জুলাইয়ে শিক্ষার্থী হামলা: জাবির ১১ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, তদন্তে আসছেন সাবেক ভিসি-প্রো-ভিসি

জুলাইয়ে শিক্ষার্থী হামলা: জাবির ১১ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, তদন্তে আসছেন সাবেক ভিসি-প্রো-ভিসি
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

জুলাইয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসর, নয় শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে বেতন অবনমন ও পদাবনতি, দুই শিক্ষককে সতর্কীকরণ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন আটজন শিক্ষক-কর্মকর্তা। এছাড়া তৎকালীন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও কোষাধ্যক্ষের ভূমিকা তদন্তে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচার কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রোববার (১৫ জুন) বিকেল ৪টা থেকে ভোর পৌনে ৫টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের টানা প্রায় ১৩ ঘণ্টার সভা শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

 

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসরাফিল আহমেদ রঙ্গন, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. আলমগীর কবির, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ও অধ্যাপক বশির আহমেদ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজউদ্দিন শিকদার, প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনের বেতন নিম্নধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আগামী পাঁচ বছর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দুই বছর পর পদোন্নতির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

 

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবালকে প্রভাষক পদে এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খানকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। তারাও দুই বছর পর শর্তসাপেক্ষে পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

 

ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ মামুনকে সতর্কীকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ড. এ মামুনকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে আইবিএ-জেইউর সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ তারেক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম খন্দকার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ছায়েদুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার খসরু পারভেজ এবং সহকারী রেজিস্ট্রার রাজীব চক্রবর্তীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “২০২৫ সালের ১৭ মার্চ গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দীর্ঘ আলোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে সিন্ডিকেট এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে শাস্তি না পান এবং কোনো অপরাধী যাতে দায় এড়িয়ে যেতে না পারেন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”

 

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৯ জন শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে স্ট্রাকচার কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করেই সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

 

উপাচার্য বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও কোষাধ্যক্ষের ভূমিকাও উঠে এসেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আগে কোনো স্ট্রাকচার কমিটি গঠন করা হয়নি। এজন্য সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচার কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ