{{ news.section.title }}
কনকনে শীতে জয়েন্টে কামড়ানি-ব্যথা? জেনে নিন কারণ ও সহজ দাওয়াই!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
একটু শীত আসার সাথে সাথেই অনেক মানুষ একটি খুব পরিচিত সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন । হাঁটু, কাঁধ, কোমর বা আঙুলের জয়েন্টে ব্যথা বেড়ে যাওয়া অনেকের । যারা আগে কখনো আঘাত পেয়েছেন, বাত বা দীর্ঘমেয়াদি জয়েন্ট সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই কষ্ট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে। অনেকেই একে বয়সজনিত সমস্যা বা কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু বাস্তবে ঠান্ডা আবহাওয়া ও জয়েন্ট পেইনের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যা শরীরের ভেতরের নানা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।
এই ব্যথা শুধু শারীরিক অস্বস্তিই তৈরি করে না, দৈনন্দিন চলাফেরা, ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই ঠান্ডায় জয়েন্ট পেইন কেন বাড়ে এই প্রশ্নের উত্তর জানা সবার জন্যই জরুরি।
জয়েন্ট আসলে কীভাবে কাজ করে?
জয়েন্ট,শরীরের সেই সংযোগস্থল, যেখানে দুটি বা তার বেশি হাড় মিলিত হয়। এই সংযোগস্থলগুলোকে সচল রাখতে থাকে টেনডন, কার্টিলেজ, লিগামেন্ট ও এক ধরনের তরল, যাকে বলা হয় সিনোভিয়াল ফ্লুইড। এই তরল জয়েন্টের ভেতর লুব্রিকেন্টের মতো কাজ করে, যাতে নড়াচড়া মসৃণ হয় এবং ঘর্ষণ কমে।স্বাভাবিক অবস্থায় এই পুরো ব্যবস্থাটি ভারসাম্যে থাকে। কিন্তু পরিবেশের তাপমাত্রা পরিবর্তিত হলে এই ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে জয়েন্টের ওপর।
ঠান্ডা তাপমাত্রা ও রক্তসঞ্চালন:
শীতকালে শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে স্বাভাবিকভাবেই রক্তনালিকে সংকুচিত করে। এর ফলে ত্বক ও হাত-পায়ের মতো প্রান্তিক অংশগুলোতে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। জয়েন্টগুলোও এর বাইরে নয়।রক্তপ্রবাহ কমে গেলে জয়েন্টে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ হ্রাস পায়। একই সঙ্গে ব্যথা ও প্রদাহ কমানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে যায়। এর ফল হিসেবে আগে থেকেই দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত জয়েন্টে ব্যথা আরও তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
সিনোভিয়াল ফ্লুইডের পরিবর্তন:
ঠান্ডা আবহাওয়ায় জয়েন্টের ভেতরের সিনোভিয়াল ফ্লুইড কিছুটা ঘন হয়ে যায়। গরম পরিবেশে এই তরল তুলনামূলকভাবে পাতলা থাকে, ফলে জয়েন্ট সহজে নড়ে। কিন্তু ঠান্ডায় তরলের ঘনত্ব বাড়লে নড়াচড়া কঠিন হয়। এই অবস্থায় হাঁটা, বসা বা হাত নড়ানোর সময় জয়েন্টে বাড়তি চাপ পড়ে। দীর্ঘ সময় নড়াচড়া না করলে এই কঠিনভাব আরও বাড়ে, যা শীতকালের সকালে জয়েন্ট শক্ত লাগার প্রধান কারণ।
পেশির সংকোচন ও জয়েন্টে চাপ:
শীতকালে পেশি স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত থাকে। ঠান্ডা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে শরীর পেশিকে টানটান অবস্থায় রাখে। এই সংকোচন জয়েন্টের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে হাঁটু, কোমর ও ঘাড়ের মতো ভারবাহী জয়েন্টে এই চাপ বেশি পড়ে। ফলে ব্যথা শুধু জয়েন্টে সীমাবদ্ধ থাকে না, আশপাশের পেশিতেও ছড়িয়ে পড়ে।
বায়ুচাপের পরিবর্তন ও ব্যথা:
শীতকালে আবহাওয়ার চাপ বা বায়ুচাপেও পরিবর্তন আসে। বায়ুচাপ কমে গেলে জয়েন্টের ভেতরের তরল ও টিস্যু কিছুটা প্রসারিত হয়। যেসব জয়েন্ট আগে থেকেই সংবেদনশীল বা ক্ষতিগ্রস্ত, সেখানে এই প্রসারণ ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। এজন্যই অনেকে আবহাওয়া পরিবর্তনের আগেই ব্যথা অনুভব করেন।
বাত ও দীর্ঘমেয়াদি জয়েন্ট সমস্যায় প্রভাব:
যারা বাত, অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা দীর্ঘদিনের জয়েন্ট সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে শীতের প্রভাব আরও বেশি হয়। এই রোগগুলোর ক্ষেত্রে জয়েন্টের কার্টিলেজ আগেই ক্ষয়প্রাপ্ত থাকে। ঠান্ডা পরিবেশে এই ক্ষয় আরও স্পষ্টভাবে ব্যথা হিসেবে ধরা দেয়।
শীতকালে ব্যথা বাড়ার কারণে অনেকেই চলাফেরা কমিয়ে দেন। কিন্তু এতে উল্টো সমস্যা বাড়ে, কারণ নড়াচড়া কম হলে জয়েন্ট আরও শক্ত হয়ে যায়।
কম নড়াচড়া ও জয়েন্টের জড়তা:
শীতকালে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই কম চলাফেরা করে। ঠান্ডা আবহাওয়া, কুয়াশা বা আলস্য সব মিলিয়ে শরীর কম সক্রিয় থাকে। দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শুয়ে থাকার ফলে জয়েন্টে জড়তা বাড়ে। নড়াচড়া কম হলে সিনোভিয়াল ফ্লুইড ঠিকভাবে সঞ্চালিত হয় না। এতে জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায় এবং হঠাৎ নড়াচড়ায় ব্যথা অনুভূত হয়।
বয়স ও ঠান্ডার সম্পর্ক:
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জয়েন্টের কার্টিলেজ পাতলা হয়, তরল কমে এবং নমনীয়তা হ্রাস পায়। তাই বয়স্কদের ক্ষেত্রে শীতকালের জয়েন্ট পেইন বেশি দেখা যায়। এটি শুধু বয়সের দোষ না, বয়সের সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও কিছুটা দুর্বল হয়, যা ঠান্ডার প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
মানসিক অবস্থার প্রভাব:
শীতকাল অনেকের জন্য মানসিকভাবে ক্লান্তিকর। দিনের আলো কমে যাওয়া, একঘেয়েমি ও বিষণ্নতা ব্যথার অনুভূতিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। মানসিক চাপ ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে একই ব্যথা শীতে বেশি তীব্র মনে হয়। এখানে শরীর ও মনের সংযোগটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যথা শুধু শারীরিক অনুভূতি নয়, এটি মানসিক অবস্থার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
শীত মানেই স্থায়ী ব্যথা নয়:
একটি ভুল ধারণা রয়েছে আমাদের মধ্যে, তা হলো শীতে জয়েন্ট পেইন মানেই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। বাস্তবে এটি অনেক ক্ষেত্রেই সাময়িক। তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে বা শরীর উষ্ণ থাকলে ব্যথা অনেকটাই কমে আসে। এর মানে সমস্যাকে উপেক্ষা করা উচিত,তা কিন্তু নয়। বরং শীতকালের এই সংকেতকে গুরুত্ব দিয়ে শরীরের যত্ন নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
নিয়ন্ত্রণ টিপস:
আবহাওয়া তো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো না, কিন্তু ঠান্ডার সময়গুলোতে জয়েন্টগুলিকে রক্ষা করতে এবং ব্যথা কমাতে পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। কিছু কার্যকর টিপস হলো:
১. নিজেকে উষ্ণ রাখুন! ঠান্ডা থেকে জয়েন্টগুলিকে রক্ষা করার জন্য গ্লাভস এবং মোজা সহ গরম পোশাক পরিধান করুন। হিটিং প্যাড ব্যবহার কর যেতে পারে। ব্যথাযুক্ত জয়েন্টগুলোর শক্ত হয়ে যাওয়া উপশম করতে, রক্ত প্রবাহ উন্নত করতে একটি উষ্ণ কম্প্রেস লাগান।
২। সক্রিয় থাকার চেষ্টা করুন! জয়েন্টের গতিশীলতা বজায় রাখতে শক্ত হয়ে যাওয়া কমাতে হাঁটা, সাঁতার কাটা বা যোগব্যায়ামের মতো একটু কম প্রভাবশালী ব্যায়াম করুন।প্রতিদিন স্ট্রেচ করুন। মৃদু স্ট্রেচিং নমনীয়তা উন্নত করতে এবং জয়েন্টগুলির চারপাশে টানটান ভাব দূর করতে সাহায্য করতে পারে।
৩। কিছু খাবার জয়েন্টের স্বাস্থ্যের জন্য সাহায্য করতে পারে।যেমন- স্যামন এবং তিসির বীজের মতো মাছে পাওয়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।আবার কমলালেবু, পালং শাক এবং বেরির মতো ফল এবং সবজিও প্রদাহ কমাতে পারে।
কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহন করুন। এটি জয়েন্টের স্বাস্থ্যকে সমর্থন করতে পারে। চিনিযুক্ত এবং ভাজা খাবার খাওয়া কমিয়ে দিন, যা প্রদাহের কারণ হতে পারে।
৪। হাইড্রেটেড থাকুন। শীতকালেও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। হাইড্রেশন জয়েন্টের তৈলাক্তকরণ বজায় রাখতে সাহায্য করে, শক্ত হওয়া এবং ব্যথা কমায়।
৫। স্ট্রেস পরিচালনা করুন। মানসিক চাপ শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি করে জয়েন্টের ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। আপনার মানসিক চাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, ধ্যান বা মৃদু যোগব্যায়ামের মতো শিথিলকরণ কৌশল অনুশীলন করুন।
৬। একটি স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।অতিরিক্ত ওজন হাঁটু এবং নিতম্বের মতো ওজন বহনকারী জয়েন্টগুলিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ করে, আপনি আপনার জয়েন্টগুলিতে চাপ কমাতে পারেন এবং গতিশীলতা উন্নত করতে পারেন।
৭। গ্লুকোসামিন, কনড্রয়েটিন, অথবা ভিটামিন ডি-এর মতো কিছু সাপ্লিমেন্ট জয়েন্টের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে যেকোনো সাপ্লিমেন্ট শুরুর আগে সেগুলো আপনার জন্য সঠিক তা সেটা একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিশ্চিত করুন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
যদি জয়েন্ট অতিরিক্ত ফুলে যায়, লাল হয়ে যায় বা ব্যথার কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা ও ঘুম ব্যাহত হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শীতকালে জয়েন্ট পেইন বাড়ার কারণ জানা থাকলে মানুষ নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারে। নিয়মিত হালকা নড়াচড়া, শরীর উষ্ণ রাখা এবং দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে না থাকা এসব বিষয় ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। জয়েন্টের ব্যথা উপেক্ষা করলে তা ধীরে ধীরে চলাফেরার স্বাধীনতা কমিয়ে দিতে পারে। সচেতনতা এখানেই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
জয়েন্ট আসলে কীভাবে কাজ করে?
জয়েন্ট,শরীরের সেই সংযোগস্থল, যেখানে দুটি বা তার বেশি হাড় মিলিত হয়। এই সংযোগস্থলগুলোকে সচল রাখতে থাকে টেনডন, কার্টিলেজ, লিগামেন্ট ও এক ধরনের তরল, যাকে বলা হয় সিনোভিয়াল ফ্লুইড। এই তরল জয়েন্টের ভেতর লুব্রিকেন্টের মতো কাজ করে, যাতে নড়াচড়া মসৃণ হয় এবং ঘর্ষণ কমে।স্বাভাবিক অবস্থায় এই পুরো ব্যবস্থাটি ভারসাম্যে থাকে। কিন্তু পরিবেশের তাপমাত্রা পরিবর্তিত হলে এই ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে জয়েন্টের ওপর।
ঠান্ডা তাপমাত্রা ও রক্তসঞ্চালন:
শীতকালে শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে স্বাভাবিকভাবেই রক্তনালিকে সংকুচিত করে। এর ফলে ত্বক ও হাত-পায়ের মতো প্রান্তিক অংশগুলোতে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। জয়েন্টগুলোও এর বাইরে নয়।রক্তপ্রবাহ কমে গেলে জয়েন্টে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ হ্রাস পায়। একই সঙ্গে ব্যথা ও প্রদাহ কমানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে যায়। এর ফল হিসেবে আগে থেকেই দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত জয়েন্টে ব্যথা আরও তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
সিনোভিয়াল ফ্লুইডের পরিবর্তন:
ঠান্ডা আবহাওয়ায় জয়েন্টের ভেতরের সিনোভিয়াল ফ্লুইড কিছুটা ঘন হয়ে যায়। গরম পরিবেশে এই তরল তুলনামূলকভাবে পাতলা থাকে, ফলে জয়েন্ট সহজে নড়ে। কিন্তু ঠান্ডায় তরলের ঘনত্ব বাড়লে নড়াচড়া কঠিন হয়। এই অবস্থায় হাঁটা, বসা বা হাত নড়ানোর সময় জয়েন্টে বাড়তি চাপ পড়ে। দীর্ঘ সময় নড়াচড়া না করলে এই কঠিনভাব আরও বাড়ে, যা শীতকালের সকালে জয়েন্ট শক্ত লাগার প্রধান কারণ।
পেশির সংকোচন ও জয়েন্টে চাপ:
শীতকালে পেশি স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত থাকে। ঠান্ডা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে শরীর পেশিকে টানটান অবস্থায় রাখে। এই সংকোচন জয়েন্টের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে হাঁটু, কোমর ও ঘাড়ের মতো ভারবাহী জয়েন্টে এই চাপ বেশি পড়ে। ফলে ব্যথা শুধু জয়েন্টে সীমাবদ্ধ থাকে না, আশপাশের পেশিতেও ছড়িয়ে পড়ে।
বায়ুচাপের পরিবর্তন ও ব্যথা:
শীতকালে আবহাওয়ার চাপ বা বায়ুচাপেও পরিবর্তন আসে। বায়ুচাপ কমে গেলে জয়েন্টের ভেতরের তরল ও টিস্যু কিছুটা প্রসারিত হয়। যেসব জয়েন্ট আগে থেকেই সংবেদনশীল বা ক্ষতিগ্রস্ত, সেখানে এই প্রসারণ ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। এজন্যই অনেকে আবহাওয়া পরিবর্তনের আগেই ব্যথা অনুভব করেন।
বাত ও দীর্ঘমেয়াদি জয়েন্ট সমস্যায় প্রভাব:
যারা বাত, অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা দীর্ঘদিনের জয়েন্ট সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে শীতের প্রভাব আরও বেশি হয়। এই রোগগুলোর ক্ষেত্রে জয়েন্টের কার্টিলেজ আগেই ক্ষয়প্রাপ্ত থাকে। ঠান্ডা পরিবেশে এই ক্ষয় আরও স্পষ্টভাবে ব্যথা হিসেবে ধরা দেয়।
শীতকালে ব্যথা বাড়ার কারণে অনেকেই চলাফেরা কমিয়ে দেন। কিন্তু এতে উল্টো সমস্যা বাড়ে, কারণ নড়াচড়া কম হলে জয়েন্ট আরও শক্ত হয়ে যায়।
কম নড়াচড়া ও জয়েন্টের জড়তা:
শীতকালে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই কম চলাফেরা করে। ঠান্ডা আবহাওয়া, কুয়াশা বা আলস্য সব মিলিয়ে শরীর কম সক্রিয় থাকে। দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শুয়ে থাকার ফলে জয়েন্টে জড়তা বাড়ে। নড়াচড়া কম হলে সিনোভিয়াল ফ্লুইড ঠিকভাবে সঞ্চালিত হয় না। এতে জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায় এবং হঠাৎ নড়াচড়ায় ব্যথা অনুভূত হয়।
বয়স ও ঠান্ডার সম্পর্ক:
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জয়েন্টের কার্টিলেজ পাতলা হয়, তরল কমে এবং নমনীয়তা হ্রাস পায়। তাই বয়স্কদের ক্ষেত্রে শীতকালের জয়েন্ট পেইন বেশি দেখা যায়। এটি শুধু বয়সের দোষ না, বয়সের সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও কিছুটা দুর্বল হয়, যা ঠান্ডার প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
মানসিক অবস্থার প্রভাব:
শীতকাল অনেকের জন্য মানসিকভাবে ক্লান্তিকর। দিনের আলো কমে যাওয়া, একঘেয়েমি ও বিষণ্নতা ব্যথার অনুভূতিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। মানসিক চাপ ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে একই ব্যথা শীতে বেশি তীব্র মনে হয়। এখানে শরীর ও মনের সংযোগটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যথা শুধু শারীরিক অনুভূতি নয়, এটি মানসিক অবস্থার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
শীত মানেই স্থায়ী ব্যথা নয়:
একটি ভুল ধারণা রয়েছে আমাদের মধ্যে, তা হলো শীতে জয়েন্ট পেইন মানেই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। বাস্তবে এটি অনেক ক্ষেত্রেই সাময়িক। তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে বা শরীর উষ্ণ থাকলে ব্যথা অনেকটাই কমে আসে। এর মানে সমস্যাকে উপেক্ষা করা উচিত,তা কিন্তু নয়। বরং শীতকালের এই সংকেতকে গুরুত্ব দিয়ে শরীরের যত্ন নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
নিয়ন্ত্রণ টিপস:
আবহাওয়া তো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো না, কিন্তু ঠান্ডার সময়গুলোতে জয়েন্টগুলিকে রক্ষা করতে এবং ব্যথা কমাতে পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। কিছু কার্যকর টিপস হলো:
১. নিজেকে উষ্ণ রাখুন! ঠান্ডা থেকে জয়েন্টগুলিকে রক্ষা করার জন্য গ্লাভস এবং মোজা সহ গরম পোশাক পরিধান করুন। হিটিং প্যাড ব্যবহার কর যেতে পারে। ব্যথাযুক্ত জয়েন্টগুলোর শক্ত হয়ে যাওয়া উপশম করতে, রক্ত প্রবাহ উন্নত করতে একটি উষ্ণ কম্প্রেস লাগান।
২। সক্রিয় থাকার চেষ্টা করুন! জয়েন্টের গতিশীলতা বজায় রাখতে শক্ত হয়ে যাওয়া কমাতে হাঁটা, সাঁতার কাটা বা যোগব্যায়ামের মতো একটু কম প্রভাবশালী ব্যায়াম করুন।প্রতিদিন স্ট্রেচ করুন। মৃদু স্ট্রেচিং নমনীয়তা উন্নত করতে এবং জয়েন্টগুলির চারপাশে টানটান ভাব দূর করতে সাহায্য করতে পারে।
৩। কিছু খাবার জয়েন্টের স্বাস্থ্যের জন্য সাহায্য করতে পারে।যেমন- স্যামন এবং তিসির বীজের মতো মাছে পাওয়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।আবার কমলালেবু, পালং শাক এবং বেরির মতো ফল এবং সবজিও প্রদাহ কমাতে পারে।
কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহন করুন। এটি জয়েন্টের স্বাস্থ্যকে সমর্থন করতে পারে। চিনিযুক্ত এবং ভাজা খাবার খাওয়া কমিয়ে দিন, যা প্রদাহের কারণ হতে পারে।
৪। হাইড্রেটেড থাকুন। শীতকালেও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। হাইড্রেশন জয়েন্টের তৈলাক্তকরণ বজায় রাখতে সাহায্য করে, শক্ত হওয়া এবং ব্যথা কমায়।
৫। স্ট্রেস পরিচালনা করুন। মানসিক চাপ শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি করে জয়েন্টের ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। আপনার মানসিক চাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, ধ্যান বা মৃদু যোগব্যায়ামের মতো শিথিলকরণ কৌশল অনুশীলন করুন।
৬। একটি স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।অতিরিক্ত ওজন হাঁটু এবং নিতম্বের মতো ওজন বহনকারী জয়েন্টগুলিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ করে, আপনি আপনার জয়েন্টগুলিতে চাপ কমাতে পারেন এবং গতিশীলতা উন্নত করতে পারেন।
৭। গ্লুকোসামিন, কনড্রয়েটিন, অথবা ভিটামিন ডি-এর মতো কিছু সাপ্লিমেন্ট জয়েন্টের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে যেকোনো সাপ্লিমেন্ট শুরুর আগে সেগুলো আপনার জন্য সঠিক তা সেটা একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিশ্চিত করুন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
যদি জয়েন্ট অতিরিক্ত ফুলে যায়, লাল হয়ে যায় বা ব্যথার কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা ও ঘুম ব্যাহত হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শীতকালে জয়েন্ট পেইন বাড়ার কারণ জানা থাকলে মানুষ নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারে। নিয়মিত হালকা নড়াচড়া, শরীর উষ্ণ রাখা এবং দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে না থাকা এসব বিষয় ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। জয়েন্টের ব্যথা উপেক্ষা করলে তা ধীরে ধীরে চলাফেরার স্বাধীনতা কমিয়ে দিতে পারে। সচেতনতা এখানেই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।