সংস্কৃতির শুদ্ধতার বার্তা নিয়ে জাবিতে শুরু হচ্ছে “নাট্য পার্বণ ২০২৬”

সংস্কৃতির শুদ্ধতার বার্তা নিয়ে জাবিতে শুরু হচ্ছে “নাট্য পার্বণ ২০২৬”
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সহিংসতা, বিভাজন, অসহিষ্ণুতা ও মানবিক সংকট ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। এমন বাস্তবতায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে মানবিক মূল্যবোধ পুনর্গঠনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দেখছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। সেই ভাবনা থেকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আয়োজন করা হচ্ছে চারদিনব্যাপী নাট্য উৎসব “নাট্য পার্বণ ২০২৬”।

জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের আয়োজনে “রক্তিম ধরা শুচি হোক সংস্কৃতির শুদ্ধতায়” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী ১৩ থেকে ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। নাট্যচর্চা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং মানবিক চেতনা জাগ্রত করার লক্ষ্যেই এবারের এই পার্বণের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ১৩ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাট্য পার্বণের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেন জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা বলেন, বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ও মানবিক বিপর্যয়ের এই সময়ে সংস্কৃতি হতে পারে মানুষে মানুষে সংযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নাটক ও শিল্পচর্চার মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা, মানবিকতা ও শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এবারের নাট্য পার্বণের মূল উদ্দেশ্য।

 

তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক নাট্যচর্চা শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের চিন্তা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতিমুখী করে গড়ে তুলতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন তারা।

 

চারদিনব্যাপী এ আয়োজনে থাকছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, নাট্য প্রদর্শনী, পুনর্মিলনী, সাংস্কৃতিক আড্ডা এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মতো নানা আয়োজন। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে নাট্য পার্বণের মূল পর্ব।

 

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ মে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে নাট্য পার্বণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা করা হবে। ১৪ মে মঞ্চস্থ হবে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার প্রযোজিত নাটক “বিধিবাম”। নাটকটি সমাজের নানা অসঙ্গতি, সংকট ও মানবিক টানাপোড়েনকে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

পরদিন ১৫ মে মঞ্চে আসবে পদাতিক নাট্য সংসদ প্রযোজিত নাটক “পাকে বিপাকে”। সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতা ও মানুষের জীবনসংগ্রামের নানা দিক উঠে আসবে এই নাটকে। দর্শকদের জন্য নাটক দুটি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।

 

নাট্য পার্বণের সমাপনী দিনে আয়োজন করা হবে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। এদিন প্রদর্শিত হবে “সিটি অফ ডেথ” শিরোনামের চলচ্চিত্র। এর চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় রয়েছেন মঈন উদ্দীন পাঠান। চলচ্চিত্রটিতে মানবিক সংকট, সামাজিক বাস্তবতা ও সমকালীন বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। আয়োজকরা আরও জানান, নাট্য পার্বণকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইতোমধ্যেই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের মাঝেও এ আয়োজন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নাটক ও সংস্কৃতি চর্চার একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চ দেশের অন্যতম পরিচিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ হিসেবেও পরিচিত। প্রতি বছর এখানে বিভিন্ন নাট্যোৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সৃজনশীল আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

 

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে আয়োজকরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী, নাট্যপ্রেমী দর্শক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের প্রত্যাশা, নাট্য পার্বণ ২০২৬ শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ভূমিকা রাখবে।


সম্পর্কিত নিউজ