপস্থিতি। দলের অন্যতম বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপে হাঁটুর চোটে স্কোয়াডে নেই। চিকিৎসার জন্য তিনি বর্তমানে ফ্রান্সে আছেন। এমবাপেকে ছাড়াই রিয়াল সর্বশেষ দুই ম্যাচ খেলেছে-এবং দুটোতেই হেরেছে। এমবাপে না থাকায় ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সঙ্গে আক্রমণে ছিলেন গনজালো গার্সিয়া, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত প্রভাব দেখা যায়নি। ফলে শিরোপা–লড়াইয়ের চাপের সঙ্গে ইনজুরির ধাক্কাও একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে তাদের।
ম্যাচ শেষে কোচ আলভারো আরবেলোয়া স্বীকার করেন, দল আরও ভালো খেলতে পারত। তবে তিনি হতাশার মধ্যেও লড়াই ছাড়তে নারাজ। আরবেলোয়া বলেন, “নিঃসন্দেহে আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। আমার খেলোয়াড়রা চেষ্টা করেছে, এবং প্রতিপক্ষের চেয়ে আমাদের সুযোগও বেশি ছিল। কিন্তু ফুটবলে শুধু সুযোগ পেলেই হয় না-গেটাফে আজ দারুণ খেলেছে।” একই সঙ্গে শিরোপা–স্বপ্ন নিয়ে তিনি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন, “এখানে কেউ হাল ছাড়ছে না। এটা রিয়াল মাদ্রিদ-শেষ ম্যাচ পর্যন্ত লড়াই চলবে। চার পয়েন্টের ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলা সম্ভব, আমরা সে লড়াই করব।”
রিয়ালের সামনে সময়টা এখন সবচেয়ে কঠিন। আগামী শুক্রবার লিগে সেল্তা ভিগোর মাঠে খেলতে হবে, এরপরই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষা। বড় ম্যাচের আগে ফর্ম, আত্মবিশ্বাস এবং স্কোয়াডের ফিটনেস-সব দিক থেকেই রিয়ালকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এমবাপে ফিরবেন কি না, সেটাও এখন বড় প্রশ্ন। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়-টানা দুই হারের পর শিরোপা–লড়াইয়ে রিয়ালের পথ আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে গেল।