ডায়রিয়ায় কী ওষুধ খাবেন?

ডায়রিয়ায় কী ওষুধ খাবেন?
ছবির ক্যাপশান, ডায়রিয়ায় কী ওষুধ খাবেন?

ডায়রিয়ার চিকিৎসায় প্রধান লক্ষ্য হলো শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়া পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণ করা। এর জন্য প্রাথমিক ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হলো খাবার স্যালাইন (ORS)। ডায়রিয়ায় ব্যবহৃত সাধারণ ওষুধ ও পদক্ষেপগুলো নিচে দেওয়া হলো

ডায়রিয়া হলে প্রধান চিকিৎসা হলো পানিশূন্যতা রোধ করা, যার জন্য খাবার স্যালাইন (ORS) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শরীর ঠিক রাখতে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর স্যালাইন এবং প্রচুর তরল পান করুন। সাধারণত জিংক ট্যাবলেট, প্রোবায়োটিক, এবং প্রয়োজনে লোপেরামাইড (Loperamide) জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে রক্ত আমাশয় বা জ্বর থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে।

ডায়রিয়ায় ব্যবহৃত সাধারণ ওষুধ ও পদক্ষেপগুলো নিচে দেওয়া হলো

১. জরুরি পানীয় ও খাবার

  • খাবার স্যালাইন: ডায়রিয়া শুরু হলে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর নিয়ম অনুযায়ী খাবার স্যালাইন পান করতে হবে।

  • অন্যান্য তরল: ডাবের পানি, ভাতের মাড়, চিড়ার পানি বা সাধারণ বিশুদ্ধ পানি প্রচুর পরিমাণে পান করা জরুরি।

  • জিঙ্ক (Zinc): শিশুদের ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা ১০ থেকে ১৪ দিন মেয়াদে জিঙ্ক সিরাপ বা ট্যাবলেট সেবনের পরামর্শ দেন, যা ডায়রিয়ার স্থায়িত্ব ও তীব্রতা কমায়।

২. ডায়রিয়া নিরোধক ওষুধ (চিকিৎসকের পরামর্শে) 

ডায়রিয়া দ্রুত বন্ধ করতে কিছু 'ওভার দ্য কাউন্টার' (OTC) ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তবে এগুলো নিজে থেকে ব্যবহারের আগে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত: 

  • লোপেরামাইড (Loperamide): এটি অন্ত্রের গতি কমিয়ে পায়খানা বন্ধ করতে সাহায্য করে। সাধারণ ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে ইমোটিল বা লোপা।

  • বিসমাথ সাবসালিসিলেট (Bismuth subsalicylate): এটিও ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।

৩. অ্যান্টিবায়োটিক

সাধারণ ডায়রিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। তবে যদি ডায়রিয়া কোনো নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের কারণে হয়, তবে চিকিৎসকরা সিপ্রোফ্লক্সাসিন, মেট্রোনিডাজল বা অ্যাজিথ্রোমাইসিন জাতীয় ওষুধ দিতে পারেন।

৪. কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দ্রুত আইসিডিডিআর,বি (icddr,b) বা নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন:

  • মলের সাথে রক্ত দেখা দিলে।

  • প্রচণ্ড জ্বর বা পেটে অসহ্য ব্যথা হলে।

  • শরীর খুব বেশি দুর্বল হয়ে পড়লে বা চোখ বসে গেলে।

  • শিশু কিছু পান করতে না পারলে বা ক্রমাগত বমি করলে।

সতর্কতা:

১. দুই দিনের বেশি ডায়রিয়া থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন [৭]।
২. বাচ্চার ডায়রিয়া হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জিংক এবং স্যালাইন দিন [১৪]।
৩. তীব্র পানিশূন্যতা বা জ্বরের ক্ষেত্রে অবিলম্বে হসপিটালে যেতে হবে [৬]। 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ডায়রিয়া হলে অ্যান্টিবায়োটিক বা যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

সূত্র: আইসিডিডিআর,বি (icddr,b)


সম্পর্কিত নিউজ