{{ news.section.title }}
চামড়া পাচার রোধে সীমান্তজুড়ে বিজিবির কড়া নজরদারি
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে যশোর ও খুলনার সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, পুশইন এবং কোরবানির পশুর চামড়া পাচার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ঈদের আগে ও পরে সীমান্তকেন্দ্রিক যেকোনো অপরাধ প্রতিরোধে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহায় বিপুলসংখ্যক পশু কোরবানি হওয়ায় প্রতিবছর সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে যশোর ও খুলনা অঞ্চলের সীমান্তপথগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে এবার আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় দিন-রাত টহল চালানোর পাশাপাশি রাতের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেছেন, কোরবানির পশুর চামড়া যেন কোনোভাবেই সীমান্ত দিয়ে পাচার না হতে পারে, সে জন্য বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পুশইন, মাদক, চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধেও সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।
খুলনা ২১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ আহসানও সীমান্তে বাড়তি সতর্কতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঈদকে ঘিরে সীমান্তে যে কোনো ধরনের অপরাধের চেষ্টা ঠেকাতে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা দেখলে দ্রুত বিজিবিকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, যশোরের শার্শা উপজেলার প্রায় ১০২ কিলোমিটার সীমান্ত বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। কাশিপুর, শালকোনা, শিকারপুর, ধান্যখোলা, রঘুনাথপুর, বেনাপোলের পুটখালি, দৌলতপুর, সাদিপুর, ঘিবা, গোগা, রুদ্রপুর, অগ্রভুলোট, পাঁচভুলোট ও দাদখালি সীমান্ত এলাকাকে চামড়া পাচারের সম্ভাব্য রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে শুধু চামড়া পাচার নয়, অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন, মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গেও দফায় দফায় যোগাযোগ ও সীমান্ত বৈঠক করা হচ্ছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বিত নজরদারি সীমান্ত অপরাধ কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজিবি বলছে, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ছাড়া সীমান্ত অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তাই সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে চামড়া পাচার, চোরাচালান ও অবৈধ পারাপারের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।
কোরবানির পর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহনের সময় কিছু অসাধু চক্র কম দামে চামড়া কিনে সীমান্তপথে পাচারের চেষ্টা করতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সীমান্তঘেঁষা সড়ক, ঘাট, মাঠপথ ও অরক্ষিত পয়েন্টগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ঈদুল আজহাকে ঘিরে যশোর-খুলনা সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের আগে, ঈদের দিন এবং ঈদ-পরবর্তী সময়েও সীমান্তে টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত দিয়ে কোরবানির পশুর চামড়া পাচার, পুশইন বা যেকোনো ধরনের অপরাধের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।