এবার দিনের আলোয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন

এবার দিনের আলোয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন
ছবির ক্যাপশান, ছবি: জাগরণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে এবার দিনের আলোয় মোটরসাইকেল শোডাউনের অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সভাপতি আবরার শাহরিয়ারকে মোটরসাইকেল শোডাউনে নেতৃত্ব দিতে এবং বক্তব্য রাখতে দেখা যায়।

 

ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “৫ আগস্টের সময় ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কথা দিয়েছিলাম, আমরা ফিরে আসব। আমরা কথা রেখেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনোদিন জামায়াত-শিবিরের রাজাকারদের মিনি ক্যান্টনমেন্ট বা আতুড়ঘর হতে দেব না।”

 

তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে এবং শোডাউনটি কোন তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮(১) ধারার আওতায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, “ভিডিওটি আমি দেখেছি। তবে এটি কখন ধারণ করা হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিডিওটির উৎস, ধারণের সময় এবং এতে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।

 

এর আগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন, ঝুপড়ি  এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নামে পোস্টার সাঁটানোর অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত জড়িতদের শনাক্ত বা দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

সাম্প্রতিক পোস্টার সাঁটানো এবং মোটরসাইকেল শোডাউনের ঘটনায় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


সম্পর্কিত নিউজ