{{ news.section.title }}
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসি চালুর আগে সার্ভিসিং করানো জরুরি
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
শীতের ঠান্ডা কাটতে না কাটতেই গরমের আভাস মিলছে, আর তখনই অনেকের চোখ যাচ্ছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘরের এসির দিকে। দীর্ঘ কয়েক মাস, এমনকি এক–দেড় বছর বন্ধ থাকার পর হুট করেই এসি অন করা মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত নয়।
এতে যেমন প্রত্যাশিত ঠান্ডা পাওয়া যায় না, তেমনি অজান্তেই বড় ধরনের যান্ত্রিক সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে। তাই গরম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এসি চালুর আগে প্রয়োজনীয় সার্ভিসিং করানোই সবচেয়ে নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের কাজ। এসি চালুর আগে করণীয়-
১. এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা বা বদলানো
দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকলে ফিল্টারের ভেতরে ধুলোবালি ও ক্ষতিকর জীবাণু জমে যায়। এতে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা হয় না। অনেক সময় বাজে গন্ধও ছড়াতে পারে। তাই এসি চালুর আগে ফিল্টার খুলে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। ফিল্টার পুরোনো বা নষ্ট হয়ে গেলে নতুন ফিল্টার ব্যবহার করা উচিত।
২. ইনডোর ইউনিট ভালোভাবে পরিষ্কার করা
ইনডোর ইউনিটের ভেতরের কুলিং কয়েল ও ফ্যান পরিষ্কার না থাকলে এসির কার্যক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়। এতে ঠান্ডা কম পাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে এখানে জীবাণু বা ছত্রাক জমার সম্ভাবনাও থাকে। তাই অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে ইনডোর ইউনিট গভীরভাবে পরিষ্কার করানো সবচেয়ে ভালো সমাধান।
৩. আউটডোর ইউনিট পরীক্ষা করা
খোলা জায়গায় থাকা আউটডোর ইউনিটে পাতা, ধুলা বা ময়লা জমে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। কখনো কখনো পাখির বাসাও তৈরি হয়। এতে তাপ বের হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং এসির উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে। ফলাফল হিসেবে কুলিং কমে যায় এবং যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আউটডোর ইউনিট পরিষ্কার ও ফ্যান সচল আছে কি না পরীক্ষা করা জরুরি।
৪. রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ঠিক আছে কি না দেখা
পুরোনো এসি বা দীর্ঘদিন ব্যবহার না হলে ধীরে ধীরে গ্যাস কমে যেতে পারে। গ্যাসের পরিমাণ ঠিক না থাকলে এসি চললেও ঘর ঠান্ডা হয় না এবং কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। তাই এসি চালুর আগে গ্যাস লিক আছে কি না পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন হলে গ্যাস রিফিল করানো দরকার।
৫. ড্রেন পাইপ পরিষ্কার রাখা
এসি চলার সময় যে পানি বের হয়, তা ড্রেন পাইপ দিয়ে বাইরে চলে যায়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে এই পাইপে শ্যাওলা বা ময়লা জমে ব্লক হয়ে যেতে পারে। এর ফলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ার ঝামেলা দেখা দেয়। আগেই ড্রেন পাইপ পরিষ্কার করলে এই সমস্যা সহজেই এড়ানো যায়।
৬. ইলেকট্রিক সংযোগ ও রিমোট পরীক্ষা করা
দীর্ঘ সময় ব্যবহার না হলে তারের সংযোগ ঢিলে হয়ে যেতে পারে বা প্লাগে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি রিমোটের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়াও খুব সাধারণ ব্যাপার। তাই এসি চালুর আগে মেইন সুইচ, প্লাগ, তার এবং রিমোট - সবকিছু ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।
৭. ট্রায়াল রান দিয়ে দেখা
সব কাজ শেষ হওয়ার পর অন্তত ১৫–২০ মিনিট এসি চালিয়ে দেখা উচিত। এতে ঠান্ডা ঠিকমতো হচ্ছে কি না, অস্বাভাবিক শব্দ বা পানি পড়ছে কি না - সব আগেই বোঝা যায়। এই ছোট পরীক্ষা ভবিষ্যতের বড় সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
এসি ব্যবহার শুরুর আগে প্রয়োজনীয় সার্ভিসিং করানো জরুরি। এতে গরমের পুরো মৌসুমে এসি ঠিকভাবে কাজ করে, কুলিং স্বাভাবিক থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ বা হঠাৎ সমস্যার ঝুঁকি কমে।