{{ news.section.title }}
ঘরে বসেই জেনে নিন প্রেগন্যান্সি পরীক্ষার সহজ উপায়
প্রেগন্যান্সি পরীক্ষার সবচেয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য উপায় হলো ফার্মেসি থেকে কেনা হোম প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট ব্যবহার করা। পিরিয়ড মিস হওয়ার অন্তত ৭ দিন পর, সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম প্রস্রাব পরীক্ষা করলে সবচেয়ে সঠিক ফলাফল (৯৯% পর্যন্ত নির্ভুল) পাওয়া যায়। কিটের নির্দেশিকা মেনে ২-৩ মিনিট অপেক্ষা করলেই ফলাফল (পজিটিভ বা নেগেটিভ) জানা যায়।
মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়া যায় কেবল পৃথিবী সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে । তার আগে নারী কে বিবাহের বৈধতার মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা হতে হয়। কোনো নারী অন্তঃসত্ত্বা হলেন কি না, তা ঝটপট ও প্রায় নির্ভুলভাবে জানতে ব্যবহার করা হয় প্রেগন্যান্সি কিট। এই যন্ত্রের ব্যবহারও খুবই সহজ।
গর্ভধারণ করলে শরীরে বিটা এইচসিজি নামে একটি হরমোন তৈরি হয়; যার উপস্থিতি প্রস্রাবেও নির্ণয় করা যায়। চাইলে নিজেই প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে জেনে নিতে পারেন। এটিই এই পরীক্ষার মূল পদ্ধতি। কিন্তু অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন সঠিক উপায়ে যন্ত্রটি ব্যবহার করা নিয়ে। ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও অনেকের মনে সংশয় দেখা দেয়।
পরীক্ষার সঠিক নিয়ম ও টিপস:
সঠিক সময়: পিরিয়ড মিস হওয়ার পর বা পিরিয়ডের সম্ভাব্য তারিখের ৭ দিন পর টেস্ট করা সবচেয়ে ভালো।
সকাল বেলার প্রস্রাব: সকালের প্রথম প্রস্রাবে hCG (Human Chorionic Gonadotropin) হরমোনের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে, যা ফলাফল নির্ভুল করতে সাহায্য করে।
পদ্ধতি: কিটের নির্দেশিকা অনুযায়ী ড্রপার দিয়ে প্রস্রাব ড্রপ করুন অথবা স্ট্রিাপটি কিছুক্ষণ প্রস্রাবে ডুবিয়ে রাখুন।
ফলাফল দেখা:
দুটি দাগ (Positive): আপনি গর্ভবতী।
একটি দাগ (Negative): আপনি গর্ভবতী নন, অথবা এইচসিজি হরমোনের মাত্রা খুব কম।
কোনো দাগ না থাকলে: কিটটি নষ্ট বা পরীক্ষাটি সঠিক হয়নি।
বিশেষ সতর্কবার্তা:
ফলাফল নেগেটিভ হলে: যদি পিরিয়ড না হয়, তবে ৩-৫ দিন পর আবার পরীক্ষা করুন।
দ্রুত ফলাফল: খুব তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করলে ভুল রেজাল্ট আসতে পারে।
নিশ্চিতকরণ: হোম টেস্ট পজিটিভ হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রক্তের পরীক্ষা বা আল্ট্রাসাউন্ড করানো উচিত।
ঘরোয়া গর্ভাবস্থা পরীক্ষার পদ্ধতিসমূহ
১. চিনি দিয়ে পরীক্ষা (Sugar Test): একটি পাত্রে এক টেবিল চামচ চিনি নিয়ে তাতে সকালের প্রথম প্রস্রাব মেশান। চিনি যদি গলে না গিয়ে জমাট বেঁধে যায় (Clump), তবে তা পজিটিভ ফলাফল হিসেবে গণ্য করা হয়।
২. লবণ দিয়ে পরীক্ষা (Salt Test): প্রস্রাবের সাথে এক চিমটি লবণ মেশান। যদি মিশ্রণটিতে সাদা ফেনা বা দইয়ের মতো জমাট বাঁধা অংশ দেখা যায়, তবে সেটি গর্ভাবস্থার লক্ষণ হতে পারে।
৩. টুথপেস্ট দিয়ে পরীক্ষা (Toothpaste Test): একটি পাত্রে সাদা টুথপেস্ট নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব দিন। টুথপেস্ট যদি নীলচে হয়ে যায় বা ফেনা তৈরি করে, তবে ফলাফল পজিটিভ ধরা হয়।
৪. বেকিং সোডা দিয়ে পরীক্ষা (Baking Soda Test): সমান পরিমাণ বেকিং সোডা এবং প্রস্রাব মেশান। যদি মিশ্রণটি সোডার বোতল খোলার মতো বুদবুদ তৈরি করে, তবে আপনি গর্ভবতী হতে পারেন।
৫. ভিনেগার দিয়ে পরীক্ষা (Vinegar Test): সাদা ভিনেগারের সাথে প্রস্রাব মেশালে যদি এর রঙ পরিবর্তন হয় বা বুদবুদ ওঠে, তবে তা গর্ভাবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
৬. শ্যাম্পু দিয়ে পরীক্ষা (Shampoo Test): শ্যাম্পু মেশানো পানির সাথে প্রস্রাব যোগ করলে যদি প্রচুর ফেনা তৈরি হয়, তবে সেটি পজিটিভ ফলাফল হিসেবে ধরা হয়।
৭. সাবান দিয়ে পরীক্ষা (Soap Test): ছোট এক টুকরো সাবানের ওপর প্রস্রাব দিলে যদি সাবানে বুদবুদ বা ফেনা দেখা দেয়, তবে তা গর্ভাবস্থার লক্ষণ হতে পারে।