হিজাব-নিকাব নিয়ে বিএনপি নেতার কটুক্তির প্রতিবাদে ইবিতে মানববন্ধন
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
বিএনপি নেতার হিজাব-নিকাব নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নারী শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘ইসলামী সংস্কৃতির অপব্যাখ্যা রূখে দাও; হিজাব বিদ্বেষ বন্ধ করো, নারীর স্বাধীনতা রক্ষা করো; নারীকে পোষাকে বিচার, এটাই কি তোমার সভ্যতা; চেহারা নয় সম্মান চাই, নিকাব পরি সেই শিক্ষায়; পোশাক যদি অপরাধ হয় তাহলে স্বাধীনতা কোথায়?; লজ্জা আমার অলংকার নিকাব আমার অধিকার ইত্যাদি প্লেকার্ড দেখা যায়।
এসময় মানববন্ধনের বক্তারা তাদের বক্তব্যে কটুক্তিকারী বিএনপি নেতা, সেই নেতার দল বিএনপির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সুশীল সমাজ এই কটুক্তির প্রতিবাদ না করায় তাদের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।
এসময় শিক্ষার্থী সাদীয়া মাহমুদ মিম বলেন, ‘যখন কোনো মেয়ের জিন্সপ্যান্ট, শার্ট নিয়ে কথা হয়, তখন মিডিয়া কেঁপে যায় আন্দোলনে। কিন্তু একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা যখন বোরকা আর নিকাব নিয়ে কথা বলে তখন সেখানে প্রতিবাদ করার কাউকেই আমরা শেষ অব্দি খুঁজে পাই না। আজ বলা হচ্ছে ইহুদিদের পোশাক হচ্ছে নিকাব। ইহুদি শুধু না, ইহুদি পতিতাদের পোশাক নিকাব।’
তিনি আরও বলেন, একজন বিএনপি নেতা এতো কটুক্তিমূলক কথা বলতে পারেন কীভাবে? এবং এই কথা বলার পরেও তার এগেইনস্টে কোনো ব্যবস্থা সেই সংগঠন থেকে নেওয়া হয় না। কোনো মিডিয়া, কোনো সংগঠন, কোনো ব্যক্তি এই কথার প্রতিবাদ করে না। কিন্তু ৯৮% মুসলিম অধ্যুষিত দেশে পর্দা নিয়ে কটুক্তি করা, আমরা যারা মুসলিম, আমরা যারা শরীয়তকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করি, আমরা যারা শরীয়তসম্মত উপায়ে চলতে চাই, তাদের জন্য এটা খুবই লজ্জাজনক।
আরেক শিক্ষার্থী মুমতাহিনা রিনি বলেন, গতকাল যখন আমাদের ইসলামী সংস্কৃতিকে মিসকোট করা হলো—তখন দেখলাম আপনাদের সুশীলতা চুপ হয়ে ছিল। কেন সুশীলতা চুপ হয়ে একটা নিকাবকে যখন মিসকোট করা হলো তখন কি আপনাদের ইসলামিক সংস্কৃতিকে মিসকোট করা হলো, এটা মনে পড়েনি? আমরা বলতে চাই যে, যখন একটা সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতা এমন কথা বলল, তখন আসলে সেই সংগঠন থেকে তার এগেইনস্টে কী দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ আপনারা নিলেন? তাহলে কী আমরা ভেবে নেব? আপনারা তাকে ধারণ করেন নাকি ইসলামী সংস্কৃতিকে ধারণ করেন?
শিক্ষার্থী তাজমিন রহমান বলেন, আমি এটাকে কোনভাবেই বক্তব্য হিসেবে মানি না। আমি এটাকে দেখছি নারীর প্রতি তার বিদ্বেষ তার অজ্ঞতা এবং তার নোংরা মন-মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ছিল তার কালকের এই মন্তব্য। তিনি বিএনপির একজন শীর্ষপর্যায়ের নেতা হয়েও কিভাবে বলেন নিকাব পতিতাবৃত্তিদের পোশাক। এরা যখন সংসদে যাবে, আমার মনে হয়- আমরা শাপলা চত্বরে হেফাজতের যে ন্যারেটিভ দেখেছি এমন আরেকটি ন্যারেটিভ হবে। এমন একজন নেতা যদি সংসদে যায় তাহলে আমার মনে হয় আমি নিকাব করার কারণে জেলে যেতে পারি, আমার যে ভাই দাড়ি টুপি পরে তাকেও বিশেষ ট্যাগিং দিয়ে জেলে ভরে রাখা হবে। তাই বিএনপির যে চেয়ারপারসন আছেন তারা এই নেতার বিরুদ্ধে কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন এটা অবশ্যই দৃশ্যমান হতে হবে। নারীর সম্মান নিয়ে আর কোন ছিনিমিনি চলবে না। নিকাব আমার অধিকার, নিকাব আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। নিকাব আমার স্বাধীনতা ছিল, আছে, থাকবে। ভবিষ্যতে এর দিকে যে আঙ্গুল বাড়াবে আমাদের বাঙালি সমাজে যারা মুসলিম আছে যারা ইসলামকে লালন করি, ধারণ করি আমরা সেই সকল অপশক্তিকে গুঁড়িয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করব না।
প্রসঙ্গত, গত রোববার এক গোলটেবিল বৈঠকে বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর হিজাব-নিকাবকে মুসলিমদের পোশাক হিসেবে অস্বীকার করেছিলেন এবং একে ইহুদি পতিতাদের পোশাক হিসেবে সাব্যস্ত করেছিলেন।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।