জবিতে গুমের শিকার ছাত্রনেতাদের স্মরণে ছাত্রদলের আলোচনা সভা

জবিতে গুমের শিকার ছাত্রনেতাদের স্মরণে ছাত্রদলের আলোচনা সভা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: জাগরণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে বিগত ১৭ বছর দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুউদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

সোমবার (১৬ জুন) বেলা ১১টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গুম থেকে প্রত্যাবর্তন: স্মৃতি, সংগ্রাম ও প্রেরণায় আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের ফিরে আসা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিগত সরকারের আমলে গুমের শিকার হওয়া ছাত্রনেতাদের স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 

মিয়া নুরুউদ্দিন অপু বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংগ্রাম করেছে। তারেক রহমানের আহ্বানে সব শ্রেণি-পেশা ও মতের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।”

 

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলনে অসংখ্য নেতাকর্মী কারাবরণ, নির্যাতন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যারা আন্দোলনের কঠিন সময়ে রাজপথে ছিলেন, তাদের অবদান ইতিহাসে সংরক্ষিত থাকবে।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, বিগত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ও পুরান ঢাকার নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অবদান ইতিহাসে মূল্যায়িত হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আনিসুর রহমান খোকন বলেন, তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধা জনি তিন মাস ১৭ দিন গুমের শিকার ছিলেন। তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্মরণ করেন এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

 

তিনি বলেন, গুম ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত কষ্টের নয়, এটি একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের মানসিক যন্ত্রণারও প্রতিচ্ছবি। অনেক পরিবার বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় থেকেছে, কিন্তু কোনো উত্তর পায়নি। সেই কঠিন সময়ের স্মৃতি এখনও তাকে নাড়া দেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, বিগত সরকারের আমলে ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গুম হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা আল-আমিন, রাসেল ও রানাসহ নিখোঁজদের স্মরণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠার জন্য অতীতের এসব ঘটনা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। গুম ও নিপীড়নের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

 

অনুষ্ঠানে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শারমিন, বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপুসহ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা গুম, বিচারবহির্ভূত নির্যাতন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

আলোচনা সভা শেষে গুমের শিকার ছাত্রনেতাদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে তাদের আত্মার মাগফিরাত এবং নিখোঁজদের পরিবারের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।


সম্পর্কিত নিউজ