{{ news.section.title }}
পক্ষপাতিত্ব ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগে জাবির শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক সাবিহা কবীরের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ, ব্যক্তিগত আক্রোশ, অব্যবস্থাপনা এবং অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী খেলোয়াড়রা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান অভিযোগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার নারী ফুটবল ও ভলিবল দলের কয়েকজন খেলোয়াড় তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সাবিহা কবীর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে দল নির্বাচন করছেন। একইসঙ্গে তিনি নিয়মিত অনুশীলনে উপস্থিত না থাকা, নারী খেলোয়াড়দের বাজেটে বৈষম্য করা এবং অপমানজনক আচরণের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাপে রাখছেন।
খেলোয়াড়দের দাবি, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের খেলাধুলায় বরাদ্দ সবসময়ই কম থাকে। অনুমোদিত বাজেট থাকলেও অনেক সময় পুরো ভাতা দেওয়া হয় না। এছাড়া অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামেরও ঘাটতি রয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে (১৩-১৪ মে) দায়িত্ব পালনকালে সাবিহা কবীর খেলোয়াড়দের নিরুৎসাহিত করেন। মাঠে তার একটি মন্তব্য খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশা তৈরি করে।
এছাড়া ১৫ মে ভলিবল দলের সঙ্গে সফরেও তার আচরণ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। খেলোয়াড়দের ভাষ্য, তিনি কোর্টে গিয়ে বকাঝকা করেন এবং ভুল নির্দেশনার কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নারী খেলোয়াড়রা আরও জানান, দল নির্বাচনের সময় পছন্দের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া হয়, আর অন্যদের বিভিন্নভাবে মানসিক চাপের মুখে রাখা হয়। এমনকি একজন খেলোয়াড় অভিযোগ করেছেন, কোচের আচরণের কারণে তিনি পরীক্ষায় রিটেক দিতে বাধ্য হয়েছেন।
খেলোয়াড়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নারী ক্রীড়াবিদদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে প্রশাসনের কাছে জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। এতে অনেক খেলোয়াড় খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বলেও তারা দাবি করেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ক্রীড়াঙ্গনে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
এ ঘটনায় ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন খেলোয়াড়রা। দাবির মধ্যে রয়েছে- উপ-পরিচালকের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নারী খেলাধুলায় পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কোচ নিয়োগ, অনুশীলনের সরঞ্জাম নিশ্চিত করা, প্র্যাকটিস ফি দ্রুত প্রদান এবং টিম নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
অভিযোগের বিষয়ে সাবিহা কবীর বলেন, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র হাতে পাননি। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান নারী খেলোয়াড়রা। তাদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনে এমন বৈষম্য ও স্বেচ্ছাচারিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।