{{ news.section.title }}
শিলাবৃষ্টি কেন হয় জানেন কী?
- Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
শিলাবৃষ্টির কারণে প্রায়শই মৌসুমের শুরুতেই ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। বিশেষ করে উঠতি ফসল এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়। কৃষকদের জন্য এটি নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়, কারণ বাংলাদেশে শিলাবৃষ্টি একটি পরিচিত ঘটনা।
দেশে সাধারণত বৈশাখ মাসের আগে ও পরে শিলাবৃষ্টি দেখা যায়। অতিরিক্ত গরমের প্রভাবে গ্রীষ্মকালেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে আবহাওয়া ক্যালেন্ডার অনুযায়ী একে পুরোপুরি গ্রীষ্ম না বলে প্রাক-মৌসুমী সময় বলা হয়, যা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সাধারণত মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে এই সময়কাল শুরু হলেও কোনো কোনো বছর ফেব্রুয়ারি মাসেও শিলাবৃষ্টি দেখা যায়।
এ কারণেই চৈত্র মাসেও শিলাবৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এই সময়ে হওয়া ভারী শিলাবৃষ্টিতে উঠতি ফসলসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিলার আকার বড় হওয়ায় বসতঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিলাবৃষ্টির ধরনেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে জলবায়ু পরিবর্তনই এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।
বাংলাদেশে মার্চ ও এপ্রিল মাসে শিলাবৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকে। এর পেছনে আবহাওয়াগত কারণের পাশাপাশি দেশের ভৌগলিক অবস্থানও ভূমিকা রাখে। আবহাওয়ার স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী উষ্ণ বায়ু উপরের দিকে উঠে যায় এবং শীতল বায়ু নিচের দিকে নামে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে যদি শীতল পানির উৎস পাওয়া যায়, তখন মেঘের ভেতরে বরফ জমতে শুরু করে। একপর্যায়ে বরফের ওজন বেড়ে গেলে বাতাস আর সেটিকে ধরে রাখতে পারে না। তখন বজ্রমেঘের সঙ্গে বরফ ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে, যা শিলাবৃষ্টি হিসেবে পরিচিত।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বৃষ্টির ফোঁটাগুলো নিচে নামার সময় কখনো কখনো ঊর্ধ্বমুখী বাতাসের চাপে আবার ওপরে উঠে যায়। ওপরে উঠে ফোঁটাগুলো আরও ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হয়। এরপর ভারী হয়ে আবার নিচে নামতে থাকে। এই ওঠানামার প্রক্রিয়া কয়েকবার ঘটলে পানির ফোঁটার একটি অংশ ধীরে ধীরে ছোট ছোট বরফখণ্ডে পরিণত হয়। একসময় এগুলো এত ভারী হয়ে যায় যে আর ওপরে উঠতে পারে না এবং বৃষ্টির সঙ্গে শিলা হিসেবে নিচে নেমে আসে।
শিলার আকার নির্ভর করে মূলত হিমাংক রেখার অবস্থানের ওপর। সাধারণত ১৪ হাজার ফুটের নিচে যদি হিমাংক রেখা থাকে এবং সেখানে বজ্রমেঘ তৈরি হয়, তাহলে শিলার আকার তুলনামূলক বড় হয় এবং কম দূরত্ব অতিক্রম করে মাটিতে নেমে আসে। তবে হিমাংক রেখা যদি আরও উঁচুতে অবস্থান করে, সে ক্ষেত্রে শিলাবৃষ্টির স্থায়িত্ব কমে যায়। কারণ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে শিলাখণ্ড গলতে শুরু করে।
ইউএস ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঘণ্টায় ১০৩ কিলোমিটার বেগের ঊর্ধ্বমুখী বাতাস গলফ বলের সমান একটি শিলাখণ্ড ধরে রাখতে পারে। আবার প্রায় ২৭ শতাংশ ক্ষেত্রে শিলার আকার বেসবল পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে। প্রবল ঝড়ের সময় বজ্রমেঘে তৈরি হওয়া শিলার ব্যাস ২৫ মিলিমিটার বা এক ইঞ্চিরও বেশি হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে শিলাবৃষ্টি নিয়ে অনেককে উচ্ছ্বসিত হতে দেখা গেলেও এর ক্ষতিকর দিক সবচেয়ে ভালো বোঝেন দেশের কৃষকেরা। শিলাবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হয়, নিম্নবিত্ত মানুষের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই শিলাবৃষ্টির সময় সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। একই সঙ্গে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়ানোও সময়ের দাবি।