{{ news.section.title }}
ভুঁড়ির কারণে পুরুষদের হতে পারে যেসব মারাত্মক রোগ
বর্তমান সময়ে পুরুষদের মধ্যে পেটের মেদ বা ভুঁড়ির সমস্যা একটি নীরব স্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। একসময় মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের মধ্যেই এ সমস্যা বেশি দেখা গেলেও এখন ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যেও ভুঁড়ি ও অতিরিক্ত ওজনের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এটি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়; বরং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার, কিডনি জটিলতা এবং বিভিন্ন বিপাকীয় রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অতিরিক্ত চর্বি জমে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করলে তাকে স্থূলতা বলা হয়। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী স্থূলতা একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল-উভয় ধরনের দেশেই এ সমস্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি এ প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
ভুঁড়ি আসলে কী? কেন এটি সাধারণ চর্বির চেয়ে বেশি বিপজ্জনক?
সব ধরনের চর্বি এক রকম নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে পেটের ভেতরে বিভিন্ন অঙ্গের চারপাশে জমে থাকা চর্বিকে ‘ভিসারাল ফ্যাট’ বলা হয়। এই চর্বি লিভার, অন্ত্র, অগ্ন্যাশয় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের চারপাশে জমা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ভিসারাল ফ্যাটই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
ত্বকের নিচে থাকা সাধারণ চর্বির তুলনায় ভিসারাল ফ্যাট শরীরে বিভিন্ন হরমোন ও প্রদাহজনিত রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে। এর ফলে ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে পারে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই চর্বি দীর্ঘদিন অজান্তেই শরীরে জমতে থাকে এবং রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই ক্ষতি করতে শুরু করে।
শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা নয়
অনেকেই মনে করেন ভুঁড়ি মানেই পোশাকে অস্বস্তি বা সৌন্দর্যহানি। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, পেটের মেদ শরীরের সবচেয়ে বিপজ্জনক চর্বিগুলোর একটি। এর সঙ্গে হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, মেটাবলিক সিনড্রোম, স্লিপ অ্যাপনিয়া, কিছু ধরনের ক্যান্সার এবং কিডনি জটিলতার সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যাদের পেটের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমে, তাদের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। এই প্রদাহ পরবর্তীতে নানা জটিল রোগের ভিত্তি তৈরি করে। ফলে ওজন স্বাভাবিক মনে হলেও যদি কোমরের চারপাশে অতিরিক্ত মেদ জমে থাকে, তাহলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস: ভুঁড়ির সবচেয়ে বড় কারিগর
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রধান খাদ্যতালিকায় ভাত, রুটি ও অন্যান্য শর্করাজাতীয় খাবারের আধিক্য রয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি ও আঁশজাতীয় খাবারের ঘাটতি দেখা যায়। এর ফলে শরীর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করে ফেললেও পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না।
যখন শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়, তখন অতিরিক্ত শক্তি চর্বি হিসেবে জমা হতে থাকে। নিয়মিত অতিরিক্ত ভাত, মিষ্টি, কোমল পানীয়, ফাস্টফুড, বেকারি পণ্য এবং চিনি-সমৃদ্ধ খাবার খেলে পেটের মেদ দ্রুত বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল, দুধ, দই, পনির এবং অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখা জরুরি।
অনেক মানুষ দিনে তিনবেলা খাবারের পাশাপাশি কয়েকবার চা, বিস্কুট, চানাচুর, কোমল পানীয়, কেক, চকলেট কিংবা মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণ করেন। এসব খাবারে থাকা অতিরিক্ত ক্যালোরি ধীরে ধীরে শরীরে জমা হয়ে ভুঁড়ি তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে।
চিনি ও কোমল পানীয় কেন বেশি ক্ষতিকর?
অতিরিক্ত চিনি, বিশেষ করে মিষ্টি পানীয় এবং কোমল পানীয় থেকে পাওয়া ক্যালোরি খুব দ্রুত শরীরে প্রবেশ করে। এসব পানীয় অনেক সময় ক্ষুধা কমায় না, ফলে মানুষ অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করেও বুঝতে পারে না। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কোমল পানীয় পানকারীদের মধ্যে পেটের মেদ এবং স্থূলতার হার তুলনামূলক বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রতিদিন কয়েক গ্লাস মিষ্টি চা, সফট ড্রিংক বা প্যাকেটজাত জুস পান করেন। এসব পানীয় দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি এবং ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা: আধুনিক জীবনের বড় বিপদ
বর্তমান সময়ে অধিকাংশ চাকরিজীবী পুরুষ দিনের বড় অংশ ডেস্কে বসে কাটান। অফিস, যানজট, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার এবং টেলিভিশননির্ভর জীবনধারা মানুষের দৈহিক কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছে। অনেকেই সকালে অফিসে যান, দিনের বেশিরভাগ সময় বসে কাজ করেন এবং বাসায় ফিরেও টেলিভিশন বা স্মার্টফোনের সামনে সময় কাটান।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং শারীরিক কার্যক্রমের অভাব পেটের মেদ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। শরীর যখন কম নড়ে, তখন ক্যালোরি খরচও কম হয়। ফলে অতিরিক্ত শক্তি ধীরে ধীরে পেটের চারপাশে চর্বি হিসেবে জমা হতে থাকে।
ব্যায়াম না করলে কী হয়?
অনেকেই মনে করেন, শুধু কম খেলে ওজন কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম ছাড়া পেটের মেদ কমানো কঠিন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাঁটা, দৌড়, সাইক্লিং, সাঁতার এবং শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ভিসারাল ফ্যাট কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক ব্যায়াম করা উচিত। এর পাশাপাশি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন পেশিশক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়। নিয়মিত শরীরচর্চা শুধু ওজন কমায় না, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যও উন্নত করে।
দেরিতে রাতের খাবার খাওয়ার ক্ষতি
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে রাতের খাবার দেরিতে খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অনেকে রাত ১০টা কিংবা ১১টার পর খাবার খান এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন। এতে শরীর খাবার থেকে পাওয়া শক্তি ব্যবহারের পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার যতটা সম্ভব সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে শেষ করা ভালো। এতে হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি চর্বি হিসেবে জমার সম্ভাবনা কমে যায়।
ঘুম কম হলে কেন ভুঁড়ি বাড়ে?
ঘুমের সঙ্গে ওজনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। প্রতিদিন সাত ঘণ্টার কম ঘুম হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর ফলে মানুষ বেশি ক্ষুধা অনুভব করে এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার গ্রহণ করতে শুরু করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে এবং পেটের মেদ বাড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসকরা সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেন।
মানসিক চাপও বাড়াতে পারে পেটের মেদ
কর্মক্ষেত্রের চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ শরীরে কর্টিসল নামক হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এই হরমোন দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ক্ষুধা বাড়ে এবং মানুষ বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়।গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস একসঙ্গে কাজ করলে পেটের ভেতরের ভিসারাল ফ্যাট দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে শুধু খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, মানসিক সুস্থতার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে কেন ভুঁড়ি বাড়ে?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিপাকীয় হার ধীরে ধীরে কমে যায়। একইসঙ্গে পেশির পরিমাণ কমতে শুরু করে এবং শরীরে চর্বির পরিমাণ বাড়তে থাকে। ফলে আগের মতো একই পরিমাণ খাবার খেলেও ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ বছরের পর থেকে নিয়মিত শরীরচর্চা এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ এ সময় থেকেই অনেকের শরীরে ধীরে ধীরে ভুঁড়ি জমতে শুরু করে।
জিনগত কারণও কি দায়ী?
সব মানুষের শরীর একইভাবে চর্বি জমা করে না। কারও কারও ক্ষেত্রে জিনগত কারণে পেটের চারপাশে বেশি চর্বি জমার প্রবণতা দেখা যায়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, বংশগত কারণ থাকলেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
কোমরের মাপ কত হলে সতর্ক হবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের কোমরের মাপ ৪০ ইঞ্চি বা তার বেশি হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। শুধু ওজন মাপার পরিবর্তে নিয়মিত কোমরের মাপ পর্যবেক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সময় ওজন খুব বেশি না হলেও কোমরের চারপাশে অতিরিক্ত মেদ জমে থাকতে পারে।
ধূমপান ও অ্যালকোহলের প্রভাব
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ পেটের ভেতরের চর্বি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে ধূমপান শরীরের বিপাকীয় ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ফলে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখতে ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
যেভাবে কমাবেন পেটের মেদ
চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত ওজন কমানোর শর্টকাট পদ্ধতির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর জীবনধারাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখতে হবে, ভাত ও পরিশোধিত শর্করা নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খেতে হবে এবং প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি এবং জাঙ্ক ফুড যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।
একইসঙ্গে প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার পদক্ষেপ হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সপ্তাহে নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে এবং শক্তিবর্ধক ব্যায়ামও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান, সময়মতো ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভুঁড়ি কমলে শরীরে কী পরিবর্তন আসে?
গবেষণায় দেখা গেছে, পেটের ভিসারাল ফ্যাট কমতে শুরু করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত হয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সামগ্রিক বিপাকীয় কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে শুরু করে।
পাশাপাশি শরীর আরও কর্মক্ষম হয়, ক্লান্তি কমে, ঘুমের মান উন্নত হয় এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে পেটের মেদ কমানো শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসকরা বলছেন, ভুঁড়ি কোনো সাধারণ সৌন্দর্যগত সমস্যা নয়। এটি শরীরের ভেতরে চলমান নানা জটিল রোগের প্রাথমিক সতর্কসংকেত হতে পারে। তাই শুধু ওজন নয়, কোমরের মাপ, খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, মানসিক স্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রমের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সচেতন জীবনযাপনের মাধ্যমে অধিকাংশ মানুষই পেটের মেদ কমাতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যত দ্রুত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, ভবিষ্যতে গুরুতর রোগের ঝুঁকি তত বেশি কমানো সম্ভব।