{{ news.section.title }}
চাকসুর উদ্যোগে চবিতে পুনরায় চালু হলো জোবাইক সেবা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব করতে চাকসুর উদ্যোগে পুনরায় চালু হয়েছে জোবাইক সেবা। পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি ইলেক্ট্রিক বাইসাইকেল নিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সকাল ১১টায় চাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেবাটির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) সফিকুল ইসলাম, প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁঞা, সহ-যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ওবাইদুল সালমান, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন এবং জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মেহেদী রেজা।
চাকসু সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে ৪০ দিনের জন্য ১০টি প্যাডেল-অ্যাসিস্ট জোবাইক চালু করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের পাঁচটি জোনে এসব বাইকের পার্কিং সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জোবাইকের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে বাইক ব্যবহার করতে পারবেন। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি মিনিট ১ টাকা ৫০ পয়সা।
ব্যবহারকারীদের চাহিদা ও সাড়া বিবেচনায় পরবর্তী পর্যায়ে প্রায় ১০০টি প্যাডেল-অ্যাসিস্ট জোবাইক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তখন শিক্ষার্থীদের জন্য ভাড়া কমিয়ে প্রতি মিনিট ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হবে।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁঞা বলেন, ২০১৯-২০ সালের দিকে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জোবাইক সেবা চালু হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেবাটি বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা এটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর চাকসু এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয় এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই সেবাটি আবার চালু করা সম্ভব হয়েছে।
জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মেহেদী রেজা বলেন, ২০২৩ সালে শিক্ষার্থীরা জোবাইক পুনরায় চালুর দাবিতে একটি পিটিশন করেছিলেন। পরে চাকসুর নেতৃবৃন্দও এ বিষয়ে যোগাযোগ করেন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে জোবাইক আবার ক্যাম্পাসে ফিরেছে। এবার আগের প্যাডেল সাইকেলের পাশাপাশি ইলেকট্রিক বাইক (ই-বাইক) সেবাও যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামী ৪০ দিনের মধ্যে ১০০টি প্যাডেল সাইকেলের পাশাপাশি আরও ৫০টি ই-বাইক যুক্ত করা হবে। ক্যাম্পাসজুড়ে প্রায় ২০টি নির্ধারিত পার্কিং পয়েন্ট স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ‘জো ক্যাফে’ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জোবাইক সেবা চালু হওয়ায় তিনি প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীকে ধন্যবাদ জানান। প্রথমবার কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার শিক্ষার্থীরা আরও দায়িত্বশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করবে এবং এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না।