{{ news.section.title }}
ইন্টারনেটে ডাটা উধাও? ঘোস্ট প্যাকেট- এর রহস্য ও অদৃশ্য ট্রাফিক জ্যাম!
ইন্টারনেটের সুবিশাল মহাসড়কে প্রতিটি সেকেন্ডে কোটি কোটি তথ্যের আদান প্রদান ঘটছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার পাঠানো প্রতিটা মেসেজ বা দেখা ভিডিওর ছোট ছোট টুকরো বা ডেটা প্যাকেট সবসময় গন্তব্যে পৌঁছায় না? নেটওয়ার্কিংয়ের ভাষায় একে বলা হয় প্যাকেট লস। এই হারিয়ে যাওয়া ঘোস্ট প্যাকেট বা ভুতুড়ে ডেটাগুলো আসলে যায় কোথায়? কেনই বা তারা মাঝপথে পথ হারিয়ে ফেলে! আজকের এ প্রতিবেদনে থাকছে ইন্টারনেট পর্দার আড়ালের এই অদৃশ্য নিখোঁজ রহস্য।
ডেটা প্যাকেট কী এবং এটি কীভাবে ভ্রমণ করে?
ইন্টারনেটে আমরা যা ই দেখি বা পাঠাই, তা সরাসরি একবারে যায় না। মনে করুন, আপনি একটি ছবি পাঠাচ্ছেন। ইন্টারনেট প্রোটোকল (IP) সেই ছবিটিকে হাজার হাজার ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করে ফেলে। প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে একটি ঠিকানা লেখা থাকে, কোথা থেকে আসছে এবং কোথায় যাবে। এই প্যাকেটগুলো বিভিন্ন রাউটার এবং সার্ভারের মধ্য দিয়ে দৌড়ে গন্তব্যে পৌঁছায় এবং সেখানে গিয়ে আবার জোড়া লেগে পূর্ণাঙ্গ ছবিতে রূপ নেয়। কিন্তু এই যাত্রাপথ সব সময় মসৃণ হয় না।
কেন ডেটা প্যাকেটগুলো ভুতুড়ে হয়ে যায়?
তথ্য হারিয়ে যাওয়ার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করে:
১. নেটওয়ার্ক কনজেশন বা ট্রাফিক জ্যাম। রাস্তার মতো ইন্টারনেটেও ট্রাফিক জ্যাম হয়। যখন একটি রাউটারের ক্ষমতার চেয়ে বেশি ডেটা একসাথে চলে আসে, তখন রাউটার সব প্যাকেট সামলাতে পারে না। তখন সে নতুন আসা প্যাকেটগুলোকে গ্রহণ না করে ড্রপ (Drop) করে দেয়। এই ড্রপ হওয়া প্যাকেটগুলোই হারিয়ে যাওয়া ডেটা।
২. হার্ডওয়্যার ত্রুটি ও নয়েজ। পুরানো ক্যাবল, দুর্বল রাউটার বা বৈদ্যুতিক চৌম্বকীয় হস্তক্ষেপ, ডেটা প্যাকেটের ভেতরে থাকা ইলেকট্রনিক সংকেতকে নষ্ট করে দিতে পারে। যদি একটি প্যাকেটের সামান্য অংশও এমনকি ১ বিট তথ্যও বিকৃত হয়, তবে গন্তব্যের সার্ভার সেই প্যাকেটটিকে ভুল হিসেবে শনাক্ত করে ডিলিট করে দেয়।
৩. টিটিএল (Time To Live) বা প্যাকেটের আয়ুষ্কাল। প্রতিটি ডেটা প্যাকেটের একটি নির্দিষ্ট আয়ু থাকে যাকে বলা হয় TTL। এটি মূলত একটি সংখ্যা, যেমন- ১২৮ বা ৬৪। প্যাকেটটি যখনই একটি রাউটার অতিক্রম করে, এই সংখ্যাটি এক এক করে কমতে থাকে। যদি কোনো প্যাকেট ভুল পথে ঘুরপাক খেতে খেতে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তার TTL শূন্য হয়ে যায়, তবে রাউটারটি সেই প্যাকেটটিকে ধ্বংস করে ফেলে যাতে সেটি ইন্টারনেটে অনন্তকাল ঘুরে বেড়িয়ে জ্যাম তৈরি না করে।
হারিয়ে যাওয়া ডেটাগুলো আসলে কোথায় যায়?
অনেকে মনে করেন এই ডেটাগুলো হয়তো মহাকাশে বা কোনো গোপন সার্ভারে জমা হয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি যান্ত্রিক!
যখন একটি রাউটার কোনো প্যাকেট ড্রপ করে, তখন সেটি আসলে মেমরি থেকে মুছে ফেলা হয়। এটি কোনো ফিজিক্যাল বস্তু নয়, বরং বিদ্যুৎ বা আলোর স্পন্দন। যখন সিগন্যালটি গ্রহণ করা হয় না, তখন সেই শক্তিটুকু তাপে রূপান্তরিত হয়ে মিলিয়ে যায়। অর্থাৎ, হারিয়ে যাওয়া ডেটার আক্ষরিক অর্থেই আর কোনে অস্তিত্ব থাকে না।
ইন্টারনেটের একটি বিশেষ প্রোটোকল আছে যার নাম TCP (Transmission Control Protocol)। এটি খুব সতর্ক পাহারাদারের মতো কাজ করে। যদি গন্তব্যের সার্ভার দেখে যে কিছু প্যাকেট নিখোঁজ, সে সাথে সাথে প্রেরককে একটি সিগন্যাল পাঠায়। তখন প্রেরক সেই নিখোঁজ প্যাকেটটি আবার তৈরি করে পাঠায়। এভাবেই আমরা ভিডিও বা মেইল সম্পূর্ণভাবে দেখতে পাই।
ঘোস্ট প্যাকেটের প্রভাব:
প্যাকেট লস যখন বেশি হয়, তখন আপনি ইন্টারনেটে কিছু সমস্যা অনুভব করেন। যেমন-
⇨ ল্যাগ (Lag): অনলাইন গেমিং বা ভিডিও কলে কথা আটকে যাওয়া।
⇨ বাফারিং: ভিডিও লোড হতে দেরি হওয়া কারণ নিখোঁজ প্যাকেটগুলো আবার আসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
⇨ অসম্পূর্ণ ছবি বা ওয়েবসাইট: মাঝেমধ্যে ওয়েবসাইট লোড হলেও ছবি দেখা যায় না, কারণ সেই ছবির প্যাকেটগুলো ঘোস্ট হয়ে গেছে।